২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর: দণ্ডিতরা মুক্ত, ভুক্তভোগীরা পলাতক

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পূর্ণ হলো আজ। অথচ এই ২২ বছর পর এসে বাংলাদেশ দেখল এক অদ্ভুত বিচারিক উল্টোপুরাণ। যে মামলার রায়ে একদা ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন, সেই মামলাতেই আপিলের শেষ ধাপে সব আসামি খালাস। লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু থেকে শুরু করে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত সবাই এখন আইনগতভাবে নির্দোষ। অথচ ২০০৪ সালের সেই বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২৪টি প্রাণ ঝরে গেছে, শতাধিক মানুষের শরীরে ঢুকে গেছে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার, আর সেই ক্ষত আজও তাদের পোড়াচ্ছে।

বিচারহীনতার এই মহোৎসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা এক রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হয়েছে, সেখানে পুরনো মামলার রায় উলটে দেওয়া হয়েছে শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থেই। যে বিএনপি-জামায়াত জোট আজ ক্ষমতার কেন্দ্রে, তারাই ছিল ২০০৪ সালের হামলার প্রধান অভিযুক্ত পক্ষ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দিয়ে খালাসের রায় বহাল রাখে। তার মানে দাঁড়ায়, এই রাষ্ট্রব্যবস্থার সর্বোচ্চ আদালতও মেনে নিয়েছে যে ২৪টি হত্যার জন্য কেউ দায়ী নয়। এটা শুধু আইনি ব্যর্থতা নয়, এটা নৈতিক দেউলিয়াপনা।

হামলার শিকার মানুষগুলো আজ দ্বিমুখী আতঙ্কে বাঁচছে। একদিকে ২২ বছর আগের শারীরিক ক্ষত, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা, বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ। যারা ২০০৪ সালে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিল, তারা আজ আত্মগোপনে। কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ পরিচয় গোপন করে শ্রমিকের কাজ করছেন। আহত এক নারীর কথাটাই যথেষ্ট, “মরে গেলে বোধহয় ভালো ছিল।” যে রাষ্ট্র ২৪টি হত্যার বিচার দিতে পারেনি, সেই রাষ্ট্রই আবার ভুক্তভোগীদের হয়রানির ব্যবস্থা করেছে।

বিএনপি-জামায়াতের শাসনামল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের অভিজ্ঞতা ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিক্ততম অধ্যায়। বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, ধর্মীয় উগ্রবাদ, রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার এই সময়েরই চিহ্ন। ২০২৬ সালের আগস্টে দাঁড়িয়ে সেই একই চক্র আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে। পার্থক্য শুধু একটাই, তখন তারা অপরাধ করত, এখন তারা অপরাধের বিচারও মুছে দিতে পারছে। যারা ২০০৪ সালে হামলা চালিয়েছিল, তারা আজ আইনগত আশীর্বাদ নিয়ে রাজনীতি করছে। ভুক্তভোগীদের প্রতি এটাই সবচেয়ে বড় উপহাস।

অথচ এই বিচারহীনতা শুধু ২১ আগস্টের ভুক্তভোগীদের একার নয়। এটা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সতর্কবার্তা। যে দেশে ২৪টি হত্যার মামলার সব আসামি খালাস পেয়ে ক্ষমতার মসনদে বসতে পারে, সেখানে আইনের শাসন বলে কিছু থাকে না। থেকে যায় শুধু ক্ষমতার দাপট, রাজনৈতিক প্রতিশোধ আর ভুক্তভোগীদের নীরব কান্না। ২২ বছর পরেও এই প্রশ্নটা রয়ে গেছে যে, এই হামলার দায় কেউ নেবে কি না। উত্তরটা এখন স্পষ্ট, যারা দায় নেওয়ার কথা ছিল, তারা নিজেরাই আজ দায়মুক্তির সব ব্যবস্থা করে রেখেছে।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পূর্ণ হলো আজ। অথচ এই ২২ বছর পর এসে বাংলাদেশ দেখল এক অদ্ভুত বিচারিক উল্টোপুরাণ। যে মামলার রায়ে একদা ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন, সেই মামলাতেই আপিলের শেষ ধাপে সব আসামি খালাস। লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু থেকে শুরু করে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত সবাই এখন আইনগতভাবে নির্দোষ। অথচ ২০০৪ সালের সেই বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২৪টি প্রাণ ঝরে গেছে, শতাধিক মানুষের শরীরে ঢুকে গেছে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার, আর সেই ক্ষত আজও তাদের পোড়াচ্ছে।

বিচারহীনতার এই মহোৎসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা এক রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হয়েছে, সেখানে পুরনো মামলার রায় উলটে দেওয়া হয়েছে শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থেই। যে বিএনপি-জামায়াত জোট আজ ক্ষমতার কেন্দ্রে, তারাই ছিল ২০০৪ সালের হামলার প্রধান অভিযুক্ত পক্ষ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দিয়ে খালাসের রায় বহাল রাখে। তার মানে দাঁড়ায়, এই রাষ্ট্রব্যবস্থার সর্বোচ্চ আদালতও মেনে নিয়েছে যে ২৪টি হত্যার জন্য কেউ দায়ী নয়। এটা শুধু আইনি ব্যর্থতা নয়, এটা নৈতিক দেউলিয়াপনা।

হামলার শিকার মানুষগুলো আজ দ্বিমুখী আতঙ্কে বাঁচছে। একদিকে ২২ বছর আগের শারীরিক ক্ষত, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা, বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ। যারা ২০০৪ সালে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিল, তারা আজ আত্মগোপনে। কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ পরিচয় গোপন করে শ্রমিকের কাজ করছেন। আহত এক নারীর কথাটাই যথেষ্ট, “মরে গেলে বোধহয় ভালো ছিল।” যে রাষ্ট্র ২৪টি হত্যার বিচার দিতে পারেনি, সেই রাষ্ট্রই আবার ভুক্তভোগীদের হয়রানির ব্যবস্থা করেছে।

বিএনপি-জামায়াতের শাসনামল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের অভিজ্ঞতা ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিক্ততম অধ্যায়। বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, ধর্মীয় উগ্রবাদ, রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার এই সময়েরই চিহ্ন। ২০২৬ সালের আগস্টে দাঁড়িয়ে সেই একই চক্র আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে। পার্থক্য শুধু একটাই, তখন তারা অপরাধ করত, এখন তারা অপরাধের বিচারও মুছে দিতে পারছে। যারা ২০০৪ সালে হামলা চালিয়েছিল, তারা আজ আইনগত আশীর্বাদ নিয়ে রাজনীতি করছে। ভুক্তভোগীদের প্রতি এটাই সবচেয়ে বড় উপহাস।

অথচ এই বিচারহীনতা শুধু ২১ আগস্টের ভুক্তভোগীদের একার নয়। এটা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সতর্কবার্তা। যে দেশে ২৪টি হত্যার মামলার সব আসামি খালাস পেয়ে ক্ষমতার মসনদে বসতে পারে, সেখানে আইনের শাসন বলে কিছু থাকে না। থেকে যায় শুধু ক্ষমতার দাপট, রাজনৈতিক প্রতিশোধ আর ভুক্তভোগীদের নীরব কান্না। ২২ বছর পরেও এই প্রশ্নটা রয়ে গেছে যে, এই হামলার দায় কেউ নেবে কি না। উত্তরটা এখন স্পষ্ট, যারা দায় নেওয়ার কথা ছিল, তারা নিজেরাই আজ দায়মুক্তির সব ব্যবস্থা করে রেখেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ