বুধবার জাতীয় সংসদে আছরের নামাজের বিরতি শেষ হতেই চিত্রনাট্য বদলে গেল। স্পিকার চেয়ারে বসে তাকিয়ে আছেন মন্ত্রীদের সারির দিকে, অথচ তথ্য, জ্বালানি ও শিল্পমন্ত্রীর আসন তিনটিই ফাঁকা। মাত্র ৩০ মিনিট আগেও যারা সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন, নামাজ শেষে তারা যেন বাতাসে মিলিয়ে গেলেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বাধ্য হয়ে বলে উঠলেন, “দুঃখজনকভাবে যেসব মন্ত্রী মহোদয়ের জন্য প্রশ্ন ছিল, তারা কেউ এ হাউজে উপস্থিত নেই।” তারপরই স্তব্ধ হয়ে গেল প্রশ্নোত্তর পর্ব। জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়েই টেবিলে উপস্থাপিত বলে গণ্য করা হলো।
পরিস্থিতি আরও উদ্ভট হলো যখন পুরো ঘটনায় কেউ কোনো ব্যাখ্যাই দিতে পারলেন না যে বিরতির পর মন্ত্রীরা ঠিক কোথায় হারিয়ে গেলেন। অথচ এই সংসদ চলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। খরচের অঙ্কে চোখ পড়লে চোখ কপালে ওঠে : মিনিটে খরচ ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা, মানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। একটি ১০ দিনের অধিবেশনে ব্যয় প্রায় ৯৮ কোটি টাকা।
মন্ত্রীরা নিজেদের দায়িত্বে অবহেলা করায় মুহূর্তেই জলাঞ্জলি গেল সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত করের বড় অঙ্কের অর্থ। এ যেন বিএনপির ২০০১-০৬ সালের বিভীষিকাময় অপশাসনেরই প্রতিচ্ছবি। জবাবদিহিতার সংস্কৃতি ধুলোয় মিশিয়ে আবারও ফিরে এল সেই অন্ধকার সময়।

