কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটির প্রধান করা হলো এমন একজনকে, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি খাস জমি জাল দলিলে দখল করে দশতলা ভবন তোলার। প্রশাসন নিজেই বলছে জমিটা সরকারি, মামলার প্রস্তুতিও চলছে। অথচ দল তাকে পুরস্কৃত করলো জেলার শীর্ষ পদ দিয়ে। এইটা কাকতালীয় না, এইটাই বিএনপির রাজনীতির আসল চেহারা।
আবুল হাশেম একা কেউ না। এই লোক গোটা বিএনপির চেহারার একটা ঝলক মাত্র। দল ক্ষমতায় আসার পরপরই যে গতিতে সে জমি দখলে সাহস দেখিয়েছে, সেটাই বলে দেয় দলীয় ছাতার নিচে থাকলে আইন কতটা ফাঁকা বুলি হয়ে যায়। জালিয়াতি করে গরিব ভূমিহীন আত্মীয়ের নামে বন্দোবস্ত করা জমি নিজের নামে করে নেওয়া, তারপর প্রশাসনের বারবার নিষেধ উপেক্ষা করে ভবন তুলে যাওয়া, এইটা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ না। এইটা ক্ষমতার দম্ভ।
সবচেয়ে হাস্যকর অংশ হলো বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার প্রতিক্রিয়া। তিনি বলছেন দলের কাছে নাকি এমন কোনো অভিযোগ নেই। অথচ দেশের একাধিক গণমাধ্যমে খবর ছাপা হয়েছে, প্রশাসন মামলার প্রক্রিয়ায় আছে, স্থানীয় মানুষ সবাই জানে। তারপরও দল চোখ বন্ধ করে রাখছে, কারণ এই লোকদের হাত ধরেই তো তৃণমূলের রাজনীতি চলে।
২০০১-০৬ সালে বিএনপির শাসনামলে দখলবাজি, চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসের যে বিভীষিকা মানুষ দেখেছিল, সেই একই স্ক্রিপ্ট আবার মঞ্চস্থ হচ্ছে ২০২৬ সালে। শুধু চরিত্র বদলেছে, নাটক একই। জনগণের কাছে দেওয়া সংস্কার আর সুশাসনের প্রতিশ্রুতি এভাবেই একেকটা কমিটি গঠনের মাধ্যমে ফাঁপা প্রমাণ হচ্ছে।

