বগুড়ার সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ১৯ বছর পর আদালত থেকে তার বেতার যন্ত্রপাতি ফিরে পেয়েছেন। এইসব টাওয়ার, রিপিটার আর ওয়াকিটকি জব্দ হয়েছিল ২০০৭ সালে। প্রশ্ন হচ্ছে, ২০০৭ সালে একজন বিএনপি নেতার বাড়িতে এই বেতার সরঞ্জামের প্রয়োজন কী ছিল? মিডিয়া আর আদালতের রিপোর্ট বলছে, লালু তখন জঙ্গি আর চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। এগুলো কি সেই অপারেশন পরিচালনার জন্যই কেনা হয়েছিল?
২০২৬ সালের জুলাই মাস। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যে অন্ধকার দেখেছে, সেই একই বিষাক্ত ছায়া আবার নেমে এসেছে পুরো দেশজুড়ে। যাদের হাতে তখন রক্ত লেগেছিল, তারাই আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদে। লালু তো শুধু প্রতীক। দলের তাবৎ দালাল, দখলবাজ আর সন্ত্রাসীরা এখন নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে।
এক একটি ওয়াকিটকির দাম তৎকালীন সময়ে লাখ টাকারও বেশি ছিলো বলে জানা গেছে। দেশের মানুষের পেটে ভাত জুটতো না, আর একজন এমপির চাই ওয়াকিটকি সেট! কার সাথে অদৃশ্য যোগাযোগ রাখতে এগুলো লাগতো? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যৌথ বাহিনী জব্দ করেছিল, হাইকোর্ট মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে, এখন নষ্ট মালামাল ফেরত পেয়ে ক্ষতিপূরণ চাওয়ারও হুমকি দিচ্ছে তার পরিবার। দেশটা কার, আইনটাই বা কাদের জন্য?
একটা রাষ্ট্র যখন তার দোসরদের আর সন্ত্রাসীদের এভাবে পুরস্কৃত করে, তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বোধহয় শুধু এটাই বলার থাকে, বিএনপির সেই অশুভ সময় কখনোই শেষ হয়নি। বরং আরো সাংগঠনিক, আরো আইনি চেহারা নিয়ে আবার ফিরেছে।

