১৩১ঃ৬ – দ্যা বাংলাদেশ বিড: ক্ষমতা ছাড়ার আগে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখলো যারা

একটা চুক্তির ১৭৯ বার “শ্যাল” শব্দ ব্যবহার হয়েছে। এর মধ্যে ১৩১ বার লেখা “বাংলাদেশ শ্যাল”, অর্থাৎ বাংলাদেশ বাধ্য। আর আমেরিকার বেলায় “ইউএস শ্যাল” লেখা হয়েছে মাত্র ৬ বার। একটা রাষ্ট্রের সাথে আরেকটা রাষ্ট্রের চুক্তি হলে দুই পক্ষেরই দায়বদ্ধতা সমান হওয়ার কথা, অথচ এখানে একপক্ষ শুধু শর্ত মানছে, আরেকপক্ষ শুধু সুবিধা নিচ্ছে। সিপিডির অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান একে বলেছেন “বাণিজ্যের সম্পূর্ণ অস্ত্রীকরণের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি”। সানেমের সেলিম রায়হান বলেছেন, “এই চুক্তি দেশের কৌশলগত স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি।” আর এই চুক্তি সই হয়েছে ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র তিন দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে।

ভাবুন তো, একজন মানুষ যাকে জনগণ কখনো ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়নি, যার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে কয়েকদিনের মধ্যেই, সে দেশের পক্ষে পরবর্তী পনেরো বছরের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বন্ধক রেখে গেল। জনগণের রায় জানার আগেই, একটা এমন চুক্তি সই করে দিলেন যেটা বাতিল করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা মোটেও কোনো ভুল বা তাড়াহুড়ার ফসল না, এটা একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নির্বাচনের ফল যাই আসুক, নতুন সরকার যেনো নিজেদের পোষা লোকজনই বানাতে পারে, এমনই কৌশল এটা।

আর এখানেই সবচেয়ে বড় জালিয়াতিটা ধরা পড়ে। বিএনপি আর জামায়াত এখন ভান করে যেন তারা কিছুই জানত না, যেন এই চুক্তি তাদের ঘাড়ে হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নিজেই স্বীকার করেছেন, ভোটের আগেই বিএনপি আর জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে এই চুক্তির বিষয়ে জানানো হয়েছিল, এবং তারা সম্মতিও দিয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হলো, জেনেশুনে সম্মতি দিয়ে এখন ক্ষমতায় বসে “পর্যালোচনা করছি” বলে সময় কাটানোর নাটক কেন। ক্ষমতায় আসার পর সাত মাস পার হয়ে গেছে, তারেক রহমানের সরকার একবারও স্পষ্ট করে বলেনি এই চুক্তি বাতিল হবে কি না। উল্টো বৈদেশিক মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে চুক্তিটা নাকি “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতির সাথে সাংঘর্ষিক না! ষাট দিনের নোটিশে বেরিয়ে আসার সুযোগ চুক্তিতে লেখা থাকা সত্ত্বেও সেই পথে হাঁটার কোনো আগ্রহ এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। বরং গম আমদানির চুক্তি সইসহ বাস্তবায়নের কাজ চুপচাপ এগিয়েই চলেছে। দ্বিচারিতা আর কাকে বলে!

এবার আসল ক্ষতির হিসাবে আসি। এই চুক্তি বাংলাদেশকে চীনের সাথে মুক্তবাণিজ্য আলোচনা চালানোর পথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, কারণ “নন মার্কেট ইকোনমি” হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর সাথে নতুন কোনো বাণিজ্য বা ডিজিটাল চুক্তি করতে গেলে আমেরিকার আপত্তির মুখে পড়তে হবে। চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার, অথচ সেই সম্পর্ককে এখন ওয়াশিংটনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রাখতে হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আমেরিকার রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতির সাথে তাল মিলিয়ে “পরিপূরক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা” নেওয়ার বাধ্যবাধকতা, অর্থাৎ আমেরিকা কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশকেও সেই পথে হাঁটতে হবে। এতদিন যে নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা বলা হতো, সেই নীতি এখন কাগজে-কলমেই একরকম শেষ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণও এই চুক্তির চাপে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারার আওতায় আমেরিকার স্বার্থবিরোধী বলে বিবেচিত উৎস থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানি রড বা ইউরেনিয়াম আমদানির পথ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া বা চীনের সাথে ভবিষ্যতে কোনো সহযোগিতার সুযোগ থাকলে সেটাও এখন ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভরশীল, আর বিকল্প হিসেবে দামি মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি নেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছে।

তারপর আসে কেনাকাটার তালিকা। আগামী পনেরো বছরে পনেরো বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কিনতে হবে আমেরিকা থেকে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে কিনতে হবে চৌদ্দটা বোয়িং উড়োজাহাজ। কৃষি খাতে বছরে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য থাকতে হবে, যার মধ্যে আছে প্রতি বছর সাত লাখ টন গম, একই সাথে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন। দেশের পোলট্রি আর দুগ্ধ খাতের কৃষক যখন প্রতিযোগিতার মধ্যে টিকে থাকার লড়াই করছেন, তখন ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষিপণ্যের এই ঢল তাদের বাজারই ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মার্কিন পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়ার ফলে বছরে প্রায় একশো মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় বারোশো কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে। বিনিময়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত যে সামান্য শুল্ক ছাড় পেয়েছে সেটাও শর্তসাপেক্ষ, মার্কিন তুলা বা সুতা ব্যবহার না করলে সেই ছাড় মিলবে না। ফলে সস্তা বৈশ্বিক কাঁচামাল ব্যবহার করা কারখানাগুলো এখনো পুরনো উচ্চ শুল্কের মধ্যেই আটকে থাকবে। এটা মুক্তবাণিজ্য না, এটা আমেরিকান তুলা চাষিদের জন্য বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে জিম্মি করে রাখার কৌশল।

খনিজ সম্পদ আর জ্বালানি খাতেও মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সরাসরি বিনিয়োগ আর অনুসন্ধানের সুযোগ দিতে বাধ্য থাকতে হচ্ছে, স্বদেশি স্বার্থ রক্ষার তেমন কোনো সুরক্ষা ছাড়াই। এফডিএর সনদ আর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সরাসরি মেনে নিতে হচ্ছে, নিজস্ব যাচাই ছাড়াই। প্রতিরক্ষা খাতেও চীনের মতো ঐতিহাসিক সরবরাহকারীর জায়গা ছেড়ে ধীরে ধীরে মার্কিন অস্ত্র আর যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এই চুক্তি একটা দেশের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক আর প্রতিরক্ষা নীতির স্বাধীনতা একসাথে সংকুচিত করে দিয়েছে। ইউনূস এটা সই করে গেছেন বিদায়বেলায়, দায় না নিয়ে। বিএনপি আর জামায়াত জেনেবুঝে সায় দিয়ে এখন ক্ষমতায় বসে চুপ করে বাস্তবায়ন চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণ জানতে চায়, দেশ কি সত্যিই কারো একার সম্পত্তি যে এভাবে না জিজ্ঞেস করে অন্যের হাতে বন্ধক রেখে দেওয়া যায়?

একটা চুক্তির ১৭৯ বার “শ্যাল” শব্দ ব্যবহার হয়েছে। এর মধ্যে ১৩১ বার লেখা “বাংলাদেশ শ্যাল”, অর্থাৎ বাংলাদেশ বাধ্য। আর আমেরিকার বেলায় “ইউএস শ্যাল” লেখা হয়েছে মাত্র ৬ বার। একটা রাষ্ট্রের সাথে আরেকটা রাষ্ট্রের চুক্তি হলে দুই পক্ষেরই দায়বদ্ধতা সমান হওয়ার কথা, অথচ এখানে একপক্ষ শুধু শর্ত মানছে, আরেকপক্ষ শুধু সুবিধা নিচ্ছে। সিপিডির অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান একে বলেছেন “বাণিজ্যের সম্পূর্ণ অস্ত্রীকরণের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি”। সানেমের সেলিম রায়হান বলেছেন, “এই চুক্তি দেশের কৌশলগত স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি।” আর এই চুক্তি সই হয়েছে ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র তিন দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে।

ভাবুন তো, একজন মানুষ যাকে জনগণ কখনো ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়নি, যার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে কয়েকদিনের মধ্যেই, সে দেশের পক্ষে পরবর্তী পনেরো বছরের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বন্ধক রেখে গেল। জনগণের রায় জানার আগেই, একটা এমন চুক্তি সই করে দিলেন যেটা বাতিল করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা মোটেও কোনো ভুল বা তাড়াহুড়ার ফসল না, এটা একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নির্বাচনের ফল যাই আসুক, নতুন সরকার যেনো নিজেদের পোষা লোকজনই বানাতে পারে, এমনই কৌশল এটা।

আর এখানেই সবচেয়ে বড় জালিয়াতিটা ধরা পড়ে। বিএনপি আর জামায়াত এখন ভান করে যেন তারা কিছুই জানত না, যেন এই চুক্তি তাদের ঘাড়ে হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নিজেই স্বীকার করেছেন, ভোটের আগেই বিএনপি আর জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে এই চুক্তির বিষয়ে জানানো হয়েছিল, এবং তারা সম্মতিও দিয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হলো, জেনেশুনে সম্মতি দিয়ে এখন ক্ষমতায় বসে “পর্যালোচনা করছি” বলে সময় কাটানোর নাটক কেন। ক্ষমতায় আসার পর সাত মাস পার হয়ে গেছে, তারেক রহমানের সরকার একবারও স্পষ্ট করে বলেনি এই চুক্তি বাতিল হবে কি না। উল্টো বৈদেশিক মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে চুক্তিটা নাকি “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতির সাথে সাংঘর্ষিক না! ষাট দিনের নোটিশে বেরিয়ে আসার সুযোগ চুক্তিতে লেখা থাকা সত্ত্বেও সেই পথে হাঁটার কোনো আগ্রহ এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। বরং গম আমদানির চুক্তি সইসহ বাস্তবায়নের কাজ চুপচাপ এগিয়েই চলেছে। দ্বিচারিতা আর কাকে বলে!

এবার আসল ক্ষতির হিসাবে আসি। এই চুক্তি বাংলাদেশকে চীনের সাথে মুক্তবাণিজ্য আলোচনা চালানোর পথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, কারণ “নন মার্কেট ইকোনমি” হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর সাথে নতুন কোনো বাণিজ্য বা ডিজিটাল চুক্তি করতে গেলে আমেরিকার আপত্তির মুখে পড়তে হবে। চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার, অথচ সেই সম্পর্ককে এখন ওয়াশিংটনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রাখতে হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আমেরিকার রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতির সাথে তাল মিলিয়ে “পরিপূরক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা” নেওয়ার বাধ্যবাধকতা, অর্থাৎ আমেরিকা কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশকেও সেই পথে হাঁটতে হবে। এতদিন যে নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা বলা হতো, সেই নীতি এখন কাগজে-কলমেই একরকম শেষ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণও এই চুক্তির চাপে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারার আওতায় আমেরিকার স্বার্থবিরোধী বলে বিবেচিত উৎস থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানি রড বা ইউরেনিয়াম আমদানির পথ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া বা চীনের সাথে ভবিষ্যতে কোনো সহযোগিতার সুযোগ থাকলে সেটাও এখন ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভরশীল, আর বিকল্প হিসেবে দামি মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি নেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছে।

তারপর আসে কেনাকাটার তালিকা। আগামী পনেরো বছরে পনেরো বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কিনতে হবে আমেরিকা থেকে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে কিনতে হবে চৌদ্দটা বোয়িং উড়োজাহাজ। কৃষি খাতে বছরে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য থাকতে হবে, যার মধ্যে আছে প্রতি বছর সাত লাখ টন গম, একই সাথে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন। দেশের পোলট্রি আর দুগ্ধ খাতের কৃষক যখন প্রতিযোগিতার মধ্যে টিকে থাকার লড়াই করছেন, তখন ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষিপণ্যের এই ঢল তাদের বাজারই ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মার্কিন পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়ার ফলে বছরে প্রায় একশো মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় বারোশো কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে। বিনিময়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত যে সামান্য শুল্ক ছাড় পেয়েছে সেটাও শর্তসাপেক্ষ, মার্কিন তুলা বা সুতা ব্যবহার না করলে সেই ছাড় মিলবে না। ফলে সস্তা বৈশ্বিক কাঁচামাল ব্যবহার করা কারখানাগুলো এখনো পুরনো উচ্চ শুল্কের মধ্যেই আটকে থাকবে। এটা মুক্তবাণিজ্য না, এটা আমেরিকান তুলা চাষিদের জন্য বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে জিম্মি করে রাখার কৌশল।

খনিজ সম্পদ আর জ্বালানি খাতেও মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সরাসরি বিনিয়োগ আর অনুসন্ধানের সুযোগ দিতে বাধ্য থাকতে হচ্ছে, স্বদেশি স্বার্থ রক্ষার তেমন কোনো সুরক্ষা ছাড়াই। এফডিএর সনদ আর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সরাসরি মেনে নিতে হচ্ছে, নিজস্ব যাচাই ছাড়াই। প্রতিরক্ষা খাতেও চীনের মতো ঐতিহাসিক সরবরাহকারীর জায়গা ছেড়ে ধীরে ধীরে মার্কিন অস্ত্র আর যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এই চুক্তি একটা দেশের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক আর প্রতিরক্ষা নীতির স্বাধীনতা একসাথে সংকুচিত করে দিয়েছে। ইউনূস এটা সই করে গেছেন বিদায়বেলায়, দায় না নিয়ে। বিএনপি আর জামায়াত জেনেবুঝে সায় দিয়ে এখন ক্ষমতায় বসে চুপ করে বাস্তবায়ন চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণ জানতে চায়, দেশ কি সত্যিই কারো একার সম্পত্তি যে এভাবে না জিজ্ঞেস করে অন্যের হাতে বন্ধক রেখে দেওয়া যায়?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ