সোনার বাংলা আজ মহাশ্মশান : ১২০১টি নামহীন লাশের হিসাব কারা দেবে?

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই দেশের মাটি, নদী, ডোবা আর রাস্তার ধার থেকে ১২০১টি লাশ উদ্ধার হয়েছে যাদের কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই, কোনো পরিবার নেই যে এসে দাবি করবে। এর মধ্যে ৭৮৬ জন পুরুষ, ২৯০ জন নারী, ৫৮টি শিশু, আর ২৫ জনের বয়স-লিঙ্গ পর্যন্ত বোঝার উপায় ছিল না, লাশের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল। এই সংখ্যাগুলো শুধু কাগজের হিসাব না। এই সংখ্যাগুলো একেকটা মায়ের অপেক্ষা, একেকটা সন্তানের না-ফেরা বাবা, একেকটা স্বামীর জন্য খাবার বেড়ে বসে থাকা স্ত্রীর প্রতিক্ষা।

আজ যারা ক্ষমতায় বসে বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছে, তাদের কেউ এই লাশগুলোর জবাব দেবে না। কারণ এই লাশগুলো তৈরি হয়েছে যে রাজনৈতিক প্রকল্পের হাত ধরে, আজকের ক্ষমতাসীনরা সেই প্রকল্পেরই উত্তরসূরি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যা ঘটেছিল তাকে যতই ইতিহাসের পাতায় সোনার হরফে লেখার চেষ্টা হোক, বাস্তবতা হলো এটা ছিল একটা পরিকল্পিত দাঙ্গা, যার পেছনে ছিল বিদেশি রাষ্ট্রের টাকা, ছিল ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের সহায়তা, আর ছিল সেনাবাহিনীর নীরব সমর্থন। একটা নির্বাচিত সরকারকে রাস্তার আগুনে পুড়িয়ে ফেলে দেওয়া হলো, আর তার বদলে ক্ষমতায় বসানো হলো সুদী মহাজন ইউনুসকে, যে লোকটা সারাজীবন গরিব মানুষের ঘাড়ে সুদের বোঝা চাপিয়ে ব্যবসা ফেঁদেছে, তাকেই বানানো হলো এই দেশের ত্রাণকর্তা। শুধু ট্যাংক রাস্তায় নামেনি বলে অনেকে এটাকে ক্যু বলতে বাঁধো বাঁধো করেন, কিন্তু ফলাফলের বিচারে একটা অবৈধ ক্ষমতা দখলের চেয়ে এটা কম কিছু ছিল না।

ইউনুসের আঠারো মাসের শাসনামলে যে রক্তপাত শুরু হয়েছিল, সেটা থামেনি। থানায় থানায় মামলা, বিনাবিচারে আটক, রাতের অন্ধকারে গুম, আর তারপর একদিন কোনো নদীর পাড়ে বা ধানক্ষেতে ভেসে ওঠা একটা নামহীন লাশ, এই দেশে এখন এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে ২১৩টা লাশ, ২০২৫ সালে বেড়ে ৬৪১টা, আর ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৩৪৭টা, এই বাড়তি সংখ্যাগুলো নিজেই বলে দেয় পরিস্থিতি ভালোর দিকে যায়নি, খারাপের দিকেই গেছে।

আর এখন যে বিএনপি-জামাত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্ষমতায় বসেছে, তারাও এই একই ধারাবাহিকতার অংশ। নির্বাচনের বাক্সে যাই দেখানো হোক, এই সরকার দাঁড়িয়ে আছে সেই একই জুলাই দাঙ্গার রক্তমাখা ভিত্তির ওপর। যে দল এতদিন জামাতের সাথে মিলে মাঠ গরম রেখেছে, ক্ষমতায় গিয়ে তারা হঠাৎ ন্যায়বিচারের ফেরিওয়ালা হয়ে যাবে, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। প্রশ্নটা এখন আর তেমন জোরেও ওঠে না, কারণ প্রশ্ন তোলার মতো মানুষগুলোর অনেকেই তো এই ১২০১ জনের ভেতরে মিশে গেছে, নয়তো দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

একটা সময় এই দেশটাকে বলা হতো সোনার বাংলা। রবীন্দ্রনাথের গানে, বঙ্গবন্ধুর ভাষণে, মুক্তিযুদ্ধের রক্তে ভেজা মাটিতে নামটা লেখা ছিল গর্বের সাথে। আজ এই দেশ একটা শ্মশান, যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন লাশ ওঠে আর কেউ তার হিসাব রাখে না, কেউ তার বিচার চায় না, কারণ যারা বিচার চাইবে তারাও জানে পরের লাশটা তাদেরই হতে পারে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই দেশের মাটি, নদী, ডোবা আর রাস্তার ধার থেকে ১২০১টি লাশ উদ্ধার হয়েছে যাদের কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই, কোনো পরিবার নেই যে এসে দাবি করবে। এর মধ্যে ৭৮৬ জন পুরুষ, ২৯০ জন নারী, ৫৮টি শিশু, আর ২৫ জনের বয়স-লিঙ্গ পর্যন্ত বোঝার উপায় ছিল না, লাশের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল। এই সংখ্যাগুলো শুধু কাগজের হিসাব না। এই সংখ্যাগুলো একেকটা মায়ের অপেক্ষা, একেকটা সন্তানের না-ফেরা বাবা, একেকটা স্বামীর জন্য খাবার বেড়ে বসে থাকা স্ত্রীর প্রতিক্ষা।

আজ যারা ক্ষমতায় বসে বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছে, তাদের কেউ এই লাশগুলোর জবাব দেবে না। কারণ এই লাশগুলো তৈরি হয়েছে যে রাজনৈতিক প্রকল্পের হাত ধরে, আজকের ক্ষমতাসীনরা সেই প্রকল্পেরই উত্তরসূরি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যা ঘটেছিল তাকে যতই ইতিহাসের পাতায় সোনার হরফে লেখার চেষ্টা হোক, বাস্তবতা হলো এটা ছিল একটা পরিকল্পিত দাঙ্গা, যার পেছনে ছিল বিদেশি রাষ্ট্রের টাকা, ছিল ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের সহায়তা, আর ছিল সেনাবাহিনীর নীরব সমর্থন। একটা নির্বাচিত সরকারকে রাস্তার আগুনে পুড়িয়ে ফেলে দেওয়া হলো, আর তার বদলে ক্ষমতায় বসানো হলো সুদী মহাজন ইউনুসকে, যে লোকটা সারাজীবন গরিব মানুষের ঘাড়ে সুদের বোঝা চাপিয়ে ব্যবসা ফেঁদেছে, তাকেই বানানো হলো এই দেশের ত্রাণকর্তা। শুধু ট্যাংক রাস্তায় নামেনি বলে অনেকে এটাকে ক্যু বলতে বাঁধো বাঁধো করেন, কিন্তু ফলাফলের বিচারে একটা অবৈধ ক্ষমতা দখলের চেয়ে এটা কম কিছু ছিল না।

ইউনুসের আঠারো মাসের শাসনামলে যে রক্তপাত শুরু হয়েছিল, সেটা থামেনি। থানায় থানায় মামলা, বিনাবিচারে আটক, রাতের অন্ধকারে গুম, আর তারপর একদিন কোনো নদীর পাড়ে বা ধানক্ষেতে ভেসে ওঠা একটা নামহীন লাশ, এই দেশে এখন এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে ২১৩টা লাশ, ২০২৫ সালে বেড়ে ৬৪১টা, আর ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৩৪৭টা, এই বাড়তি সংখ্যাগুলো নিজেই বলে দেয় পরিস্থিতি ভালোর দিকে যায়নি, খারাপের দিকেই গেছে।

আর এখন যে বিএনপি-জামাত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্ষমতায় বসেছে, তারাও এই একই ধারাবাহিকতার অংশ। নির্বাচনের বাক্সে যাই দেখানো হোক, এই সরকার দাঁড়িয়ে আছে সেই একই জুলাই দাঙ্গার রক্তমাখা ভিত্তির ওপর। যে দল এতদিন জামাতের সাথে মিলে মাঠ গরম রেখেছে, ক্ষমতায় গিয়ে তারা হঠাৎ ন্যায়বিচারের ফেরিওয়ালা হয়ে যাবে, এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। প্রশ্নটা এখন আর তেমন জোরেও ওঠে না, কারণ প্রশ্ন তোলার মতো মানুষগুলোর অনেকেই তো এই ১২০১ জনের ভেতরে মিশে গেছে, নয়তো দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

একটা সময় এই দেশটাকে বলা হতো সোনার বাংলা। রবীন্দ্রনাথের গানে, বঙ্গবন্ধুর ভাষণে, মুক্তিযুদ্ধের রক্তে ভেজা মাটিতে নামটা লেখা ছিল গর্বের সাথে। আজ এই দেশ একটা শ্মশান, যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন লাশ ওঠে আর কেউ তার হিসাব রাখে না, কেউ তার বিচার চায় না, কারণ যারা বিচার চাইবে তারাও জানে পরের লাশটা তাদেরই হতে পারে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ