একজন সন্ত্রাসীর ঠিকানা, ফোন নম্বর, সাতটা মামলার নম্বর সব জানা, তারপরও গ্রেপ্তার নেই কেন?

মোবারক হোসেন ইমন। ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে। বাকলিয়ায় জোড়া খুন মামলা, পতেঙ্গায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলা, সব মিলিয়ে সাতটা মামলার আসামি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তার কাছে পনেরো-বিশটা আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য তাদের কাছেই আছে। এই লোক নিজের ছবি পুলিশ কমিশনারকে দেখিয়ে চিনে নিতে বলছে ফোনে, প্রকাশ্যে। এটা কোনো অজানা আসামি না, এটা এমন একজন যার জন্ম তারিখ থেকে মামলার ধারা পর্যন্ত সব নথিভুক্ত।

এখন হিসাবটা মেলান। ২ জানুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের মুজিবুর রহমানের বাসায় গুলি। বাসাটা এরপর পুলিশ পাহারায় দেওয়া হয়। তারপরও ২৮ ফেব্রুয়ারি আবার গুলি, একই বাসায়, পুলিশ পাহারার সামনে দিয়েই। ৯ মে এক সাংবাদিককে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গুলির হুমকি, পঞ্চাশ লাখ টাকা না দিলে। ১৩ জুলাই দিনদুপুরে কুড়াল হাতে অফিসে হামলা, পঁয়ত্রিশ লাখ লুট। এক পাড়ায়, ছয় মাসে, চারটা আলাদা ঘটনা, প্রতিটাতেই একই নেটওয়ার্ক, বিদেশে বসে থাকা বড় সাজ্জাদের নাম। আর প্রতিবার পুলিশের বক্তব্য হুবহু একই বাক্য, “শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” ছয় মাসে একটা “চেষ্টা” একবারও গ্রেপ্তারে রূপ নেয়নি, এটা অতি চেনা প্যাটার্ন।

যে সরকার ক্ষমতায় বসেছে সংস্কারের নামে, যে সংসদে জামায়াত বসে আছে নিজেদের সততার রাজনীতির দাবি নিয়ে, তাদের প্রশাসনের অধীনেই পুলিশি প্রহরা থাকা বাসায় দ্বিতীয়বার গুলি লাগে জানালার কাচে। এর মানে কী দাঁড়ায়? হয় প্রশাসনের সক্ষমতা নেই, নয়তো সদিচ্ছা নেই। দুটোর যেকোনোটাই একটা নির্বাচিত সরকারের জন্য লজ্জার, কিন্তু দ্বিতীয়টা হলে সেটা অপরাধ।

আরেকটা তথ্য মেলান। বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে পুলিশের নিজস্ব হিসাবেই পঞ্চাশজন সক্রিয় শুটার। একটা শহরে, পুলিশ কমিশনারের নাকের ডগায়, পঞ্চাশজন অস্ত্রধারী নিয়মিত চাঁদা তোলে, আর যাদের নাম-ঠিকানা-মামলার নম্বর সব সরকারি নথিতে আছে, তাদের একজনকেও এখনো গারদে ঢোকানো যায়নি। ২০০১-০৬ সালে ঠিক এই বাক্যগুলোই মানুষ শুনত, “তদন্ত চলছে”, “শনাক্তের চেষ্টা চলছে”, আর চাঁদাবাজরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াত। উনিশ বছর পর সেই একই বাক্য, একই অসহায়ত্বের অভিনয়, শুধু সালটা এবার নতুন, এ যা।

মোবারক হোসেন ইমন। ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে। বাকলিয়ায় জোড়া খুন মামলা, পতেঙ্গায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলা, সব মিলিয়ে সাতটা মামলার আসামি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তার কাছে পনেরো-বিশটা আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য তাদের কাছেই আছে। এই লোক নিজের ছবি পুলিশ কমিশনারকে দেখিয়ে চিনে নিতে বলছে ফোনে, প্রকাশ্যে। এটা কোনো অজানা আসামি না, এটা এমন একজন যার জন্ম তারিখ থেকে মামলার ধারা পর্যন্ত সব নথিভুক্ত।

এখন হিসাবটা মেলান। ২ জানুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের মুজিবুর রহমানের বাসায় গুলি। বাসাটা এরপর পুলিশ পাহারায় দেওয়া হয়। তারপরও ২৮ ফেব্রুয়ারি আবার গুলি, একই বাসায়, পুলিশ পাহারার সামনে দিয়েই। ৯ মে এক সাংবাদিককে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গুলির হুমকি, পঞ্চাশ লাখ টাকা না দিলে। ১৩ জুলাই দিনদুপুরে কুড়াল হাতে অফিসে হামলা, পঁয়ত্রিশ লাখ লুট। এক পাড়ায়, ছয় মাসে, চারটা আলাদা ঘটনা, প্রতিটাতেই একই নেটওয়ার্ক, বিদেশে বসে থাকা বড় সাজ্জাদের নাম। আর প্রতিবার পুলিশের বক্তব্য হুবহু একই বাক্য, “শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” ছয় মাসে একটা “চেষ্টা” একবারও গ্রেপ্তারে রূপ নেয়নি, এটা অতি চেনা প্যাটার্ন।

যে সরকার ক্ষমতায় বসেছে সংস্কারের নামে, যে সংসদে জামায়াত বসে আছে নিজেদের সততার রাজনীতির দাবি নিয়ে, তাদের প্রশাসনের অধীনেই পুলিশি প্রহরা থাকা বাসায় দ্বিতীয়বার গুলি লাগে জানালার কাচে। এর মানে কী দাঁড়ায়? হয় প্রশাসনের সক্ষমতা নেই, নয়তো সদিচ্ছা নেই। দুটোর যেকোনোটাই একটা নির্বাচিত সরকারের জন্য লজ্জার, কিন্তু দ্বিতীয়টা হলে সেটা অপরাধ।

আরেকটা তথ্য মেলান। বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে পুলিশের নিজস্ব হিসাবেই পঞ্চাশজন সক্রিয় শুটার। একটা শহরে, পুলিশ কমিশনারের নাকের ডগায়, পঞ্চাশজন অস্ত্রধারী নিয়মিত চাঁদা তোলে, আর যাদের নাম-ঠিকানা-মামলার নম্বর সব সরকারি নথিতে আছে, তাদের একজনকেও এখনো গারদে ঢোকানো যায়নি। ২০০১-০৬ সালে ঠিক এই বাক্যগুলোই মানুষ শুনত, “তদন্ত চলছে”, “শনাক্তের চেষ্টা চলছে”, আর চাঁদাবাজরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াত। উনিশ বছর পর সেই একই বাক্য, একই অসহায়ত্বের অভিনয়, শুধু সালটা এবার নতুন, এ যা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ