জাইমার নিয়োগ: প্রশ্ন থাকুক, রায় নয়

জাইমা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে Legal Officer হিসেবে কাজ করছেন। জাতিসংঘের প্রকাশিত তালিকাতেও তাঁর পদটি রয়েছে। তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, যুক্তরাজ্যে Bar-at-Law সম্পন্ন করেছেন এবং ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষার প্রথম ধাপ পাস করেছেন। অর্থাৎ তাঁর আইনগত শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত।

তবু প্রশ্ন উঠেছে—এবং প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। কারণ জাইমা রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা। অন্যদিকে তিনি যে দপ্তরে কাজ করছেন, তার প্রধান ড. খলিলুর রহমান—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও তাঁকে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো—এই পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিজে থেকেই স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ নয়। নিয়োগটি জাতিসংঘের প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়েছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।

তাহলে প্রশ্ন কোথায়?

প্রশ্ন হতে পারে—নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কী ছিল? পদটির যোগ্যতার মানদণ্ড কী? নির্বাচন বা মনোনয়নে কী কী ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে? অন্য যোগ্য প্রার্থীদের জন্য একই সুযোগ ছিল কি না? এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে কী ধরনের নৈতিক সুরক্ষা রাখা হয়েছে?

বিশেষ করে ভবিষ্যতের জন্য একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার। জাইমা যদি জাতিসংঘের দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের সরকার, বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ-সম্পর্কিত কোনো আন্তর্জাতিক আইনগত বা কূটনৈতিক বিষয়, অথবা তাঁর পরিবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে পেশাগত দায়িত্ব পান—তাহলে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে অন্তত স্বার্থের সংঘাতের ধারণা (appearance of conflict of interest) তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জাতিসংঘের নীতিতেই এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা রক্ষা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের (recusal) ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

তবে এটিও স্পষ্ট—সম্ভাবনা থাকা আর বাস্তবে স্বার্থের সংঘাত ঘটেছে—এক কথা নয়। তাই এখনই কোনো অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি সম্ভাব্য conflict-of-interest প্রশ্নটিকেও অপ্রাসঙ্গিক বলা ঠিক হবে না।

আর জাইমার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন আছে। জাতিসংঘ তাঁকে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির অভিজ্ঞতা দেবে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাইলে বাংলাদেশের আদালত, সংবিধান, আইনজীবীর চেম্বার এবং সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবন সম্পর্কেও তাঁকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

তাই এখনই রায় নয়—প্রশ্নের উত্তর চাই। যোগ্যতা থাকলে সেটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হোক। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অসঙ্গতি না থাকলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জানানো হোক। আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে দায়িত্ব এলে conflict of interest এড়ানোর ব্যবস্থা কী হবে—সেটিও স্পষ্ট থাকুক।

কারণ স্বচ্ছতা থাকলে প্রশ্ন ভয়ংকর নয়, প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই বরং সন্দেহ বাড়াতে পারে।

জাইমা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে Legal Officer হিসেবে কাজ করছেন। জাতিসংঘের প্রকাশিত তালিকাতেও তাঁর পদটি রয়েছে। তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, যুক্তরাজ্যে Bar-at-Law সম্পন্ন করেছেন এবং ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষার প্রথম ধাপ পাস করেছেন। অর্থাৎ তাঁর আইনগত শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত।

তবু প্রশ্ন উঠেছে—এবং প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। কারণ জাইমা রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা। অন্যদিকে তিনি যে দপ্তরে কাজ করছেন, তার প্রধান ড. খলিলুর রহমান—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও তাঁকে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো—এই পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিজে থেকেই স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ নয়। নিয়োগটি জাতিসংঘের প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়েছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।

তাহলে প্রশ্ন কোথায়?

প্রশ্ন হতে পারে—নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কী ছিল? পদটির যোগ্যতার মানদণ্ড কী? নির্বাচন বা মনোনয়নে কী কী ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে? অন্য যোগ্য প্রার্থীদের জন্য একই সুযোগ ছিল কি না? এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে কী ধরনের নৈতিক সুরক্ষা রাখা হয়েছে?

বিশেষ করে ভবিষ্যতের জন্য একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার। জাইমা যদি জাতিসংঘের দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের সরকার, বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ-সম্পর্কিত কোনো আন্তর্জাতিক আইনগত বা কূটনৈতিক বিষয়, অথবা তাঁর পরিবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে পেশাগত দায়িত্ব পান—তাহলে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে অন্তত স্বার্থের সংঘাতের ধারণা (appearance of conflict of interest) তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জাতিসংঘের নীতিতেই এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা রক্ষা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের (recusal) ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

তবে এটিও স্পষ্ট—সম্ভাবনা থাকা আর বাস্তবে স্বার্থের সংঘাত ঘটেছে—এক কথা নয়। তাই এখনই কোনো অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি সম্ভাব্য conflict-of-interest প্রশ্নটিকেও অপ্রাসঙ্গিক বলা ঠিক হবে না।

আর জাইমার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন আছে। জাতিসংঘ তাঁকে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির অভিজ্ঞতা দেবে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাইলে বাংলাদেশের আদালত, সংবিধান, আইনজীবীর চেম্বার এবং সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবন সম্পর্কেও তাঁকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

তাই এখনই রায় নয়—প্রশ্নের উত্তর চাই। যোগ্যতা থাকলে সেটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হোক। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অসঙ্গতি না থাকলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জানানো হোক। আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে দায়িত্ব এলে conflict of interest এড়ানোর ব্যবস্থা কী হবে—সেটিও স্পষ্ট থাকুক।

কারণ স্বচ্ছতা থাকলে প্রশ্ন ভয়ংকর নয়, প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই বরং সন্দেহ বাড়াতে পারে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ