ঘুমের মধ্যেই ঠাস ঠাস গুলির শব্দ, দরজায় আঁকা লাল রঙের সাতটা দাগ, হোয়াটসঅ্যাপে দুই শব্দের হুমকি, “ওয়েট অ্যান্ড সি”। এসবই এখন চট্টগ্রামের রোজকার বাস্তবতা। পুলিশ পাহারায় থাকা বাড়িতেও সন্ত্রাসীরা ঢুকে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করে হেঁটে বেরিয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন শুধু তাঁকিয়ে তাঁকিয়ে দেখছি।
‘২৪ এর জুলাই দাঙ্গার পর থেকে শহরে চল্লিশের বেশি গোলাগুলি, একশো পঁচিশটা খুনের মামলা, আটষট্টিটা চাঁদাবাজির মামলা, তারপরও ব্যবসায়ীদের রাস্তায় নেমে মিছিল করতে হচ্ছে, কারণ থানায় গিয়ে লাভ হচ্ছে না।
আরও তিক্ত সত্যি হলো, এই বাহিনীগুলোর মাঠপর্যায়ের বেশ কিছু নাম একসময়কার ছাত্রদলের চেনা মুখ। কেউ বাকলিয়া থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক, কেউ নগর ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক। ক্ষমতার হাওয়া বদলাতেই এই একই মুখগুলো জামিনে বেরিয়ে অস্ত্র হাতে নতুন বাহিনী খুলে বসেছে, চাঁদা তুলছে, গুলি করছে। দল যেন এসব দেখেও দেখছে না।
ক্ষমতায় বসার প্রথম কয়েক মাসেই যদি নিজেদের চেনা লোকদের অস্ত্রবাজি থামানো না যায়, জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এটা কি ২০০১-০৬ সালের বিএনপি সেই পুরোনো সন্ত্রাসের রাজনীতির চেনা প্যাটার্নই কি আবার ফিরিয়ে আনছে না?

