শনিবার বিকাল ৪টা থেকে রবিবার বিকাল ৪টা, এই ২৪ ঘণ্টায় হাকিমপুরে বিদ্যুৎ গেছে ১১ বার। মানে গড়ে প্রতি দুই ঘণ্টার একটু বেশি সময় পরপর একবার অন্ধকার। চাহিদা ৮ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৩। অর্থাৎ মানুষের প্রাপ্য বিদ্যুতের ৬২ শতাংশের বেশি সরকার দিতেই পারছে না। এই অংকটা মাসের পর মাস ধরে চলা একটা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার অকাট্য প্রমাণ।
সবচেয়ে ভয়ংকর স্বীকারোক্তিটা এসেছে খোদ কর্তৃপক্ষের মুখ থেকেই, “বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।” এই একটা স্বীকারোক্তিতেই আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসে, সংকট আকস্মিক না, পূর্বজ্ঞাত। জেনেশুনে সরবরাহের অর্ধেকেরও কম দিয়ে একটা উপজেলাকে চালানো, আর সেটাকে নিয়তি বলে চালিয়ে দেওয়া, এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক আছে।
রমিজ উদ্দিন হাসপাতালের বেডে শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিন দিন ধরে ভর্তি, গরমে বিদ্যুৎ গেলে যার কষ্ট বাড়ে কয়েকগুণ। ছাতনী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ইজিবাইকের ব্যাটারি সারাদিন চার্জে রেখেও অর্ধেক ভরে না, তার আয়ও নেমেছে অর্ধেকে। এরা কেউ পরিসংখ্যানের সংখ্যা না, এরা এমন এক রাষ্ট্রের নাগরিক যেখানে ২০২৪ সালের পর ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, প্রতিশ্রুতি বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুতের তার আর জেনারেশন ক্যাপাসিটি ফিরে গেছে ২০০১-০৬ সালের বিএনপি-জামাতের অপশাসনের সময়ে।

