২০২৬ সালের জুলাই। টানা কয়েক মাস ধরে রাজধানীর পূর্ব কাজীপাড়া আর শেওড়াপাড়া পুড়ছে পানির অভাবে। অথচ ২০০১-০৬ মেয়াদে এই একই চিত্র দেখেছে ঢাকা। আবারও সেই একই দল, একই কায়দায় জনগণের গলায় ছুরি চালাচ্ছে।
পূর্ব কাজীপাড়ার রজনী হানিফ হিমু পরিবার নিয়ে পানি না পেয়ে পুরো এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতি দুই দিন পরপর পাঁচ লিটার খাবার পানি কিনতে হচ্ছে। পাইপে যা আসে তাতে দুর্গন্ধ, গোসল করা যায় না, রান্না করা যায় না। অথচ গত ফেব্রুয়ারির পাতানো নির্বাচনের আগে মিরপুরবাসীকে পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের মিষ্টি কথার কোনো শেষ ছিল না।
শেওড়াপাড়ার পাম্পিং স্টেশনগুলো স্তব্ধ। এক বছর আগে যেখানে প্রতি মিনিটে ২১০০ লিটার পানি ওঠানো হতো, এখন নামমাত্র ১২০০ লিটার বেরোয়। ওয়াসার কর্মীরাই বলছেন পাইপলাইন ও পাম্প রক্ষণাবেক্ষণের বরাদ্দ তলাবিহীন ঝুড়িতে উধাও।
মমতাজ বেগমের ভাষায়, শক্তিশালী পাম্পওয়ালারা পাইপের সব পানি টেনে নিচ্ছে। নিজস্ব পাম্প না থাকলে পরিবারগুলো তৃষ্ণায় কাতরাচ্ছে। আর এই সুযোগেই বাজার দখল করেছে ট্যাংকার সিন্ডিকেট। সরকারি দর ৩০০ টাকা হলেও চালকরা হাঁকছেন ৮০০ টাকা। এই সিন্ডিকেটের পেছনে কারা আছে তা মিরপুরবাসী জানে।
পানি না পেয়ে ডায়রিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে স্থানীয় ফার্মেসি মালিক আজহারুল ইসলাম আকন্দের হিসাবে। পাইপের চাপ কমার সাথে সাথে দূষিত পানি সরবরাহ লাইনে ঢুকে বিষ ছড়াচ্ছে গোটা এলাকায়। অথচ ঢাকা ওয়াসার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর পর্যন্ত এলাকায় একদিনের জন্য দেখা দেননি।
শুধু পূর্ব কাজীপাড়া নয়, পুরো মিরপুর এখন জিম্মি এক অদৃশ্য পানি মাফিয়ার কাছে। জনগণের নাগালের বাইরে চলে গেছে খাওয়ার পানির ন্যায্য অধিকার। জনগণের রক্তচোষা এই প্রশাসন আর জনগণকে বোকা বানানো জামাতে ইসলামকে ক্ষমতার মধু খাওয়ার সুযোগ দেয়ার ফল ভুগছে পুরো জাতি।

