ইউনূস থেকে বিএনপি-জামাত: বাংলাদেশে খ্রীষ্টানদের ওপর নির্যাতনের উত্তরাধিকার কেবল বদলিয়েছে চেহারা

আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই দেশ এক বিভীষিকার মধ্য দিয়ে গেছে। ছাত্র-জনতার তথাকথিত আন্দোলনের নামে সংঘটিত হয়েছিল এক পরিকল্পিত নৃশংস ষড়যন্ত্র। বিদেশী শক্তির অর্থ, ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মদদ আর সামরিক বাহিনীর একটি অংশের প্রত্যক্ষ সমর্থনে দেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন ইউনূস। সেই সুদী মহাজন ও তার দোসররা সে সময় যে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তার বলি হয়েছে এ দেশের সাধারণ মানুষ। আর সেই তাণ্ডবের সবচেয়ে নীরব ও অসহায় শিকার হয়েছিলেন সংখ্যালঘু খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন।

আজ ২০২৬ সালের জুলাই। ইউনূসের সেই অপশাসনের অবসান ঘটেছে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি। বিএনপি এখন দেশের ক্ষমতায়। কিন্তু ক্ষমতার এই পালাবদল সংখ্যালঘু খ্রীষ্টানদের জীবনে কোনো স্বস্তি ফেরাতে পারেনি। যে নিপীড়নের সূচনা ইউনূসের আমলে হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে বিএনপি ও তাদের দোসর জামায়াত ঠিক সেই একই পথে হাঁটছে। সরকার বদলেছে বটে, কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ধরনটায় বিন্দুমাত্র বদল আসেনি। স্রেফ অত্যাচারীর চেহারা বদলেছে মাত্র।

সেই অন্ধকার সময়ে সরকারি চাকুরে কাননকে উন্মত্ত মব ঘিরে ধরে প্রশ্ন করেছিল, কেন সে খ্রীষ্টধর্ম পালন করছে। ভয়ার্ত কানন কাঁপা কাঁপা গলায় সাক্ষ্য দিয়েছিল, “আমি জানি, কেবল যীশুর মাধ্যমেই আমরা পরিত্রাণ পাই, তাঁকে ছাড়া আমাদের মুক্তি নেই।” জনতা তখন তার পরিবারে ব্যবহৃত বাইবেলগুলো খুঁজে বের করে উন্মত্তের মতো চিৎকার করতে থাকে। অভিযোগ করে, এই বাইবেল দিয়ে নাকি তারা অন্যকে ধর্মান্তরিত করছে! একসময় সেই ভিড়ের চাপ আর মৃত্যুভয় কাননকে ভেঙে ফেলে। চরম মানসিক চাপে সে তার বিশ্বাস অস্বীকার করে। এই ঘটনার পর থেকে ভয়ে দিশেহারা কানন এলাকা ছেড়ে পালায়। সে তার কর্মস্থলে ফিরে যেতে এখনো ভয় পায়। এই পুরো ঘটনাটি ঘটেছিল রাষ্ট্রীয় মদদে, কারণ তখন স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্রই ছিল আক্রমণকারীদের পক্ষে। আর এখনো সেই একই অবস্থা। বিএনপি-জামাতের শাসনেও খ্রীষ্টানদের ওপর হামলাকারীরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে, উল্টো অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্রয়ই পাচ্ছে।

কাননের মা কুলসুম, যিনি নিজেও খ্রীষ্টান, সেই ভয়াল অভিজ্ঞতার মধ্যেও ঈশ্বরের হাত দেখতে পান। তিনি বলেন, “এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমি প্রভুর প্রশংসা করি, কারণ এর ফলে জেলায় জেলায় এমনকি পুরো বাংলাদেশে বহু মানুষ যীশু খ্রীষ্টের নাম শুনেছে।” কিন্তু একইসঙ্গে তার আকুতি, “আমার ছেলের জন্য প্রার্থনা করবেন, যেন পবিত্র আত্মা তাকে সেই উত্তর দিতে সাহায্য করেন যা সে ওই সময় দিতে পারেনি। আর তার নিরাপত্তার জন্যও প্রার্থনা করবেন, কারণ একমাত্র প্রভুই আমাদের রক্ষা করতে পারেন।”

ইউনূসের আমলে সৃষ্ট সেই নৈরাজ্যের সুযোগ নিয়েছিল চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো, যারা প্রকাশ্য দিবালোকে খ্রীষ্টান ধর্মপ্রচারকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। আর এখন বিএনপি-জামাতের শাসনামলে সেই জঙ্গিরা যেন আরও নির্ভীক হয়ে উঠেছে। তারা জানে, ক্ষমতাসীনরা তাদের আদর্শগত সহযাত্রী। মধ্যাঞ্চলের এক এলাকায় যাজক কাশেম দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন ও অখ্রীষ্টান জনগোষ্ঠীর কাছে গসপেলের বাণী পৌঁছে দিচ্ছিলেন। তার এই আনন্দময় সাক্ষ্যই উগ্রবাদীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২০২৪ সালের ১৬ মে, বাড়ি ফেরার পথে চারজন ইসলামিক জঙ্গি তার ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। লাঠি দিয়ে অবিরাম প্রহার করে তারা হুঁশিয়ারি দেয়, “যদি আবার খ্রীষ্টধর্ম প্রচার করো বা গসপেল শেয়ার করো, তাহলে পরের বার আর রেহাই পাবে না।” এতটাই নৃশংস ছিল সেই হামলা যে, স্থানীয়রা এগিয়ে না এলে নিশ্চিতভাবেই তিনি মারা যেতেন। মানুষজন এগিয়ে আসায় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়, আর প্রায় মৃতপ্রায় যাজক কাশেমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি সরাসরি বলেছিলেন, “ওরা আমাকে আক্রমণ করেছে শুধু এই কারণে যে, আমি অখ্রীষ্টানদের মাঝে সুসংবাদ দিই।” সেসময় স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছিলেন, এই নির্মম হামলা এলাকার খ্রীষ্টান বিশ্বাসীদের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করলেও, একইসাথে তা অনেককে আরও সাহসী হয়ে প্রার্থনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাদের বার্তা ছিল, “প্রার্থনা করুন যেন যাজক কাশেম সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তার আহ্বানে অবিচল থাকতে পারেন।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, আজ ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দাঁড়িয়ে যাজক কাশেম কি নিরাপদ? বিএনপি-জামাতের এই শাসনামলে তার মতো ধর্মপ্রচারকদের ওপর হামলা কি থেমেছে? বাস্তবতা হলো, থামেনি। বরং ইউনূসের রেখে যাওয়া বিষবৃক্ষে জল দিয়ে চলেছে তারাই।

যে জামায়াত একসময় প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদকে উসকে দিত, যে বিএনপি ক্ষমতার লোভে সেই জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েছে, তাদের শাসনামলে খ্রীষ্টানদের জন্য পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠেছে। হামলার পর হামলা হচ্ছে, অথচ আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। কাননের মতো অসংখ্য মানুষ নিজের বিশ্বাস লুকিয়ে বেড়াচ্ছে, নিজের বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে, কর্মস্থলে ফিরতে পারছে না। কুলসুমের মতো মায়েরা সন্তানের নিরাপত্তার জন্য রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছেন। অথচ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আসছে না। বরং উল্টোটা হচ্ছে, সংখ্যালঘু খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের এই ধারা যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাতেই চলছে।

ইউনূস, বিএনপি কিংবা তাদের মিত্র জামায়াত, কেউই এই দেশের সংখ্যালঘু খ্রীষ্টানদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়নি, দিচ্ছে না। তিনটি পক্ষই একই ক্ষত বিস্তার করে চলেছে, শুধু মুখোশটা সময়ে সময়ে বদলাচ্ছে। ক্ষমতার এই নির্মম রাজনীতির শিকার হয়ে খ্রীষ্টান সম্প্রদায় নিঃশব্দে রক্তক্ষরণ করে যাচ্ছে। আর সেই ক্ষত থেকে গড়িয়ে পড়া রক্তের দাগ কেবল ইতিহাসই কোনোদিন চিহ্নিত করবে। হয়তো। যদি ততোদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে আদৌ কোনো খ্রীষ্টানদের অস্তিত্ব অবশিষ্ট থেকে থাকে!

আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই দেশ এক বিভীষিকার মধ্য দিয়ে গেছে। ছাত্র-জনতার তথাকথিত আন্দোলনের নামে সংঘটিত হয়েছিল এক পরিকল্পিত নৃশংস ষড়যন্ত্র। বিদেশী শক্তির অর্থ, ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মদদ আর সামরিক বাহিনীর একটি অংশের প্রত্যক্ষ সমর্থনে দেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন ইউনূস। সেই সুদী মহাজন ও তার দোসররা সে সময় যে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তার বলি হয়েছে এ দেশের সাধারণ মানুষ। আর সেই তাণ্ডবের সবচেয়ে নীরব ও অসহায় শিকার হয়েছিলেন সংখ্যালঘু খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন।

আজ ২০২৬ সালের জুলাই। ইউনূসের সেই অপশাসনের অবসান ঘটেছে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি। বিএনপি এখন দেশের ক্ষমতায়। কিন্তু ক্ষমতার এই পালাবদল সংখ্যালঘু খ্রীষ্টানদের জীবনে কোনো স্বস্তি ফেরাতে পারেনি। যে নিপীড়নের সূচনা ইউনূসের আমলে হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে বিএনপি ও তাদের দোসর জামায়াত ঠিক সেই একই পথে হাঁটছে। সরকার বদলেছে বটে, কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ধরনটায় বিন্দুমাত্র বদল আসেনি। স্রেফ অত্যাচারীর চেহারা বদলেছে মাত্র।

সেই অন্ধকার সময়ে সরকারি চাকুরে কাননকে উন্মত্ত মব ঘিরে ধরে প্রশ্ন করেছিল, কেন সে খ্রীষ্টধর্ম পালন করছে। ভয়ার্ত কানন কাঁপা কাঁপা গলায় সাক্ষ্য দিয়েছিল, “আমি জানি, কেবল যীশুর মাধ্যমেই আমরা পরিত্রাণ পাই, তাঁকে ছাড়া আমাদের মুক্তি নেই।” জনতা তখন তার পরিবারে ব্যবহৃত বাইবেলগুলো খুঁজে বের করে উন্মত্তের মতো চিৎকার করতে থাকে। অভিযোগ করে, এই বাইবেল দিয়ে নাকি তারা অন্যকে ধর্মান্তরিত করছে! একসময় সেই ভিড়ের চাপ আর মৃত্যুভয় কাননকে ভেঙে ফেলে। চরম মানসিক চাপে সে তার বিশ্বাস অস্বীকার করে। এই ঘটনার পর থেকে ভয়ে দিশেহারা কানন এলাকা ছেড়ে পালায়। সে তার কর্মস্থলে ফিরে যেতে এখনো ভয় পায়। এই পুরো ঘটনাটি ঘটেছিল রাষ্ট্রীয় মদদে, কারণ তখন স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্রই ছিল আক্রমণকারীদের পক্ষে। আর এখনো সেই একই অবস্থা। বিএনপি-জামাতের শাসনেও খ্রীষ্টানদের ওপর হামলাকারীরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে, উল্টো অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্রয়ই পাচ্ছে।

কাননের মা কুলসুম, যিনি নিজেও খ্রীষ্টান, সেই ভয়াল অভিজ্ঞতার মধ্যেও ঈশ্বরের হাত দেখতে পান। তিনি বলেন, “এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমি প্রভুর প্রশংসা করি, কারণ এর ফলে জেলায় জেলায় এমনকি পুরো বাংলাদেশে বহু মানুষ যীশু খ্রীষ্টের নাম শুনেছে।” কিন্তু একইসঙ্গে তার আকুতি, “আমার ছেলের জন্য প্রার্থনা করবেন, যেন পবিত্র আত্মা তাকে সেই উত্তর দিতে সাহায্য করেন যা সে ওই সময় দিতে পারেনি। আর তার নিরাপত্তার জন্যও প্রার্থনা করবেন, কারণ একমাত্র প্রভুই আমাদের রক্ষা করতে পারেন।”

ইউনূসের আমলে সৃষ্ট সেই নৈরাজ্যের সুযোগ নিয়েছিল চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো, যারা প্রকাশ্য দিবালোকে খ্রীষ্টান ধর্মপ্রচারকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। আর এখন বিএনপি-জামাতের শাসনামলে সেই জঙ্গিরা যেন আরও নির্ভীক হয়ে উঠেছে। তারা জানে, ক্ষমতাসীনরা তাদের আদর্শগত সহযাত্রী। মধ্যাঞ্চলের এক এলাকায় যাজক কাশেম দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন ও অখ্রীষ্টান জনগোষ্ঠীর কাছে গসপেলের বাণী পৌঁছে দিচ্ছিলেন। তার এই আনন্দময় সাক্ষ্যই উগ্রবাদীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২০২৪ সালের ১৬ মে, বাড়ি ফেরার পথে চারজন ইসলামিক জঙ্গি তার ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। লাঠি দিয়ে অবিরাম প্রহার করে তারা হুঁশিয়ারি দেয়, “যদি আবার খ্রীষ্টধর্ম প্রচার করো বা গসপেল শেয়ার করো, তাহলে পরের বার আর রেহাই পাবে না।” এতটাই নৃশংস ছিল সেই হামলা যে, স্থানীয়রা এগিয়ে না এলে নিশ্চিতভাবেই তিনি মারা যেতেন। মানুষজন এগিয়ে আসায় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়, আর প্রায় মৃতপ্রায় যাজক কাশেমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি সরাসরি বলেছিলেন, “ওরা আমাকে আক্রমণ করেছে শুধু এই কারণে যে, আমি অখ্রীষ্টানদের মাঝে সুসংবাদ দিই।” সেসময় স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছিলেন, এই নির্মম হামলা এলাকার খ্রীষ্টান বিশ্বাসীদের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করলেও, একইসাথে তা অনেককে আরও সাহসী হয়ে প্রার্থনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাদের বার্তা ছিল, “প্রার্থনা করুন যেন যাজক কাশেম সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তার আহ্বানে অবিচল থাকতে পারেন।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, আজ ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দাঁড়িয়ে যাজক কাশেম কি নিরাপদ? বিএনপি-জামাতের এই শাসনামলে তার মতো ধর্মপ্রচারকদের ওপর হামলা কি থেমেছে? বাস্তবতা হলো, থামেনি। বরং ইউনূসের রেখে যাওয়া বিষবৃক্ষে জল দিয়ে চলেছে তারাই।

যে জামায়াত একসময় প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদকে উসকে দিত, যে বিএনপি ক্ষমতার লোভে সেই জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েছে, তাদের শাসনামলে খ্রীষ্টানদের জন্য পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠেছে। হামলার পর হামলা হচ্ছে, অথচ আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। কাননের মতো অসংখ্য মানুষ নিজের বিশ্বাস লুকিয়ে বেড়াচ্ছে, নিজের বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে, কর্মস্থলে ফিরতে পারছে না। কুলসুমের মতো মায়েরা সন্তানের নিরাপত্তার জন্য রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছেন। অথচ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আসছে না। বরং উল্টোটা হচ্ছে, সংখ্যালঘু খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের এই ধারা যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাতেই চলছে।

ইউনূস, বিএনপি কিংবা তাদের মিত্র জামায়াত, কেউই এই দেশের সংখ্যালঘু খ্রীষ্টানদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়নি, দিচ্ছে না। তিনটি পক্ষই একই ক্ষত বিস্তার করে চলেছে, শুধু মুখোশটা সময়ে সময়ে বদলাচ্ছে। ক্ষমতার এই নির্মম রাজনীতির শিকার হয়ে খ্রীষ্টান সম্প্রদায় নিঃশব্দে রক্তক্ষরণ করে যাচ্ছে। আর সেই ক্ষত থেকে গড়িয়ে পড়া রক্তের দাগ কেবল ইতিহাসই কোনোদিন চিহ্নিত করবে। হয়তো। যদি ততোদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে আদৌ কোনো খ্রীষ্টানদের অস্তিত্ব অবশিষ্ট থেকে থাকে!

আরো পড়ুন

সর্বশেষ