বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষী—২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনকালে কীভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছিল। বাংলা ভাই ও আব্দুর রহমানের উত্থান, একযোগে দেশের ৬৪ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা, আগস্টের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর আস্ফালন সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম আতঙ্কের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল।
ইতিহাস যেন আবারও একই পথে হাঁটছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে আসা তথ্য ও পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই দেশে আবার ফিরে আসছে সিরিজ বোমা ও জঙ্গিবাদের সেই পুরনো কালো ছায়া। দেশে উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার পাঁয়তারা করছে।
১. কারাগার ভেঙে পালানো ও মুক্ত জঙ্গি: নরসিংদীসহ বিভিন্ন কারাগার ভেঙে এবং জামিনের মাধ্যমে বহু চিহ্নিত জঙ্গি ও উগ্রবাদী বাইরে বেরিয়ে এসেছে, যাদের বিশাল এক অংশের কোনো সন্ধান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই।
২. হঠাৎ বোমা ও বিস্ফোরকের উপস্থিতি: সাভার, আশুলিয়া, মতিঝিল থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা উদ্ধার ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে—উগ্রবাদী সেলগুলো আবার তাদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় করছে।
৩. আন্তর্জাতিক সতর্কতা: জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আল-কায়েদার আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে বিস্তৃত হওয়ার হুমকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
পরাজিত শক্তি এবং ক্ষমতার মদদপুষ্ট উগ্রবাদীরা সব সময় এই দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বা শিথিল নিরাপত্তার সুযোগে উগ্রবাদের এই পুনরুত্থানকে কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। দেশবাসীকে এই উগ্রবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং অপশক্তির প্রতিটি তৎপরতাকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে।

