ধর্ম ব্যবসা, কুসংস্কার আর বিএনপি-জামাতের আশীর্বাদপুষ্ট অন্ধকার

মাজারে পরিণত হওয়ার আগেই কাটা গাছ আবার খাড়া হয়ে যাওয়া অলৌকিক (!?) গাছটিকে পুরোপুরি কেটে ফেলেছে প্রশাসন। গাছের মালিক রাগে ফেটে পড়ে বলছেন, পাশের মাজারের লোকেরা হিংসা করে তার গাছ কাটিয়ে দিয়েছে। অভিশাপে কেউ মরলে দায় প্রশাসনের।

বস্তির দেয়ালের প্লাস্টার ফুলে উঠলে সেটা হয়ে যায় “হযরত প্লাস্টার শাহ (রহ.)” এর মাজার। শেয়ালদের নিয়মিত পায়খানা করার স্পটে ক্রমান্বয়ে জমে ওঠা ঢিবিতে লাল কাপড় পড়লে জন্ম নেয় “শেয়াল বাবা (রহ.) দরবার শরীফ।”

এটা একটা রাজনৈতিক প্রকল্পের ফল। আর এই প্রকল্পের ঠিকাদার বরাবরই একই ছিলো আর আছে। বাংলাদেশে যতবার বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই একটা অদ্ভুত জিনিস ঘটেছে। কবিরাজের বিজ্ঞাপন বাড়ে। মাজার ব্যবসা জমে ওঠে। তান্ত্রিকরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় নির্ভয়ে। অনলাইনে “রাকী” নামধারী প্রতারকরা সেলিব্রিটি বনে যায়। এটা একদমই কাকতালীয় না।

জামায়াতে ইসলামী একটি সংগঠন যার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে এই সংগঠনের নেতারা রাজাকার বাহিনী গঠন করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যায় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছে, বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরি করে দিয়েছে। তারপর পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দলটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেঁচে থেকেছে, এবং বেঁচে থাকার জন্য বারবার বিএনপির কাঁধ ব্যবহার করেছে।

বিএনপির জন্মটাও একটু আবারও মনে করা দরকার। জিয়াউর রহমান একটি অংশগ্রহণহীন তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছিলেন। সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া একটি দলকে “জনগণের দল” বলে চালানো হয়েছে দশকের পর দশক। সেই দলের সাথে যুদ্ধাপরাধীদের জোট বাঁধার ঘটনাটা ইতিহাসে যেভাবে লেখা আছে, সেটা মুছে ফেলার সুযোগ নেই।

এবার আসি আসল কথায়। ধর্ম ব্যবসা আর কুসংস্কার বাড়ে কেন যখনই এই জোট ক্ষমতায় আসে?

কারণটা জলবৎ তরলং। একটা শিক্ষিত, প্রশ্ন করতে জানা জনগোষ্ঠী এই ধরনের রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক। যে মানুষ যুক্তি দিয়ে ভাবতে পারে, সে গাছকে সৃষ্টিকর্তা বলে মানে না, আবার রাজনৈতিক মিথ্যাচারও গেলে না। তাই জ্ঞান নয়, ভয় ছড়ানোটাই কৌশল। অলৌকিকতার গল্প, জ্বীনের ভয়, কবিরাজের ব্যবসা, এগুলো একটি নির্দিষ্ট মানসিকতার জন্ম দেয়। “আমি বুঝব না, কেউ একজন বুঝিয়ে দেবে” এই মানসিকতা। এই মানসিকতাই তৈরি করে বাধ্য ভোটার। বাধ্য অনুসারী।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের কথা যারা মনে রাখেন, তারা জানেন সেই সময়টায় দেশটা কোথায় গিয়েছিল। সংখ্যালঘু নির্যাতন। হিন্দু পরিবারের উপর হামলা। মসজিদে বোমা। জঙ্গিদের রাষ্ট্রীয় আশ্রয়। সিরিজ বোমা হামলা। “বাংলা ভাই” এর অভয়ারণ্য। তখনও বলা হয়েছিল এগুলো বিএনপি করেনি, জামায়াত করেনি। কিন্তু এগুলো হয়েছিল তাদের ছায়ায়, তাদের প্রশ্রয়ে, তাদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য।

২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যা হলো, সেটাও নতুন কিছু না। ইতিহাস আবার একটা চেনা বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। বড় দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বড় একটি অংশের প্রত্যাখ্যানকে উপেক্ষা করে, একটি পাতানো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার মসনদ নেওয়া। এই ছবিটা বাংলাদেশ আগেও দেখেছে।

আর ক্ষমতায় বসার পরেই শুরু হবে পুরনো চক্র। শেয়াল বাবার দরবার শরীফ আরো বাড়বে। প্লাস্টার শাহের মাজারে ভিড় জমবে। কবিরাজের বিজ্ঞাপন পত্রিকার পেছনের পাতায় আরো বড় হবে। অনলাইনে প্রতারকরা আরো নির্ভয়ে ব্যবসা করবে। নারীদের “ঝাড়ফুঁকের” নামে ভোগ করার ঘটনা আরো বাড়বে। কারণ এই পরিবেশ তাদের রাজনীতির জন্য সার।

যে বিশ্বাস প্রশ্ন সহ্য করতে পারে না সেটা বিশ্বাস নয়, কুসংস্কার। আর যে রাজনীতি জনগণের প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে পারে না সেটা রাজনীতি নয়, ক্ষমতা দখল।

সত্যটা হলো, গাছ ছিল গাছ। জ্বীন ছিল কবিরাজের ব্যবসার পুঁজি। অভিশাপ ছিল গুজব। আর ভয় ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। রাজনীতিতেও ঠিক তাই। যারা ভয় দিয়ে শাসন করে, যারা অন্ধকারকে লালন করে নিজেদের টিকিয়ে রাখে, তাদের মুখোশটা আসলে খুব পলকা। শুধু একটু মুচড়ে দিলেই সব ফকফকা হয়ে যায়।

মাজারে পরিণত হওয়ার আগেই কাটা গাছ আবার খাড়া হয়ে যাওয়া অলৌকিক (!?) গাছটিকে পুরোপুরি কেটে ফেলেছে প্রশাসন। গাছের মালিক রাগে ফেটে পড়ে বলছেন, পাশের মাজারের লোকেরা হিংসা করে তার গাছ কাটিয়ে দিয়েছে। অভিশাপে কেউ মরলে দায় প্রশাসনের।

বস্তির দেয়ালের প্লাস্টার ফুলে উঠলে সেটা হয়ে যায় “হযরত প্লাস্টার শাহ (রহ.)” এর মাজার। শেয়ালদের নিয়মিত পায়খানা করার স্পটে ক্রমান্বয়ে জমে ওঠা ঢিবিতে লাল কাপড় পড়লে জন্ম নেয় “শেয়াল বাবা (রহ.) দরবার শরীফ।”

এটা একটা রাজনৈতিক প্রকল্পের ফল। আর এই প্রকল্পের ঠিকাদার বরাবরই একই ছিলো আর আছে। বাংলাদেশে যতবার বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই একটা অদ্ভুত জিনিস ঘটেছে। কবিরাজের বিজ্ঞাপন বাড়ে। মাজার ব্যবসা জমে ওঠে। তান্ত্রিকরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় নির্ভয়ে। অনলাইনে “রাকী” নামধারী প্রতারকরা সেলিব্রিটি বনে যায়। এটা একদমই কাকতালীয় না।

জামায়াতে ইসলামী একটি সংগঠন যার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে এই সংগঠনের নেতারা রাজাকার বাহিনী গঠন করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যায় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছে, বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরি করে দিয়েছে। তারপর পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দলটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেঁচে থেকেছে, এবং বেঁচে থাকার জন্য বারবার বিএনপির কাঁধ ব্যবহার করেছে।

বিএনপির জন্মটাও একটু আবারও মনে করা দরকার। জিয়াউর রহমান একটি অংশগ্রহণহীন তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছিলেন। সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া একটি দলকে “জনগণের দল” বলে চালানো হয়েছে দশকের পর দশক। সেই দলের সাথে যুদ্ধাপরাধীদের জোট বাঁধার ঘটনাটা ইতিহাসে যেভাবে লেখা আছে, সেটা মুছে ফেলার সুযোগ নেই।

এবার আসি আসল কথায়। ধর্ম ব্যবসা আর কুসংস্কার বাড়ে কেন যখনই এই জোট ক্ষমতায় আসে?

কারণটা জলবৎ তরলং। একটা শিক্ষিত, প্রশ্ন করতে জানা জনগোষ্ঠী এই ধরনের রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক। যে মানুষ যুক্তি দিয়ে ভাবতে পারে, সে গাছকে সৃষ্টিকর্তা বলে মানে না, আবার রাজনৈতিক মিথ্যাচারও গেলে না। তাই জ্ঞান নয়, ভয় ছড়ানোটাই কৌশল। অলৌকিকতার গল্প, জ্বীনের ভয়, কবিরাজের ব্যবসা, এগুলো একটি নির্দিষ্ট মানসিকতার জন্ম দেয়। “আমি বুঝব না, কেউ একজন বুঝিয়ে দেবে” এই মানসিকতা। এই মানসিকতাই তৈরি করে বাধ্য ভোটার। বাধ্য অনুসারী।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের কথা যারা মনে রাখেন, তারা জানেন সেই সময়টায় দেশটা কোথায় গিয়েছিল। সংখ্যালঘু নির্যাতন। হিন্দু পরিবারের উপর হামলা। মসজিদে বোমা। জঙ্গিদের রাষ্ট্রীয় আশ্রয়। সিরিজ বোমা হামলা। “বাংলা ভাই” এর অভয়ারণ্য। তখনও বলা হয়েছিল এগুলো বিএনপি করেনি, জামায়াত করেনি। কিন্তু এগুলো হয়েছিল তাদের ছায়ায়, তাদের প্রশ্রয়ে, তাদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য।

২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যা হলো, সেটাও নতুন কিছু না। ইতিহাস আবার একটা চেনা বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। বড় দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বড় একটি অংশের প্রত্যাখ্যানকে উপেক্ষা করে, একটি পাতানো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার মসনদ নেওয়া। এই ছবিটা বাংলাদেশ আগেও দেখেছে।

আর ক্ষমতায় বসার পরেই শুরু হবে পুরনো চক্র। শেয়াল বাবার দরবার শরীফ আরো বাড়বে। প্লাস্টার শাহের মাজারে ভিড় জমবে। কবিরাজের বিজ্ঞাপন পত্রিকার পেছনের পাতায় আরো বড় হবে। অনলাইনে প্রতারকরা আরো নির্ভয়ে ব্যবসা করবে। নারীদের “ঝাড়ফুঁকের” নামে ভোগ করার ঘটনা আরো বাড়বে। কারণ এই পরিবেশ তাদের রাজনীতির জন্য সার।

যে বিশ্বাস প্রশ্ন সহ্য করতে পারে না সেটা বিশ্বাস নয়, কুসংস্কার। আর যে রাজনীতি জনগণের প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে পারে না সেটা রাজনীতি নয়, ক্ষমতা দখল।

সত্যটা হলো, গাছ ছিল গাছ। জ্বীন ছিল কবিরাজের ব্যবসার পুঁজি। অভিশাপ ছিল গুজব। আর ভয় ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। রাজনীতিতেও ঠিক তাই। যারা ভয় দিয়ে শাসন করে, যারা অন্ধকারকে লালন করে নিজেদের টিকিয়ে রাখে, তাদের মুখোশটা আসলে খুব পলকা। শুধু একটু মুচড়ে দিলেই সব ফকফকা হয়ে যায়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ