ইদানীং ভোরে ঢাকার রাস্তায় নামলে জীবনটা আর নিজের থাকে না। সেটা আবারও প্রমাণ করলো জাতীয় সংসদের সামনের সড়ক, যেখানে রিকশায় হাসপাতাল যাওয়া এক নারী শিক্ষিকার ব্যাগ ধরে টান দিলো ছিনতাইকারীরা। চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে মাথায় আঘাত, হাসপাতালে মৃত্যু। ঘটনাটা ২০২৬ সালের ২৯ আগস্টের। জায়গাটা দেশের সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা, কিন্তু সেখানেই নির্ভয়ে খুন হলো একজন মানুষ!
এমন ঘটনা এখন প্রতিদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬, প্রতি বছরই ভোরের ঢাকায় ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ যাচ্ছে। পুলিশ কনস্টেবল মনিরুজ্জামান খুন হয়েছেন ফার্মগেটে, অটোরিকশাচালক নয়নকে কুপিয়ে নিয়ে গেছে তার গাড়ি, কর্মস্থলমুখী মানুষগুলোও রেহাই পাচ্ছে না। কুতুবখালীতে পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত, মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারী ধরা পড়েছে গণপিটুনিতে, অথচ পরিস্থিতির বদল নেই।
অথচ দায়িত্ব কার? ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছেই তথ্য আছে, বছরে পাঁচশর বেশি ছিনতাইয়ের মামলা হয়। তেজগাঁও, ওয়ারী, মতিঝিল, মিরপুর, গুলশান সব বিভাগেই হটস্পট চিহ্নিত। ফার্মগেট, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, ভাটারা, সংসদ ভবন এলাকা, এমনকি বিমানবন্দর সড়কও ছিনতাইকারীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র। রাত দুইটার পর রাস্তা ফাঁকা, ভোরে বাস ট্রেন থেকে নামা মানুষগুলোর গতিপথ নির্দিষ্ট, দোকানপাট বন্ধ, প্রত্যক্ষদর্শী নেই আর ছিনতাইকারীর মোটরসাইকেলে পালানোর সুযোগ, এই চার কারণেই ভোররাত এখন মৃত্যুফাঁদ।
২০২৫ সালে ৫৩১ মামলা, গ্রেপ্তার ১৪৩৫। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৭২ মামলা, গ্রেপ্তার ৪০২। সংখ্যাটা দেখলে মনে হবে পুলিশ কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবে সকালে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষের বুকে আতঙ্ক, ভোরের রাস্তায় রক্তের দাগ। গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়লেও ছিনতাইকারীর সাহস কমেনি, বরং তারা এখন সংসদ ভবনের সামনেই খুন করার দুঃসাহস দেখায়।
আর এত কিছুর মধ্যেও ক্ষমতাসীন বিএনপি আর তাদের শরিক জামাতে ইসলামের নেতারা ব্যস্ত নিজেদের ক্ষমতার ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও ঢাকার রাস্তায় একই আতঙ্ক ছিল, সেই বিএনপি-জামাত আবারও ক্ষমতায় এসে একই ছবি এঁকে দিচ্ছে।
জনগণের নিরাপত্তা তাদের কাছে চায়ের কাপের আড্ডার গল্প ছাড়া কিছু না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থানায় মামলা নেয়, গ্রেপ্তার দেখায়, কিন্তু ভোরের ঢাকা এখনো অরক্ষিত, অসহায় মানুষের রক্তে ভেজা।

