নরসিংদীর হক টেক্সটাইলে বয়লার অপারেটর শাখাওয়াতের বয়ানেই পুরো ঘটনাটা আগে শোনা যাক। আগে ঝুটকাপড় পুড়িয়ে বয়লার চালাতেন তিনি। এখন ঝুটকাপড়ও মহার্ঘ, তাই কাঠ। একটা দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা যখন উনিশ শতকের জ্বালানি পদ্ধতিতে ফিরে যায়, সেটা একটা রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের প্রতিচ্ছবি।
প্রতিদিন তিনশ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। চারশর বেশি গ্যাসনির্ভর কারখানার মধ্যে শতাধিক তিন দিন ধরে বন্ধ। মোমিন টেক্সটাইলের দশ ইউনিটের সাতটাই বন্ধ, আড়াই হাজার শ্রমিকের মধ্যে দেড় হাজার এখন অলস বসে। আল মদিনা টেক্সটাইলে দিনে এক লাখ গজ কাপড়ের জায়গায় এখন ত্রিশ হাজার গজও হচ্ছে না, দেড়শ শ্রমিকের মধ্যে একশজনকে ছুটিতে পাঠাতে হয়েছে। এগুলো পরিসংখ্যান না, এগুলো একেকটা পরিবারের সংসার ভাঙার হিসাব।
আগস্টের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়া সংকট তিন সপ্তাহেও সামাল দিতে পারেনি সরকার। তিতাস গ্যাসের নিজস্ব হিসাবেই চাহিদার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় বসা সরকার ছয় মাসে এই পুরনো সমস্যার কোনো টেকসই সমাধান দেখাতে পারেনি। বরং কারখানা মালিকরা এখন নিজেদের টাকায় এলপিজি কিনছেন, কাঠ কিনছেন, রপ্তানি আদেশ হারানোর ঝুঁকি একা মাথায় নিচ্ছেন।
মোমিন টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আক্ষেপ করে জানাচ্ছেন, বিদেশি ক্রেতারা প্রতিনিয়ত গ্যাস আর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করছেন। রপ্তানি অর্থনীতির দেশে ক্রেতার আস্থা যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, সেটা শুধু একটা জেলার সংকট থাকে না, পুরো অর্থনীতির সিগন্যাল হয়ে দাঁড়ায়। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা না, এটা একটা সরকারের ন্যূনতম দায়িত্ব। সেই ন্যূনতম জায়গাতেই এখন বড়সড় ফাঁক দেখা যাচ্ছে।

