স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে আজ পর্যন্ত—নারী সমাজকে খাটো করা এবং রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোই কি জামায়াতের মূল হাতিয়ার? সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপি গাজী নজরুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে জামায়াত নেতা মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের সাম্প্রতিক বক্তব্য কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, তা পুরো নারীজাতির চরম অবমাননা।
সাতক্ষীরা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সম্প্রতি সাতক্ষীরায় এক অনুষ্ঠানে নিজ দলের সাবেক এমপি গাজী নজরুলের অনৈতিক ঘটনার সাফাই গাইতে গিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সমগ্র নারীজাতির জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। একটি অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘মেয়েটির অগাধ দাবি’ কিংবা ‘সেবায় নিয়োজিত থাকার আবদার’ বলে চালিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, তা জামায়াতের চরম নারীবিদ্বেষী ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকেই উন্মোচিত করে।
জামায়াতে ইসলামী বরাবরই এদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনের ওপর চালানো নারকীয় নির্যাতনে এই অপশক্তির ভূমিকা ইতিহাসের কালো পাতায় লিপিবদ্ধ। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তারা বিভিন্ন সময়ে নারীদের অগ্রগতি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে গোঁড়া মনোভাব প্রদর্শন করে এসেছে।
বহিষ্কারের দোহাই দিয়ে জামায়াত নিজেদের ‘নৈতিকতার প্রতীক’ হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে তাদের নেতাদের মুখে যখন অপরাধ আড়ালের জন্য নারীদের খাটো করার ভাষা বের হয়, তখন তাদের এই ‘নৈতিকতা’ সম্পূর্ণ ভণ্ডামিতে পরিণত হয়। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গিয়ে তারা একদিকে শাস্তির নাটক দেখায়, অন্যদিকে বক্তব্যের মাধ্যমে নারী সমাজকে ছোট করে।

