শুধু রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাক্যান্টিন থেকেই প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা গুনে গুনে নেন ডিআইজি মোঃ কামাল। ক্যান্টিনের প্রকৃত আয় সরকারি হিসাবের তুলনায় কম দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি জনবল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজনস) নির্দেশনা অনুযায়ী কারা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গবাদিপশু পালন ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে কঠোর নীতিমালা থাকলেও কারা উপমহা পরিদর্শকে সরকারি বাংলোতে কারারক্ষীদের দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ টি ভেড়ার খামার পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বন্দীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রীর মান ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে কারা ক্যান্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যদ্রব্য দ্বিগুণ বা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হয়। এক কেজি গরুর মাংস ১,৫০০ টাকা এবং এক কেজি বয়লার মুরগির মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা লাভ হলেও হিসাবপত্রে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা দেখানো হয়।
যখন একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে, তখন সহজেই বোঝা যাই, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে দুর্নীতি।
বিএনপি সরকারের বেলায় কারাগার এখন অদৃশ্য অর্থনৈতিক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জায়গা নয়। জনগণের অর্থের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণ চাইবে, এটাই গণতন্ত্রের দাবি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপস নয়।

