বিএনপি-জামাতের শিল্প ধ্বংসের পুনরাবৃত্তি: সাত মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, বেকার ৬১ হাজার শ্রমিক

কারখানা বন্ধের খবর এখন আর খবরই থাকছে না, হয়ে গেছে নিত্যদিনের চিত্র। গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, ভালুকা থেকে শুরু করে সারাদেশে একই দৃশ্য। ফটকে ফটকে ঝুলছে বন্ধের নোটিশ, লাখ লাখ শ্রমিক ঘরে ফিরে যাচ্ছেন অন্ধকার ভবিষ্যৎ নিয়ে। অথচ যাদের দায়িত্ব ছিল এই শিল্প বাঁচানোর, তারা কিনা ব্যস্ত নিজেদের ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারায়।

ছয় মাসে ২৭ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। গাজীপুরে ৫৪, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ২৩, সাভার ও আশুলিয়ায় ১৮ কারখানা বন্ধ মানে ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিকের কর্মহীন জীবন। দুই বছরের হিসাবে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট। অথচ এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, প্রতিটা সংখ্যার পেছনে একটা করে সংসার, বাচ্চাদের স্কুল ফি, বাড়িওয়ালার তাগাদা, ঋণের বোঝা।

ভালুকার চিত্র তো আরও ভয়ংকর। ৯৯ গ্যাসচালিত কারখানার প্রায় সবগুলোই এখন অচল। ২০ কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের আগেই ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্যাস নেই বলে কারখানা খোলা রাখাই এখন মালিকদের জন্য ক্ষতির কারণ। উল্টো দিকে শ্রমিকরা কাজে গিয়েও ফিরে আসছেন হাতে খালি, পকেটে শূন্য।

বিএনপি-জামাত শাসনের সেই পুরনো চেনা ছবি আবার ফিরে এসেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও শিল্প ধ্বংসের যে নীতি ছিল, ২০২৬ সালে আবার সেই একই দৃশ্যপট। তখনও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, কারখানায় তালা, শ্রমিকের রাস্তায় নামা, লাঠিচার্জ, মামলা-হামলা। ইতিহাস যেন আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে। পার্থক্য শুধু একটাই, তখন যেমন কোনো জবাবদিহি ছিল না, এখনো নেই।

বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিদিন। টিএমএস অ্যাপারেলস, নায়াগ্রা টেক্সটাইল, মাহমুদ জিন্স, পলিকন লিমিটেড, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, প্রিয়াঙ্কা ফ্যাশন, জাভান টেক্স, গ্রিন বাংলা হোম টেক্স, এশিয়ান ফ্যালকন গার্মেন্টস, লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানা, ইউনিক ওয়াশিং, ইসলাম গার্মেন্টস, ফ্যাশন ফোরাম, জেএ অ্যাপারেলস। নামগুলো পড়তে পড়তে মনে হবে এ কোনো কারখানার তালিকা না, এ যেন একেকটা শ্রমিক পরিবারের শেষ হওয়ার খতিয়ান।

বিষয়টা শুধু কারখানা বন্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত আছে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড়, হাজার হাজার কোটি টাকার রফতানি আদেশ বাতিল, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা হারানো, স্থানীয় বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্বের কারণে অপরাধ বৃদ্ধি, শ্রমিক অসন্তোষ থেকে সহিংসতা। সব মিলিয়ে একটা গোটা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্যাকেজ।

বিকেএমইএ সভাপতি নিজেই বলছেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দুর্বল কারখানাগুলো আরও চাপে পড়বে। মহিউদ্দিন রুবেলের কথায় স্পষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঝুঁকি আরও বাড়বে। অথচ শিল্প মালিকদের এই আর্তিও যেন বধির কানে যাচ্ছে। রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাবের কাছে দেশের শিল্প, শ্রমিক, রফতানি সবই এখন গৌণ।

ছুটি কি শুধুই ছুটি থাকবে, নাকি এই ছুটিই একদিন স্থায়ী বন্ধের নোটিশ হয়ে যাবে, সেই উত্তর কারও কাছে নেই। গ্যাস নেই, তাই উৎপাদন নেই, তাই মজুরি নেই, তাই ভাতের নিশ্চয়তা নেই। এই শূন্যতার বৃত্ত থেকে বের হওয়ার কোনো পথ দেখাতে পারছে না যারা আজ ক্ষমতায় বসে আছেন। তাদের ব্যস্ততা এখন শুধু নিজেদের মেয়াদ টিকিয়ে রাখা নিয়ে।

লাখ লাখ শ্রমিকের চোখের পানির দাম যাদের কাছে নেই, তাদের কাছে দেশ চালানোর নৈতিক অধিকারও নেই। কারখানা বন্ধের এই মিছিল যদি থামাতে না পারে রাজনীতি, তাহলে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। আর ক্ষমা না করলেও যে বিশেষ কিছু হবে না, সেটাই সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। কারণ বিচার চাওয়ার মতো শক্তিও এখন ক্লান্ত, নিঃস্ব, গৃহহারা শ্রমিকের হাতে আর নেই।

কারখানা বন্ধের খবর এখন আর খবরই থাকছে না, হয়ে গেছে নিত্যদিনের চিত্র। গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, ভালুকা থেকে শুরু করে সারাদেশে একই দৃশ্য। ফটকে ফটকে ঝুলছে বন্ধের নোটিশ, লাখ লাখ শ্রমিক ঘরে ফিরে যাচ্ছেন অন্ধকার ভবিষ্যৎ নিয়ে। অথচ যাদের দায়িত্ব ছিল এই শিল্প বাঁচানোর, তারা কিনা ব্যস্ত নিজেদের ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারায়।

ছয় মাসে ২৭ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। গাজীপুরে ৫৪, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ২৩, সাভার ও আশুলিয়ায় ১৮ কারখানা বন্ধ মানে ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিকের কর্মহীন জীবন। দুই বছরের হিসাবে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট। অথচ এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, প্রতিটা সংখ্যার পেছনে একটা করে সংসার, বাচ্চাদের স্কুল ফি, বাড়িওয়ালার তাগাদা, ঋণের বোঝা।

ভালুকার চিত্র তো আরও ভয়ংকর। ৯৯ গ্যাসচালিত কারখানার প্রায় সবগুলোই এখন অচল। ২০ কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের আগেই ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্যাস নেই বলে কারখানা খোলা রাখাই এখন মালিকদের জন্য ক্ষতির কারণ। উল্টো দিকে শ্রমিকরা কাজে গিয়েও ফিরে আসছেন হাতে খালি, পকেটে শূন্য।

বিএনপি-জামাত শাসনের সেই পুরনো চেনা ছবি আবার ফিরে এসেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও শিল্প ধ্বংসের যে নীতি ছিল, ২০২৬ সালে আবার সেই একই দৃশ্যপট। তখনও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, কারখানায় তালা, শ্রমিকের রাস্তায় নামা, লাঠিচার্জ, মামলা-হামলা। ইতিহাস যেন আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে। পার্থক্য শুধু একটাই, তখন যেমন কোনো জবাবদিহি ছিল না, এখনো নেই।

বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিদিন। টিএমএস অ্যাপারেলস, নায়াগ্রা টেক্সটাইল, মাহমুদ জিন্স, পলিকন লিমিটেড, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, প্রিয়াঙ্কা ফ্যাশন, জাভান টেক্স, গ্রিন বাংলা হোম টেক্স, এশিয়ান ফ্যালকন গার্মেন্টস, লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানা, ইউনিক ওয়াশিং, ইসলাম গার্মেন্টস, ফ্যাশন ফোরাম, জেএ অ্যাপারেলস। নামগুলো পড়তে পড়তে মনে হবে এ কোনো কারখানার তালিকা না, এ যেন একেকটা শ্রমিক পরিবারের শেষ হওয়ার খতিয়ান।

বিষয়টা শুধু কারখানা বন্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত আছে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড়, হাজার হাজার কোটি টাকার রফতানি আদেশ বাতিল, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা হারানো, স্থানীয় বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্বের কারণে অপরাধ বৃদ্ধি, শ্রমিক অসন্তোষ থেকে সহিংসতা। সব মিলিয়ে একটা গোটা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্যাকেজ।

বিকেএমইএ সভাপতি নিজেই বলছেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দুর্বল কারখানাগুলো আরও চাপে পড়বে। মহিউদ্দিন রুবেলের কথায় স্পষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঝুঁকি আরও বাড়বে। অথচ শিল্প মালিকদের এই আর্তিও যেন বধির কানে যাচ্ছে। রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাবের কাছে দেশের শিল্প, শ্রমিক, রফতানি সবই এখন গৌণ।

ছুটি কি শুধুই ছুটি থাকবে, নাকি এই ছুটিই একদিন স্থায়ী বন্ধের নোটিশ হয়ে যাবে, সেই উত্তর কারও কাছে নেই। গ্যাস নেই, তাই উৎপাদন নেই, তাই মজুরি নেই, তাই ভাতের নিশ্চয়তা নেই। এই শূন্যতার বৃত্ত থেকে বের হওয়ার কোনো পথ দেখাতে পারছে না যারা আজ ক্ষমতায় বসে আছেন। তাদের ব্যস্ততা এখন শুধু নিজেদের মেয়াদ টিকিয়ে রাখা নিয়ে।

লাখ লাখ শ্রমিকের চোখের পানির দাম যাদের কাছে নেই, তাদের কাছে দেশ চালানোর নৈতিক অধিকারও নেই। কারখানা বন্ধের এই মিছিল যদি থামাতে না পারে রাজনীতি, তাহলে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। আর ক্ষমা না করলেও যে বিশেষ কিছু হবে না, সেটাই সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। কারণ বিচার চাওয়ার মতো শক্তিও এখন ক্লান্ত, নিঃস্ব, গৃহহারা শ্রমিকের হাতে আর নেই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ