পাবনার কোমরপুর গ্রামে যুবদল কর্মী শরিফুল ইসলাম প্রধানের বাড়িতে গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড বানিয়ে চোরাই গরু লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে চুরি করা বিভিন্ন পশুপাখি ও গবাদিপশু রাখার জন্য সেখানে এক পরিকল্পিত আস্তানা তৈরি করা হয়েছিল। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে ওই যুবদল কর্মী আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এলাকার একটি সুসংগঠিত অপরাধ চক্রের নানা তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে কিছু অসাধু ব্যক্তি ফুলেফেঁপে উঠছে, অন্যদিকে পশুপালকদের শেষ সম্বল হারিয়ে তাদের চোখের পানি ফেলতে হচ্ছে। এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অভাব তীব্র হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো একটি চরম আশঙ্কাজনক বিষয়। রাজনৈতিক পরিচয় যখন স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ ঢেকে রাখার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সাধারণ জনগণের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হয়। তারা আরও মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
বিশ্লেষকদের জোর দাবি, এ ধরনের সংবেদনশীল অপরাধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ও তাদের পেছনে থাকা সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে তৃণমূল পর্যায়ে অপরাধমূলক চক্রের প্রভাব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।

