চিনির কেজি তিন দিনে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা। আটা এক লাফে ১০ টাকা বেড়ে ৬৫। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯২ টাকায়। ডিমের ডজন ১৫০, ব্রয়লার ২০০। মাঝখানে ব্যবসায়ীরা বলছেন চিনির বস্তায় এক দিনে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা বাড়িয়েছেন ডিলাররা। এই ডিলারদের লাগাম কে ধরবে?
প্রশাসন বলছে বাজার মনিটরিং চলছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। প্যাকেটে ওজন কমিয়ে দাম ঠিক রাখার পুরনো কৌশল আবার চালু হয়েছে। ইউনিলিভারের সাবান ৩০০ গ্রাম থেকে কমে ২৭৫, প্যারাসুট তেল ২০০ গ্রাম থেকে কমে ১৯০, দাম বেড়েছে ২০ টাকা। ডিটারজেন্ট, বিস্কুট, গুঁড়া দুধ সবখানেই এক খেলা। এটা কোনো বাজার নয়, এটা ভোক্তার পকেট কাটার উৎসব।
বিএনপি-জামাত গং ক্ষমতা দখলের পর পরই দেখা যাচ্ছে তাদের ট্রেডমার্ক পুরনো রোগই আবার বহাল হয়েছে। ২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনও চাল-ডাল-তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষ নাভিশ্বাস উঠেছিল। সে সময়ের বিখ্যাত দুর্নীতি আর সিন্ডিকেটের সংস্কৃতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের আঁতাত না থাকলে এক দিনে চিনির বস্তায় হাজার টাকা বাড়ানো সম্ভব হয় কী করে?
অথচ কৃষক পাচ্ছে না দাম। মধ্যস্বত্বভোগীরা ফুলছে। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বসে আছে চাঁদাবাজ আর কমিশন এজেন্টের দল। সরকার জানে কারা এই সিন্ডিকেট চালায়, জানে কোথায় কার্টেল বসে। কিন্তু ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কারণ এই ব্যবসায়ী মহলের একটা বড় অংশ সরকারের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ। তাদের বিরুদ্ধে গেলে ক্ষমতা টিকবে না, পার্টির ফান্ড আসবে না। এই দ্বন্দ্বেই সাধারণ মানুষ জিম্মি।
সবচেয়ে বড় আঘাতটা পড়েছে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তের ঘাড়ে। যাদের বেতন বাড়েনি, তাদের বাজার খরচ বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। একই আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে তারা কম কিনছে, নিম্নমানের পণ্যে ভরসা করছে। শিশুদের দুধ, ডিম, মাংস কমিয়ে দিচ্ছে। এটা নীরব মানবিক বিপর্যয়। অথচ সংসদে বাজারের দাম নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, মন্ত্রীদের কোনো জবাবদিহি নেই।
ক্যাব সভাপতি বলেছেন দরিদ্র মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। র্যাপিডের গবেষকরা বলছেন ২০-২৫টি অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য আলাদা মূল্যস্ফীতি সূচক দরকার। কিন্তু এই সরকার কি শুনবে? জেলা পর্যায়ের বাজার তদারকি কমিটি গঠন আছে বটে, কিন্তু সেগুলো কাগজেই বন্দি। বছরভর যে তেলের দাম নির্ধারণ হয়, তা কোনোদিন বাজারে কার্যকর হয়নি। এবারও হলো না। এই ব্যর্থতার দায় কে নেবে? নাকি আবারও জনগণই বিল মেটাবে?
সিন্ডিকেট দমনে দরকার রাজনৈতিক সাহস। কিন্তু বিএনপি-জামাতের অতীত প্রমাণ করে, তারা কখনো সাধারণ মানুষের পক্ষে ব্যবসায়ী স্বার্থে আঘাত করেনি। বরং তাদের শাসনামলেই সিন্ডিকেট আর মধ্যস্বত্বভোগীরা সবচেয়ে মোটা হয়েছে। ২০০১-০৬ সালের মতো এবারও বাজার দেখিয়ে দিচ্ছে কারা আসলে এই সরকারের আসল মালিক। জনগণ ভুলে যায়নি, প্রতারণার রাজনীতির এই চক্র আবারও একই পথে হাঁটছে।

