মহেশখালীর এফএসআরইউ চার দিন ধরে অচল। আগুন লেগেছিল না কারিগরি ত্রুটি, এখনো সেটাই পরিষ্কার করে বলতে পারেনি সরকার। অথচ প্রতিদিন সাড়ে চারশো মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে দেড় হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি, আর মেঘনা সুগার রিফাইনারির মতো কারখানা নেমে এসেছে সক্ষমতার এক-চতুর্থাংশে।
মন্ত্রী বলছেন, রাতারাতি উন্নতির সুযোগ নেই, কারণ দুটো এফএসআরইউ দিয়ে যা আমদানি হচ্ছে তার বেশি আনার উপায় নেই। এই কথাটাই আসল গোমড় ফাঁস করে দেয়। দেশের দৈনিক গ্যাস চাহিদা চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো, সরবরাহ হয় সাড়ে সাতাশশো এর আশপাশে। মানে স্বাভাবিক সময়েই তেরোশো মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতি নিয়ে দেশ চলে। একটা টার্মিনাল বিকল হওয়াটা তাই কারণ না, উপসর্গ মাত্র। আসল রোগ আগে থেকেই ছিল, আর সেটা জানা সত্ত্বেও বিকল্প মজুদ বা জরুরি ব্যাকআপের কোনো পরিকল্পনা রাখা হয়নি।
একশোটা কূপ খননের ঘোষণা এসেছে, কিন্তু বাস্তবে অনুমোদন পেয়েছে মোটে পাঁচটা প্রকল্প। এই ফারাকটাই বলে দেয়, কাগজে পরিকল্পনা যতটা আছে, ফিল্ডে প্রয়োগের বেলায় একদমই নেই। যে দল আর তার শরিক নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের, ক্ষমতায় বসার কয়েক মাসের মধ্যেই তারা একই পুরনো প্যাটার্নে ফিরে গেছে, সংকট এলে দুঃখ প্রকাশ, তারপর অপেক্ষা।
শ্রমিকের বেতন দেয়ার সময় এগিয়ে আসছে, রপ্তানি আদেশ ঝুঁকিতে, আর রান্নাঘরে চুলা জ্বলছে না দিনের বেশিরভাগ সময়। এই তিনটে সংকট একসাথে সামলানোর মতো প্রস্তুতি সরকারের কাছে ছিল না, এখনো নেই। প্রশ্নটা তাই টেকনিক্যাল ত্রুটির না, দায়িত্বে থাকা মানুষগুলোর পরিকল্পনার অভাবের।

