প্রতিমা পাওয়া গেল ধান ক্ষেতে, দান বাক্স ভাঙা পড়ে আছে মন্দিরের মেঝেতে, আর গল্পটা যেন ২০ বছর আগের ক্যালেন্ডার থেকে সরাসরি, টাটকা টাটকা তুলে আনা। বগুড়ার নন্দীগ্রামে একটা কালীমন্দিরে ঢুকে কেউ প্রতিমা তুলে ফেলে দিয়েছে পাশের ডোবায়, দান বাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে গেছে, নিয়ে গেছে কাসার ঘণ্টা, ত্রিশূল, পূজার সরঞ্জাম।
পুরোহিত সকালে এসে দেখেন সারা জীবনের সাধনার জায়গাটা লণ্ডভণ্ড। এই দৃশ্য নতুন কিছু না। ২০০১ থেকে ২০০৬, বিএনপি-জামায়াত জোট যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এই দেশের সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, মন্দির, ব্যবসাপাতি পুড়ত নিয়মিত, আর প্রশাসন থাকত নীরব দর্শক হয়ে। এখন ২০২৬ সালে সেই একই বিএনপি ক্ষমতায়, সংসদে জামায়াত বসে আছে রেকর্ড সংখ্যক আসন নিয়ে, আর ফলাফলটাও হুবহু আগের মতো।
মন্দিরে হামলা হচ্ছে, থানায় অভিযোগ জমা পড়ছে, ওসি বলছেন তদন্ত হবে, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বাক্যগুলো এত পরিচিত যে এখন আর কারও কানে বাজে না। প্রতিমা ধান ক্ষেতে পড়ে থাকা, ডোবা থেকে দেবতা উদ্ধার করা এসব যখন মাসে মাসে খবরের পাতায় আসে, তখন বোঝা যায় এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, এটা একটা সুনির্দিষ্ট ধাঁচ।
আর এই ধাঁচটা ঠিক তখনই ফিরে আসে, যখন ক্ষমতার চেয়ারে বসে বিএনপি আর জামায়াত। সংখ্যালঘুদের জন্য এই দেশে টিকে থাকাটাই এখন একটা রোজকার লড়াই, আর মন্দির ভাঙার খবর রুটিন হয়ে যাওয়াটাই বলে দেয়, ক্ষমতার প্রশ্রয়ে দেশটা আসলে কোন দিকে হাঁটছে।

