সরকারি হাসপাতাল বিনামূল্যের সাইনবোর্ড টাঙালেও বাস্তবটা সম্পূর্ণ উলটো। হামে আক্রান্ত ১০ মাসের শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে মা নাজমা বেগমের ঋণের দায় মাথায় চেপেছে, স্বামীকে ছাড়তে হয়েছে রাজমিস্ত্রির কাজ। একই গল্প ফারজানা আক্তারের, সদ্য জলবসন্ত সেরে ওঠা পাঁচ মাসের শিশুকন্যা হামের কবলে পড়তেই শ্রীনগর থেকে ঢাকার পথ ধরেছেন।
চিকিৎসা ফ্রি, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, ওষুধের দাম আর হাসপাতালের করিডরে থাকা বাবা-মায়ের পেটের খাবারের খরচটুকুও তো ফ্রি নয়। সেটা জোগাড় করতে গিয়ে ছয়টি পরিবারের সঞ্চয় শূন্য, নয়টি পরিবারের ঘাড়ে ঋণের পাহাড়।
সবশেষ জরিপ বলছে, আক্রান্ত ৮৯ শতাংশ পরিবারকেই ধরতে হয়েছে ঋণের হাত। স্রেফ একজন অসুস্থ শিশুকে সুস্থ করবার গড় খরচ ১৬ হাজার টাকা, কখনো কখনো তা ছুঁয়েছে ৬৫ হাজার টাকার সীমা। অন্যদিকে এই সংসারগুলো মাস গেলে টানে মাত্র ৬ থেকে ২০ হাজার টাকা। কদিন হাসপাতালে থাকতে হলো, কদিন আয় বন্ধ।
মাদারীপুরের ভ্যানচালক টিটু নাকতি ছেলের চিকিৎসায় প্রতিবেশীর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধার করে এখন প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা সুদ গুনছেন। এ যেন এক মহামারীর নামে আরেক মহামারীর ফাঁদ পাতা। আর তখনই স্পষ্ট হয়, বিএনপি-জামাতের শাসনে স্বাস্থ্যসেবার বিনামূল্যের সাইনবোর্ডটা আড়াল করে রাখা হয়েছে দরিদ্র মানুষের সর্বনাশের খতিয়ানটা।

