সোমবার রাত ১০টা। সিলেট নগরের একাংশ অন্ধকারে ডুবে আছে টানা ৮ ঘণ্টা। ফ্যান বন্ধ, বাচ্চার কান্না, রোগীর হাসপাতালে যাওয়ার উপায় নেই। এই দৃশ্য এখন শুধু সিলেটে নয়, রংপুর থেকে বরিশাল, রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম একই চিত্র। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভাষ্য, ভারত থেকে আমদানি কমেছে, গ্যাস সংকট, কয়লা সংকট। কিন্তু প্রশ্নটা সাধারণ মানুষ করছেন, যাঁরা নীতি নির্ধারণ করেন, এই সংকটের জন্য আগে থেকে কোন প্রস্তুতি তাঁদের ছিল না?
পিডিবির তথ্য বলছে, চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ৩৭০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। পায়রা কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট, রোববার উৎপাদন ছিল ৭১০ মেগাওয়াট। রামপাল, বরিশাল, মাতারবাড়ী কোন কেন্দ্রই পূর্ণ ক্ষমতায় চলছে না। অথচ গত এক যুগে বিদ্যুৎ খাতে এমন নাজুক অবস্থা কেউই দেখেনি। বিদ্যুৎ চুক্তি থেকে জ্বালানি আমদানি, ক্যাপাসিটি থেকে স্পট মার্কেটের ডিল ক্র্যাক সবকিছুই পরিচালিত হয়েছে সুনিপুণভাবে। আর ২০২৪ এর জুলাই দাঙ্গার পর ইউনুস-বিএনপি-জামাত গং যখন পুরো কাঠামো ধ্বসিয়ে দিয়ে ধরা খেয়ে গেছে, এখন দায় এড়াতে শুরু হয়েছে পুরনো ঢাল- গ্যাস সংকট, কয়লা সংকট, ভারতের গড়িমসি মূলো দেখানো।
তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষজন যেভাবে ভুগছেন, বিদ্যুৎহীন হাসপাতালের ছবি সংবাদমাধ্যমে আসছে প্রতিদিন। অথচ বিদ্যুৎ ভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে পিডিবি বলছে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। এটা কি সেই স্বাভাবিকতা, যেখানে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শ্রমিকের মজুরি বন্ধ, উৎপাদন শূন্যের কোঠায়, অথচ দায় কারও নয়?
‘২৪ এর জুলাই দাঙ্গার আগে যে দলগুলো বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মিছিল করত, তারাই এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে লোডশেডিংয়ের জন্য গরম, গ্যাস, কয়লা আর আবহাওয়ার অজুহাত দিচ্ছে। এই একই দল ২০০১-০৬ মেয়াদে বিদ্যুৎ খাত ধ্বংস করেছিল, চুক্তির নামে হস্তান্তর করেছিল জাতীয় সম্পদ। সেই একই দল এখন আবারও সেই পুরনো খেলায় ফিরেছে।

