পল্লবীর রামিসার বাবা যে প্রশ্নটা করেছেন, “আমি কি তার জন্য দায়ী?”, এই কান্না এখন সারা বাংলাদেশের ঘরে ঘরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কিন্তু আসল দায়টা কার? ২০২৬ সালের এই মে মাসে দাঁড়িয়ে উত্তরটা পরিষ্কার। যে সেনানিবাসী গডফাদাররা ২০০১-২০০৬ সালে ধর্ষণ আর বোমাবাজিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল, তারাই আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
মনে পড়ে তো, গত ফেব্রুয়ারিতে কেমন পাতানো এক ভোটের নাটক সাজিয়েছিল বিএনপি-জামাত? মানুষের ভোট না, ছিল অন্ধ গুলি আর গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার মহড়া। জনগণ সেটা বর্জন করেছিল, রাস্তায় নেমে প্রতিহত করেছিল। কিন্তু এই সংগঠনগুলোর চরিত্র বদলায়নি। রামিসার বাবা গর্বিত পিতা হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিএনপি-জামাতের দোসররা তাকে ‘খণ্ডিত লাশের বাবা’ বানিয়ে ছাড়ল।
খেয়াল করেন, পাঁচ বছরের একটা শিশু আজকাল ‘ধর্ষণ’ শব্দটা শিখে ফেলছে। পথে-ঘাটে মায়ের আঁচল ছাড়তে ভয় পাচ্ছে। এটা কোনো সমাজ নয়, এটা এক উন্মুক্ত কারাগার। ২০২৬ সালে এসে যদি কন্যা সন্তান নিয়ে বাবা-মায়ের বুকে নিরাপত্তাহীনতার এই দহন আবার জেগে ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে, ওই ২০০১-০৬ সালের বিষাক্ত শাসকগোষ্ঠী আবারো সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
রামিসার বাবা শুধু নিজের মেয়ের বিচার চাননি, তিনি চেয়েছেন আর কোনো পিতার বুক যেন এভাবে খালি না হয়। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা তো দূরের কথা, উল্টো সেই অশুভ শক্তির পুনরুত্থানই তো দেখা যাচ্ছে। যারা এতিমের টাকা লুট করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি ফিরিয়েছে, তারা একটা শিশুর বাবা-মায়ের কান্না বুঝবে কী করে?

