বান্দরবানের ভালুকিয়া পাড়ায় তিনজন মরে পড়ে আছেন। মাইন বিস্ফোরণে। মিয়ানমার সীমান্তে। নাম? অংক্যমং, চিংক্ষং, চোপোচিং। কেউ চেনেন এদের? না। চেনার কথাও না, কারণ এদের মারা যাওয়ার জায়গাটা ঠিক হয়নি।
এই বছর মিয়ানমার সীমান্ত থেকে একশোরও বেশি বাংলাদেশি জেলে ধরে নিয়ে গেছে। কেউ গোনেনি। একটা মিছিল হয়নি। একটা প্রেস কনফারেন্স নেই। কিন্তু ভারত একজনকেও এভাবে ধরে নিলে এতক্ষণে চ্যানেলে চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ চলত, হেফাজতের মাইক গরম হতো, বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে টেবিল কাঁপত।
এই পার্থক্য কোথা থেকে এলো?
বিএনপি আর জামায়াত গত পঞ্চাশ বছর ধরে এই দেশের মানুষের মাথায় একটাই শত্রু গেঁথে দিয়েছে, ভারত। এটা তাদের রাজনৈতিক অক্সিজেন। ভারতবিরোধিতা না থাকলে এই দুটো দলের কাছে বিক্রি করার আর কী আছে? জামায়াতের একাত্তরের রক্তের দাগ আছে, বিএনপির আছে লুটপাটের ইতিহাস। জনগণের চোখ সেদিক থেকে সরিয়ে রাখতে ভারতভীতির চেয়ে সস্তা হাতিয়ার আর কী হতে পারে?
ফলে আজ এই দেশে একজন সাধারণ মানুষও জানে না যে মিয়ানমার থেকে আসা মাইনে তার দেশের মানুষ মরছে। কারণ তাকে কখনো সেদিকে তাঁকাতে বলা হয়নি। তার রাগ বরাদ্দ আছে নির্দিষ্ট একটা সীমান্তের জন্য। এটা অজ্ঞতা না। এটা ডিজাইন করা অন্ধত্ব। আর ফলাফল, আমরা এখন মানুষের লাশের দামও ঠিক করছি মানচিত্র দেখে!

