৩২ বছরের একটা নীতি বাতিল হয়ে গেল মাত্র কয়েক মাসের মাথায়, আর কারণ হিসেবে দেখানো হলো এমন এক অজুহাত যেটা আসলে ধোপে টেকে না। ২৯৭টি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় আনা হয়েছিল রোগ আর চিকিৎসার বাস্তবতা মিলিয়ে। বিএনপি সরকার এসে ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সেটা এক ঝটকায় বাতিল করে দিলো, কারণ নাকি জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি!
প্রশ্নটা এখানেই। যে পরামর্শ না নেওয়ার অভিযোগে আগের তালিকা বাতিল হলো, বর্তমান সরকার নিজে সেই পরামর্শ নিয়েছে কি? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ চৌধুরী নিজেই বলেছেন, ২৯ জুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পর আজ পর্যন্ত একটা সভাও হয়নি। তালিকা বাতিলের সিদ্ধান্তেও তাদের ডাকা হয়নি। অর্থাৎ যে ভুলের দোহাই দিয়ে আগের নীতি ফেলে দেওয়া হলো, একই ভুল করে বসে আছে বর্তমান সরকার নিজেই।
এখানে আইনি ত্রুটি সংশোধনের একটা সহজ পথ ছিল। বিশেষজ্ঞ কমিটি বসিয়ে ২৯৭টির তালিকা পর্যালোচনা করলেই চলত। তা না করে পুরো নীতিটাই কবর দিয়ে ১৯৯৪ সালের ১১৭টি ওষুধের পুরোনো তালিকায় ফেরত যাওয়া, এটা প্রশাসনিক সংশোধন নয়, এটা একটা সিদ্ধান্তের নাম বদল করে ওষুধ ব্যবসায়ীদের চাহিদা মেটানো। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন যাকে বলেছেন ঠুনকো অজুহাত।
তালিকা প্রকাশের পরপরই ওষুধশিল্প মালিকরা আপত্তি তুলেছিলেন, আদালতে রিটও করেছিলেন। কয়েক মাস পর ঠিক সেই দাবিটাই পূরণ হলো মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে। কাকতালীয় বলার সুযোগ কম, কারণ মাঝখানে যুক্তিসংগত কোনো বিকল্প প্রক্রিয়ার চেষ্টাই দেখা যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুফিয়ান নাহিন শিমুলের কথাটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ, ওষুধের দাম যৌক্তিক রাখার তদারকি সক্ষমতাই সরকারের নেই, ফলে উৎপাদনকারীরা নিজেদের সুবিধামতো দাম বসায়। এই বাস্তবতায় তালিকা সংকুচিত করে পুরোনো দামব্যবস্থায় ফেরাটা কার স্বার্থ রক্ষা করে, সেটা বোঝা কঠিন কিছু না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, কেউই এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি, একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টার পরও। একটা সিদ্ধান্ত যেটা সরাসরি কোটি মানুষের ওষুধের খরচ আর প্রাপ্যতাকে প্রভাবিত করবে, তার ব্যাখ্যা দিতে সরকারের এই নীরবতাই বলে দেয়, উত্তরটা তাদের কাছে আরামদায়ক নয়।

