জুলাই সন্ত্রাসীদের আসল চেহারা এবার পুরোপুরি উন্মুক্ত। জাতীয় নাগরিক পার্টির তথাকথিত বিপ্লবীরা রাজধানীর অভিজাত হোটেল ভাড়া নিয়ে টানা আট মাস ধরে চালিয়েছেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মহড়া। বকেয়া রেখেছেন প্রায় ১২ লাখ টাকা। অথচ এদেরই নেতৃত্বে ধ্বংস করা হয়েছে এই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো।
হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনালের দুইটি কক্ষ ছিল এনসিপির শীর্ষ নেতাদের স্থায়ী আড্ডাখানা। দিনরাত সেখানে লেগে থাকত নারীদের আনাগোনা, চলত রাতভর মৌজ মাস্তি। দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেলসহ পাঁচ নেতার নেতৃত্বে কয়েক ডজন ক্যাডার সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন করতেন। অথচ পঁচে যাওয়া আওয়ামী লীগ সরকার পতনের নামে যারা সোহাগে ক্ষমতা দখল করেছে, সেই তারাই এখন চিহ্নিত হয়েছেন সাধারণ প্রতারক ও বখাটে হিসেবে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাস ধরে তারা ওই দুই কক্ষ ব্যবহার করেছেন। মোট বিল ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা। বুকিংয়ের সময় মাত্র ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাকি পুরো টাকা না দিয়েই উধাও হয়ে যান এই মুখোশধারীরা। টাকা চাইতে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয় সরাসরি হুমকি।
সবচেয়ে ঘৃণ্য বিষয় হলো, এদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নাহিদ ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি হোটেল কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোপুরি জেনেশুনে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতারণাকে প্রশ্রয় দিয়েছে। হোটেলের দাবি, ওই কক্ষগুলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজও তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
শাহরিয়ার নামের ওই নেতা অতীতে ছাত্রলীগ করতেন, ছিলেন স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠজন। সুযোগ বুঝে জুলাই সন্ত্রাসীদের দলে ভিড়ে এখন তিনি দক্ষিণের সদস্যসচিব। তার বাবাও ছিলেন পতিত সরকারের আমলের প্রভাবশালী ব্যক্তি। অর্থাৎ পুরনো দুর্নীতিবাজরাই নতুন মুখোশ পরে এখন লুটপাট চালাচ্ছে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, বিদেশি রাষ্ট্রের অর্থ ও ইসলামিক জিহাদি চক্রের সহায়তায় যারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বৈধ সরকার উৎখাত করেছিল, তাদের নৈতিক চরিত্রের বিন্দুমাত্র ভিত্তি নেই। জনগণের মনে ভীতি সৃষ্টি করে, ক্যু করে ক্ষমতা দখল করা এই চক্র এখন প্রকাশ্যেই সমাজের বুকে বিষ ছড়াচ্ছে। দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের উচিত এই চক্রের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ানো। কারণ এরা দেশের কিছুই ভাবেনি, ভাবছে শুধু নিজেদের স্বার্থ আর ভোগবিলাসের কথা।

