ময়মনসিংহের গোপালনগরের লিমা খাতুনের বয়স পঁয়ত্রিশ। তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়েছিলেন কনডম আর গর্ভনিরোধক ট্যাবলেটের জন্য। হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো ওরস্যালাইন। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, এটা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের হাজারো নারীর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা। প্রায় দুই বছর ধরে দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কার্যত কোনো ওষুধ নেই। আর ক্ষমতায় আছে বিএনপি সরকার।
গোপালনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী নিজেই স্বীকার করেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আর কোনো ওষুধ সরবরাহ আসেনি। আগে যেখানে বাইশ ধরনের ওষুধ দেওয়া হতো, এখন আছে শুধু কিছু আয়রন ট্যাবলেট, ক্যালসিয়াম আর ওরস্যালাইন। সুখী ট্যাবলেট নেই, কনডম নেই, ইনজেকশন নেই। পরিবার পরিকল্পনার পুরো ব্যবস্থাটাই কার্যত ভেঙে পড়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, বিএনপি সরকার কী করছে এতদিন ধরে? সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেই বলছেন, প্রায় এক বছর ধরে ঢাকা থেকে ওষুধ আসছে না। চাহিদাপত্র পাঠানো আছে। শুধু চাহিদাপত্র পাঠানো আছে। একটা সরকার দুই বছর ধরে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ধ্বংস করে রাখবে, আর সাফাই হবে “চাহিদাপত্র পাঠানো আছে”?
ময়মনসিংহ জেলায় পাঁচশোর বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। এই ক্লিনিকগুলো এখন ট্রাস্টের মাধ্যমে চলছে, আর ট্রাস্টে যাওয়ার পর থেকেই সব গোলমাল শুরু। শুধু ওষুধ না, কর্মীরা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। অর্থাৎ যারা কাজ করছেন তাদের টাকা নেই, যাদের জন্য কাজ করছেন তাদের দেওয়ার ওষুধ নেই। একটা সরকার যদি এই পর্যায়ে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাকে ব্যর্থ সরকার ছাড়া আর কী বলা যায়?
বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচনের মাধ্যমে, সেই নির্বাচনে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না। জনগণের একটা বিশাল অংশ সেই ভোটে যায়নি। সেই প্রশ্নবিদ্ধ বৈধতা নিয়ে ক্ষমতায় বসে তারা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক বাংলাদেশের গরিব মানুষের, বিশেষত গ্রামের নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসার জায়গা ছিল। সেই জায়গাটাই এখন ফাঁকা।
গ্রামের নারীরা যখন পরিবার পরিকল্পনার জন্য ক্লিনিকে যান, তখন ফার্মেসি থেকে টাকা দিয়ে কিনে আনতে হচ্ছে। যাদের টাকা নেই তারা কী করবেন? অপরিকল্পিত গর্ভধারণ বাড়বে, মাতৃমৃত্যু বাড়বে, শিশুমৃত্যু বাড়বে। এই পরিণতির দায় কে নেবে? বিএনপির মন্ত্রীরা কি একটু হিসাব করে বলবেন, কতটা ক্ষতি হয়ে গেছে দেশের?
যে সরকার গ্রামের একজন নারীকে বিনামূল্যে একটা গর্ভনিরোধক ট্যাবলেটও দিতে পারে না, সেই সরকার বড় বড় কথা বলে কোন মুখে? বিএনপির নামসর্বস্ব মন্ত্রিসভা কি একবারও ভেবে দেখেছে, লিমা খাতুনের মতো নারীরা কী নিয়ে বেঁচে আছেন? স্যালাইন দিয়ে কি পরিবার পরিকল্পনা হয়?

