গত কয়েকদিনে ঢাকার মানুষ যা দেখেছে, সেটা এক জায়গায় জড়ো করলে গা শিউরে ওঠে! শুক্রবার জুমার পর ফার্মগেটের একটি মসজিদ থেকে ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্চিত করছে, তারা ইসলামিক জঙ্গিবাদী তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করছিল। সেদিনই শহরের নানা জায়গায় ককটেল ফাটল, যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগল।
পরদিন শনিবার মিরপুর আর মধ্য বাড্ডায় তিনটি বাস পুড়ল, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পুড়ল একটি পিকআপ। রোববারও কয়েকটি এলাকা থেকে ককটেল বিস্ফোরণের খবর এসেছে। এর আগে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতা বোমা, আশুলিয়ায় পরিত্যক্ত ব্যাগে প্রেশারকুকার বোমা, সাভারে সমাবেশে বিস্ফোরণ, ভাড়া বাসা থেকে পাইপ বোমা আর রাসায়নিক উদ্ধার, বরিশাল আদালত চত্বরে বোমা। এতগুলো ঘটনা এত অল্প সময়ে ঘটলে সেটাকে কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আটক ব্যক্তিদের ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণে “ইত্তেহাদুল উম্মাহ” নামে একটি সংগঠন গড়ার পরিকল্পনার তথ্য মিলেছে, খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তিনি আরও বলেছেন, ইসলামি উগ্রবাদে সরকারের জিরো টলারেন্স। কিন্তু একই ব্রিফিংয়ে তিনি মেনে নিয়েছেন, ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অভিভাবক আর স্থানীয় গণ্যমান্যদের জিম্মায়। প্রায় অর্ধেক মানুষকে মসজিদ থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে পরে বলা হচ্ছে প্রমাণ নেই। বাকি ১২ জন এখন সিটিটিসির হেফাজতে। সেই সিটিটিসির প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল, তিনি ফোনই ধরেননি। মানুষ তাহলে ভরসা করবে কার কথায়?
জিরো টলারেন্সের ঘোষণা আর বাস্তবতার মধ্যে ফারাকটা এখানেই স্পষ্ট। সাভারের ঘটনায় নিষিদ্ধ জেএমবির সংশ্লিষ্টতার আলামত পাওয়ার কথা খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে। ভুয়া পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেওয়া সবাইকে এখনও ধরা যায়নি। একজন গ্রেফতার হয়েছে, আরেকজনকে খুঁজছে সিটিটিসি। মানে যারা বোমা বানানোর সরঞ্জাম নিয়ে ঘর ভাড়া নিয়েছিল, তাদের একটা অংশ এখনও বাইরে ঘুরছে। জিরো টলারেন্সের এই চেহারা দেখে কেউ আশ্বস্ত হবে না।
সবাই তাই বারবার একটা পুরোনো ছবির কথা তুলছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমল। যারা সেই সময় দেখেছেন, তাদের মনে আছে জঙ্গিবাদ কীভাবে ডালপালা মেলেছিল। শুরুতে অস্বীকার, তারপর ২০০৫ সালের আগস্টে একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণ। তখনও নিরাপত্তার নামে বড় বড় কথা হতো, মাঠে ছিল উদাসীনতা আর রাজনৈতিক হিসাব-নিকেশ। এখন সেই বিএনপি ক্ষমতায়, আর সংসদে ক্ষমতার ভাগ বসিয়েছে সেই জামায়াতে ইসলামী।

