বাচ্চাদের জন্য ভিটামিন কিনতে পারছে না বিএনপি, অথচ দেশ চালানোর স্বপ্ন দেখে!

দুই কোটির বেশি শিশু টানা ১৪ মাস ধরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের একটা ডোজও পায়নি। এটা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল না, কোনো যুদ্ধের ফলও না। এটা নিখাদ শাসকগোষ্ঠীর অযোগ্যতা, উদাসীনতা আর দুর্নীতির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। যে দলটা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের সেই তামাশার নির্বাচনে দেশের বড় বড় সব রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে, সেই বিএনপি আজও শিশুদের জন্য কয়েক কোটি টাকার ক্যাপসুল কেনার ব্যবস্থা করতে পারল না। অথচ এই একই দল বিদেশী ষড়যন্ত্রে শরিক হতে, জামায়াতের জঙ্গি শক্তির সাথে হাত মেলাতে, আর জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গা বাঁধিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এক সেকেন্ড সময় নষ্ট করেনি।

একটু পেছনে তাঁকানো যাক যে সংকটটা কীভাবে তৈরি হলো। ২০২৪ সালের জুনে স্বাস্থ্য খাতের অপারেশনাল প্ল্যান শেষ হয়। তারপর নতুন পরিকল্পনা অনুমোদনে টানা বিলম্ব, তিন দফা দরপত্র ডেকে ব্যর্থতা, বাজারমূল্যের চেয়ে চড়া দরের অজুহাতে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল। শেষমেশ গত ১৮ মার্চ সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ইউনিসেফকে ৭১ লাখ ক্যাপসুল সংগ্রহের চিঠি দেয়া হয়, ২৩ মে ১৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দও দেয়া হয়। টাকা দেবার পরও ইউনিসেফ নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করতে পারেনি। এটি কী বুঝায়? একেবারে অপরিণামদর্শী পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওপর গোলামী নির্ভরতা, আর নিজস্ব কোনো জরুরি সক্ষমতার বিন্দুমাত্র অভাব। ৪০৬ কোটি টাকার হামের টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার যে সিদ্ধান্ত গত ফেব্রুয়ারিতে নেয়া হয়েছিল, তার ফলাফলও শূন্য। শিশুস্বাস্থ্য এই সরকারের কাছে মোটেও অগ্রাধিকার না।

এখন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেছেন, দীর্ঘদিন ভিটামিন ‘এ’ বন্ধ থাকায় হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে, বাড়ছে নিউমোনিয়া আর ডায়রিয়ার জটিলতা, সরাসরি মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. এম মুশতাক হোসেন মনে করেন, এই ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে চোখে না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদী পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। অথচ ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে চলে আসা এই কার্যক্রম ১৯৯৫ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাথে যুক্ত করে আরও জোরদার করা হয়েছিল, ২০০৩ সালে নাম দেয়া হয়েছিল জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। ২০১১ সালে এটি জাতীয় পুষ্টিসেবার অধীনে আসে। দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা এই সাফল্যের স্থাপত্য ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে মাত্র ১৪ মাসের এক অযোগ্য শাসন।

এখন প্রশ্ন হলো, কেন এই অচলাবস্থা? কারণটা প্রকাশ্য দিবালোকের মতো প্রকাশিত। সেনানিবাসে জন্ম নেয়া জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি আর যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের এই জোট কখনো জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে না, ভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল নিয়ে। ইউনুস চলে গেছেন বটে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া কাঠামো আর মদদপুষ্ট এই বিএনপি-জামায়াত শাসন আজও টিকে আছে বিদেশী রাষ্ট্রের টাকায় আর সামরিক বাহিনীর ছত্রছায়ায়। যাদের ভোট কিনতে হয়, জনগণের সেবা করতে হয় না, তাদের কাছে দুই কোটি শিশুর চোখের আলো আর জীবন মৃত্যুর হিসাব কষার বিষয় না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলছেন, আগামী ২৭ জুন নতুন করে ক্যাম্পেইনের চেষ্টা হবে। এটি আরেক ধোঁকা ছাড়া কিছু নয়। যে শাসকেরা টানা ১৪ মাস একটা জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ, তাদের কাছ থেকে আগামী তিন সপ্তাহে কোনো অলৌকিক সমাধান আসবে না। এটি সময়ক্ষেপণের কৌশল, জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর ছলনা। জাতি হিসেবে আমাদের এখন বোঝার সময় এসেছে, এই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলদারদের কাছে নাগরিক জীবনের কোনো মূল্য নেই। তাদের দুর্নীতি আর অদক্ষতা সরাসরি শিশুহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাই বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনের প্রথম বড় অর্জন।

দুই কোটির বেশি শিশু টানা ১৪ মাস ধরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের একটা ডোজও পায়নি। এটা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল না, কোনো যুদ্ধের ফলও না। এটা নিখাদ শাসকগোষ্ঠীর অযোগ্যতা, উদাসীনতা আর দুর্নীতির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। যে দলটা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের সেই তামাশার নির্বাচনে দেশের বড় বড় সব রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে, সেই বিএনপি আজও শিশুদের জন্য কয়েক কোটি টাকার ক্যাপসুল কেনার ব্যবস্থা করতে পারল না। অথচ এই একই দল বিদেশী ষড়যন্ত্রে শরিক হতে, জামায়াতের জঙ্গি শক্তির সাথে হাত মেলাতে, আর জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গা বাঁধিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এক সেকেন্ড সময় নষ্ট করেনি।

একটু পেছনে তাঁকানো যাক যে সংকটটা কীভাবে তৈরি হলো। ২০২৪ সালের জুনে স্বাস্থ্য খাতের অপারেশনাল প্ল্যান শেষ হয়। তারপর নতুন পরিকল্পনা অনুমোদনে টানা বিলম্ব, তিন দফা দরপত্র ডেকে ব্যর্থতা, বাজারমূল্যের চেয়ে চড়া দরের অজুহাতে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল। শেষমেশ গত ১৮ মার্চ সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ইউনিসেফকে ৭১ লাখ ক্যাপসুল সংগ্রহের চিঠি দেয়া হয়, ২৩ মে ১৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দও দেয়া হয়। টাকা দেবার পরও ইউনিসেফ নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করতে পারেনি। এটি কী বুঝায়? একেবারে অপরিণামদর্শী পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওপর গোলামী নির্ভরতা, আর নিজস্ব কোনো জরুরি সক্ষমতার বিন্দুমাত্র অভাব। ৪০৬ কোটি টাকার হামের টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার যে সিদ্ধান্ত গত ফেব্রুয়ারিতে নেয়া হয়েছিল, তার ফলাফলও শূন্য। শিশুস্বাস্থ্য এই সরকারের কাছে মোটেও অগ্রাধিকার না।

এখন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেছেন, দীর্ঘদিন ভিটামিন ‘এ’ বন্ধ থাকায় হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে, বাড়ছে নিউমোনিয়া আর ডায়রিয়ার জটিলতা, সরাসরি মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. এম মুশতাক হোসেন মনে করেন, এই ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে চোখে না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদী পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। অথচ ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে চলে আসা এই কার্যক্রম ১৯৯৫ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাথে যুক্ত করে আরও জোরদার করা হয়েছিল, ২০০৩ সালে নাম দেয়া হয়েছিল জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। ২০১১ সালে এটি জাতীয় পুষ্টিসেবার অধীনে আসে। দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা এই সাফল্যের স্থাপত্য ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে মাত্র ১৪ মাসের এক অযোগ্য শাসন।

এখন প্রশ্ন হলো, কেন এই অচলাবস্থা? কারণটা প্রকাশ্য দিবালোকের মতো প্রকাশিত। সেনানিবাসে জন্ম নেয়া জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি আর যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের এই জোট কখনো জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে না, ভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল নিয়ে। ইউনুস চলে গেছেন বটে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া কাঠামো আর মদদপুষ্ট এই বিএনপি-জামায়াত শাসন আজও টিকে আছে বিদেশী রাষ্ট্রের টাকায় আর সামরিক বাহিনীর ছত্রছায়ায়। যাদের ভোট কিনতে হয়, জনগণের সেবা করতে হয় না, তাদের কাছে দুই কোটি শিশুর চোখের আলো আর জীবন মৃত্যুর হিসাব কষার বিষয় না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলছেন, আগামী ২৭ জুন নতুন করে ক্যাম্পেইনের চেষ্টা হবে। এটি আরেক ধোঁকা ছাড়া কিছু নয়। যে শাসকেরা টানা ১৪ মাস একটা জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ, তাদের কাছ থেকে আগামী তিন সপ্তাহে কোনো অলৌকিক সমাধান আসবে না। এটি সময়ক্ষেপণের কৌশল, জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর ছলনা। জাতি হিসেবে আমাদের এখন বোঝার সময় এসেছে, এই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলদারদের কাছে নাগরিক জীবনের কোনো মূল্য নেই। তাদের দুর্নীতি আর অদক্ষতা সরাসরি শিশুহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাই বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনের প্রথম বড় অর্জন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ