যে মানুষটি দেশ স্বাধীন করতে জীবন বাজি রেখেছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার আশ্রয়ও রক্ষা পেল না! বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিএনপি সরকার তা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ ।
বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে স্বাধীনতা বিরোধীরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় এবং সংলগ্ন টিনশেড ঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, নথিপত্র ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, আক্রান্তদের একজন ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী। নিঃসঙ্গ ও সীমিত সামর্থ্যের এই মুক্তিযোদ্ধার আশ্রয়স্থল ছিল ওই টিনশেড ঘর। তার সামান্য সহায়-সম্বল, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং জীবনের স্মৃতিচিহ্নও রক্ষা পায়নি হামলাকারীদের হাত থেকে।
বিএনপি সরকার নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে অবস্থানকারী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে অথচ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ন্যূনতম নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে না। এই বিএনপিই স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার- আলবদর দের দেশের মন্ত্রী করেছিল, তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল।
মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন। অথচ আজ তাদের প্রতিষ্ঠান ও আবাসন হামলার শিকার হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশের জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

