ভাঙা ভাস্কর্যের টুকরো আর বোন রিজিয়া বেগমের কান্না দেখে কী মনে হয় আপনাদের, পাঠক? মুক্তিযুদ্ধের বীরের প্রতি এই জঘন্য অসম্মানের দায় সরাসরি বিএনপি আর জামায়াতের। এটা সেই পুরনো খেসারতের পুনরাবৃত্তি। যে দল ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পদদলিত করে, জামায়াতের সাথে ক্ষমতার ভাগ বসায়, সেই দলের আমলেই এমন বর্বরতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ২০০১-০৬ সেই কালো অধ্যায়ের ভূত তাড়া করছে বাংলাদেশকে।
এই চরমপন্থী গোষ্ঠী ভাস্কর্য ভাঙে, কারণ ওরা ভাস্কর্যকে ‘মূর্তি’ বলে বিষবৃক্ষ রোপণ করে। হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার পেছনে সেই মৌলবাদী চিন্তার কারিগর তারাই, যারা একাত্তরে পাকিস্তানের পক্ষে দালালি করেছিল। ক্ষমতার মসনদে বসে বিএনপি এখন চুপ, প্রশাসন তলবি শক্তির কাছে জিম্মি আর থানার বারান্দা পর্যন্ত যেন দখল হয়ে গেছে। নির্লজ্জের মতো জামায়াত সংসদে বসে রাষ্ট্র পরিচালনার ভাগ চায়, আর তাদের মদদপুষ্ট লোকেরা রাতের অন্ধকারে বীরের স্মৃতি গুঁড়িয়ে দেয়।
ঝিনাইদহের এই ঘটনা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থানের প্রতিচ্ছবি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় প্রশাসনের চোখে সর্ষে ফুল দেখা যখন জামায়াত-বিএনপির কথিত ‘বোঝাপড়া’-র ফসল। ভাইয়ের ভাঙা মুখের সামনে দাঁড়িয়ে রিজিয়া বেগমের প্রশ্ন এখন সবার প্রশ্ন: এই স্মৃতি রক্ষার দায়িত্ব কি রাজাকারের বাচ্চা আর নাতিপুতিদের হাতে তুলে দিয়েছি আমরা সজ্ঞানে?

