সেন্ট মার্টিনের বুক চিরে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল শত বছরের কেয়াবন, সেখানে এখন শুধু পোড়া কঙ্কাল আর সমুদ্রের খোলা হাওয়া। রাতের অন্ধকারে কারা জ্বালিয়ে দিচ্ছে এই প্রাকৃতিক ঢাল? স্থানীয়দের মুখে একটাই কথা, হোটেল-রিসোর্ট থেকে সমুদ্র দেখা যায় না বলেই পোড়ানো হচ্ছে কেয়াবন। অথচ সরকারের ৯ কোটি টাকার প্রকল্পে দিনে চারা লাগানো হয়, রাতে সেই বনই পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই ধ্বংসযজ্ঞের দিনে বিএনপি-জামাত সরকার যেন চোখ বন্ধ করে বসে আছে। মনে পড়ে যায় ২০০১-০৬ সালের কথা, যখন ক্ষমতার দাপটে পরিবেশ ধ্বংস আর দখলদারিত্ব ছিল নৈমিত্তিক ব্যাপার। ২০২৬ সালে আবার সেই একই চিত্র, শুধু পর্দার আড়ালে। আইন আছে, ইসিএ আছে, পরিবেশ অধিদপ্তর আছে, কিন্তু কেয়াবন বাঁচানোর কেউ নেই।
জনবল নেই, নৌযান নেই, শুধু পর্যটন মৌসুম এলে অভিযানের প্রতিশ্রুতি। পুলিশ বলে, মামলা করলে ব্যবস্থা নেব। কিন্তু রাতের অন্ধকারে আগুন যারা জ্বালায়, তারা জানে কেউ ধরবে না। ৯০ লাখ টাকার প্রকল্প আর ৯ বর্গকিলোমিটারের দ্বীপ, দুই-ই ডুবে যাচ্ছে একই অসহায়ত্বে।

