নিজের পেটের সন্তানের সামনে ধর্ষণের শিকার শ্রীপুরের এই মা যেদিন রাস্তায় গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিলেন, প্রায় সেই সময়টাতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাতিকে জানাচ্ছিলেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সরকারের বড় প্রাপ্তি!
বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনেই সংসদে দাঁড়িয়ে জানানো হয়েছে, এই সময়ে ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৭৮ থেকে ১০২টি ধর্ষণ, ৩০ থেকে ৩৬টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ৪৯ থেকে ৭১টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা।
হাস্যকর ব্যাপার হলো, বিএনপির নিজের মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসও স্বীকার করেছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নারী ও শিশু ধর্ষণের হার দিন দিন বাড়ছে, যদিও একই মুখে দাবি করেছেন তার দলের আমলে ধর্ষণের সঠিক বিচার হয়েছে। এই দুটো কথা একসাথে সত্যি হতে পারে না। হয় বিচার হচ্ছে, নয়তো বিচারহীনতার সংস্কৃতি বাড়ছে। শ্রীপুরের ঘটনা বলে দিচ্ছে কোনটা সত্যি, কারণ এখানে ধর্ষণের অভিযোগের পর যা হয়েছে সেটা বিচার না, দুজন পান ব্যবসায়ীর টাকা দিয়ে বিষয়টা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা, আর ভুক্তভোগীকে চুপ থাকতে সন্তান হত্যার হুমকি। পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে শুধু তখনই, যখন একজন মা মহাসড়কে ঝাঁপ দিয়ে খবরে চলে এসেছেন। তার আগে পর্যন্ত এই ঘটনা ছিল সেই একই মীমাংসা-সংস্কৃতির আরেকটা ফাইল, যেটা কখনো থানা পর্যন্ত পৌঁছাতোই না।
আর যখনই এই ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, ক্ষমতাসীন জোটের দুই শরিকের কাজ হলো একে অপরের ঘাড়ে বা তৃতীয় কোনো পক্ষের ঘাড়ে দায় চাপানো। রিজভী বলেছেন নারীর প্রতি হেনস্তার পেছনে উগ্র গোষ্ঠীর মদদ থাকতে পারে, যেন সরকার নিজে কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নেয় না। আবার জামায়াতের আমির নিজেই বলছেন, মন্ত্রীদের দায়িত্বহীনতার কারণে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অর্থাৎ একই সরকারের দুই অংশ একে অপরকে দায়ী করছে, অথচ কেউই বলছে না, শ্রীপুরের ওই মা কেন থানায় গিয়ে বিচার পাননি, কেন টাকা দিয়ে বিষয়টা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলো।
এই জোট আগেও একবার ক্ষমতায় ছিল, ২০০১ থেকে ২০০৬। সেই সময়টাকে মানুষ এখনো মনে করে ঠিক এই কারণেই, বিচারহীনতা আর ক্ষমতার আশ্রয়ে অপরাধ পার পেয়ে যাওয়ার কালচারের জন্য। ২০২৬ সালে এসে সেই একই জোট আবার ক্ষমতায়, আর সংসদের নিজস্ব হিসাবই বলছে অপরাধ বাড়ছে, নিজেদের নেতারাই স্বীকার করছেন বিচারহীনতার কথা, আর মাঠপর্যায়ে সেই বিচারহীনতার সবচেয়ে নির্মম প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন গাজীপুরের এক গৃহহীন মা, যাকে ন্যায়বিচারের বদলে দেওয়া হয়েছে টাকার প্রস্তাব আর সন্তান হত্যার হুমকি।

