সারের দোকানে দিনে ‘নেই’, রাতে টাকা দিলেই সারের মেলা!

শিবালয়ে কৃষকেরা দিনের বেলায় দোকানে গেলেই মুখে একটাই কথা, সার নেই। কিন্তু রাত নামলেই দেখা যায় ম্যাজিক। বাড়তি টাকা হাতে দিলেই রাতের অন্ধকারে সারের বস্তা কৃষকের ঘরে পৌঁছে যায়! ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে ২০০১-০৬ ফিরে এসেছে। তখনও একই দৃশ্য। এখনও একই কাহিনি। কারন ক্ষমতার চেয়ারে বসে আবারও বিএনপি-জামাত। কৃষকের ঘাম বেঁচে লালে লাল হয়ে যাচ্ছে এই অবৈধ দখলদার তথাকথিত সরকারের ডিলার বাহিনী।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে কৃষকরা জানিয়েছেন, দিনের বেলা ডিলারের দোকানে গেলে কৃত্রিম সংকট বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি নিলে রাতের বেলায় সার সরবরাহ করা হয়। ক্যাশ মেমোতে কৃষকের নাম লিখলেও মোবাইল নম্বর লেখা হয় না। কারণটা স্পষ্ট। ভুক্তভোগী যেন কোনোদিন প্রমাণ করতে না পারে। অভিযোগ করার সাহস না পায়।

ষাইটঘর তেওতা গ্রামের সুকুমার শীল বলেন, ২৭ টাকা কেজির ইউরিয়া কিনতে হয়েছে ৩৫ টাকায়। বরংগাইল থেকে ছবেদ আলী ১৩৫০ টাকার বস্তা কিনেছেন ১৭০০ টাকায়। ডিলারের নাম বলতে সাহস পাননি তিনি। আড়াকান্দির মালেক শেখ বলেন, দিনে গিয়ে সার পাননি। রাতে ১৬০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। গোয়ালখালীর আবেদ শেখ দুই বস্তা সার কিনেছেন বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা বেশি দিয়ে। কতজন কৃষক যে এই লুটের শিকার হয়েছেন তার সংখ্যা নেই। কিন্তু মুখ খুললেই ডিলারের রোষানলে পড়ার ভয়।

অভিযোগের মুখে ‘বাধ্য’ হয়ে ছয়জন ডিলারকে শোকজ করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। শোকজ করা হয়েছে উথলী ইউনিয়নের নয়াবাড়ী বাজারের সমতা কৃষিভাণ্ডার, আরুয়া ইউনিয়নের নালী বাজারের ইমান ট্রেডার্স, মহাদেবপুরের আব্দুল লতিফ অ্যান্ড সন্স, বরংগাইলের নিজাম বীজ ভাণ্ডার, মিজান এন্টারপ্রাইজ ও শিবালয়ের মরিয়ম ট্রেডার্সকে।

সমতা কৃষি ভাণ্ডারের মালিক আশরাফুল আলম রাজা বলেন, সাব ডিলাররা বেশি দামে বিক্রি করে বলে শুনেছি। কিন্তু তার দোকানের ক্যাশ মেমোতেই বেশিরভাগ কৃষকের ফোন নম্বর নেই। নালী বাজারের ইমান ট্রেডার্সের ডিলার খবির উদ্দিনকে ১৮ আগস্ট শোকজ করা হয়েছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করার অভিযোগ ছিল তাদের শোকজ করা হয়েছে।

সরকারি হিসাব বলছে, উপজেলায় সাতজন বিসিআইসি ডিলার ও ৬৩ জন সাব ডিলার রয়েছেন। আগস্টে বরাদ্দ হয়েছে ১৫০ টন ইউরিয়া, ৫৪ টন টিএসপি, ২০ টন ডিএপি ও ৩০ টন এমওপি। জুলাইয়ে বরাদ্দ ছিল ১০০ টন ইউরিয়া, ৩৪ টন টিএসপি, ২৩ টন ডিএপি ও ২৫ টন এমওপি। এত বরাদ্দের পরও কৃষককে রাতের অন্ধকারে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

পূর্ববর্তী খবর

শিবালয়ে কৃষকেরা দিনের বেলায় দোকানে গেলেই মুখে একটাই কথা, সার নেই। কিন্তু রাত নামলেই দেখা যায় ম্যাজিক। বাড়তি টাকা হাতে দিলেই রাতের অন্ধকারে সারের বস্তা কৃষকের ঘরে পৌঁছে যায়! ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে ২০০১-০৬ ফিরে এসেছে। তখনও একই দৃশ্য। এখনও একই কাহিনি। কারন ক্ষমতার চেয়ারে বসে আবারও বিএনপি-জামাত। কৃষকের ঘাম বেঁচে লালে লাল হয়ে যাচ্ছে এই অবৈধ দখলদার তথাকথিত সরকারের ডিলার বাহিনী।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে কৃষকরা জানিয়েছেন, দিনের বেলা ডিলারের দোকানে গেলে কৃত্রিম সংকট বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি নিলে রাতের বেলায় সার সরবরাহ করা হয়। ক্যাশ মেমোতে কৃষকের নাম লিখলেও মোবাইল নম্বর লেখা হয় না। কারণটা স্পষ্ট। ভুক্তভোগী যেন কোনোদিন প্রমাণ করতে না পারে। অভিযোগ করার সাহস না পায়।

ষাইটঘর তেওতা গ্রামের সুকুমার শীল বলেন, ২৭ টাকা কেজির ইউরিয়া কিনতে হয়েছে ৩৫ টাকায়। বরংগাইল থেকে ছবেদ আলী ১৩৫০ টাকার বস্তা কিনেছেন ১৭০০ টাকায়। ডিলারের নাম বলতে সাহস পাননি তিনি। আড়াকান্দির মালেক শেখ বলেন, দিনে গিয়ে সার পাননি। রাতে ১৬০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। গোয়ালখালীর আবেদ শেখ দুই বস্তা সার কিনেছেন বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা বেশি দিয়ে। কতজন কৃষক যে এই লুটের শিকার হয়েছেন তার সংখ্যা নেই। কিন্তু মুখ খুললেই ডিলারের রোষানলে পড়ার ভয়।

অভিযোগের মুখে ‘বাধ্য’ হয়ে ছয়জন ডিলারকে শোকজ করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। শোকজ করা হয়েছে উথলী ইউনিয়নের নয়াবাড়ী বাজারের সমতা কৃষিভাণ্ডার, আরুয়া ইউনিয়নের নালী বাজারের ইমান ট্রেডার্স, মহাদেবপুরের আব্দুল লতিফ অ্যান্ড সন্স, বরংগাইলের নিজাম বীজ ভাণ্ডার, মিজান এন্টারপ্রাইজ ও শিবালয়ের মরিয়ম ট্রেডার্সকে।

সমতা কৃষি ভাণ্ডারের মালিক আশরাফুল আলম রাজা বলেন, সাব ডিলাররা বেশি দামে বিক্রি করে বলে শুনেছি। কিন্তু তার দোকানের ক্যাশ মেমোতেই বেশিরভাগ কৃষকের ফোন নম্বর নেই। নালী বাজারের ইমান ট্রেডার্সের ডিলার খবির উদ্দিনকে ১৮ আগস্ট শোকজ করা হয়েছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করার অভিযোগ ছিল তাদের শোকজ করা হয়েছে।

সরকারি হিসাব বলছে, উপজেলায় সাতজন বিসিআইসি ডিলার ও ৬৩ জন সাব ডিলার রয়েছেন। আগস্টে বরাদ্দ হয়েছে ১৫০ টন ইউরিয়া, ৫৪ টন টিএসপি, ২০ টন ডিএপি ও ৩০ টন এমওপি। জুলাইয়ে বরাদ্দ ছিল ১০০ টন ইউরিয়া, ৩৪ টন টিএসপি, ২৩ টন ডিএপি ও ২৫ টন এমওপি। এত বরাদ্দের পরও কৃষককে রাতের অন্ধকারে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ