যে তরুণদের বলা হয়েছিল, “কোটা নয়, মেধার অধিকার চাই”, সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যখন হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে, তখন প্রশ্নটা আরও বড় হয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই: ৪,৫০০ কোটি। সিঙ্গাপুর: ৩,০০০ কোটি। অস্ট্রেলিয়া: ২,০০০ কোটি। সুইজারল্যান্ড: ১,৫০০ কোটি— মোট অভিযোগ ১১,০০০ কোটি টাকা!
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে সম্পদ কেনা, বিনিয়োগ ও অর্থ রাখার পাশাপাশি স্বজনদের ব্যবহার করে অর্থ পাচার এবং টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন-বাণিজ্যের।
অথচ যে সাধারণ তরুণকে বোঝানো হয়েছিল, “তোমার ভবিষ্যৎ আটকে আছে কোটা ব্যবস্থায়”, সেই তরুণ আজও চাকরির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে। কেউ বেকার, কেউ বিসিএসের পেছনে বছরের পর বছর ছুটছে, কেউ বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
তাহলে প্রশ্ন খুব সোজা:
আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে যদি কারও ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় তৈরি হয়, আর সাধারণ তরুণের ভাগ্যে থাকে বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা, তাহলে সেই আন্দোলনের আসল লাভবান কে?
কোটা ছিল ইস্যু,
তরুণ ছিল শক্তি,
আর ক্ষমতা ও সম্পদ কার হাতে গেল?
জনগণকে আবেগ দিয়ে রাজনীতি করা সহজ।
কিন্তু জনগণের প্রশ্নের হিসাব দেওয়া কঠিন।
কোটা থেকে কোটিপতি হওয়ার এই কথিত সাফল্যের হিসাব একদিন না একদিন দিতেই হবে।

