জিন্নাহর প্রেতাত্মা থেকে স্বাধীনতাবিরোধী দোসরদের ইতিহাস বিকৃতির নগ্ন ষড়যন্ত্র

শামস-ঈ-নোমান
​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বাতিঘর। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্থপতিদের ইতিহাস আড়াল করে, আমাদের ভাষা ও অস্তিত্বের শত্রু মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের দুঃসাহস দেখানো হয়েছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন কিংবা আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি মূলত একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির দোসরদের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ।

​জিন্নাহ ও তার অনুসারীরা ১৯৪৮ সালে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মাটিতে দাঁড়িয়েই আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে অস্বীকার করার ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই বাংলাবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার ধৃষ্টতা দেখানো হচ্ছে।

​একদিনে ইতিহাস বদলানো যায় না বলেই পরাজিত শক্তির উত্তরসূরিরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। প্রথমে বিতর্ক তৈরি করা, তারপর স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিচিহ্ন বা মহানায়কদের ছবি আড়াল করা এবং সেখানে একাত্তরের পরাজিত মতাদর্শের প্রতীকে ভরিয়ে দেওয়া।

​ডাকসুর মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন ছবি টাঙানো নিছক কোনো ঐতিহাসিক প্রদর্শনী নয়; এর উদ্দেশ্য তরুণ প্রজন্মের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দিয়ে পাকিস্তানি রাজনৈতিক ভাবাদর্শকে পুনর্বাসন করা।

​বাংলাদেশ কোনো দুর্ঘটনাবশত বা সহানুভূতির মধ্য দিয়ে অর্জিত রাষ্ট্র নয়। কোটি মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন ভূখণ্ডে জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার যেকোনো চেষ্টা গণবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী।

​আজ যারা ছদ্মবেশে বা নতুন মোড়কে জিন্নাহর পরাজিত দর্শনকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত—১৯৭১ সালেই তাদের অপদর্শনের শিকড় এ দেশের মাটি থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে। ইতিহাসকে যতই আড়াল বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হোক না কেন, রক্তে অর্জিত বাংলাদেশ কখনো কোনো পরাজিত শক্তির আদর্শিক চক্রান্তের কাছে মাথা নত করবে না।

লেখক: ডাকসুর সাবেক পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

শামস-ঈ-নোমান
​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বাতিঘর। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্থপতিদের ইতিহাস আড়াল করে, আমাদের ভাষা ও অস্তিত্বের শত্রু মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের দুঃসাহস দেখানো হয়েছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন কিংবা আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি মূলত একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির দোসরদের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ।

​জিন্নাহ ও তার অনুসারীরা ১৯৪৮ সালে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মাটিতে দাঁড়িয়েই আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে অস্বীকার করার ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই বাংলাবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার ধৃষ্টতা দেখানো হচ্ছে।

​একদিনে ইতিহাস বদলানো যায় না বলেই পরাজিত শক্তির উত্তরসূরিরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। প্রথমে বিতর্ক তৈরি করা, তারপর স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিচিহ্ন বা মহানায়কদের ছবি আড়াল করা এবং সেখানে একাত্তরের পরাজিত মতাদর্শের প্রতীকে ভরিয়ে দেওয়া।

​ডাকসুর মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন ছবি টাঙানো নিছক কোনো ঐতিহাসিক প্রদর্শনী নয়; এর উদ্দেশ্য তরুণ প্রজন্মের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দিয়ে পাকিস্তানি রাজনৈতিক ভাবাদর্শকে পুনর্বাসন করা।

​বাংলাদেশ কোনো দুর্ঘটনাবশত বা সহানুভূতির মধ্য দিয়ে অর্জিত রাষ্ট্র নয়। কোটি মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন ভূখণ্ডে জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার যেকোনো চেষ্টা গণবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী।

​আজ যারা ছদ্মবেশে বা নতুন মোড়কে জিন্নাহর পরাজিত দর্শনকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত—১৯৭১ সালেই তাদের অপদর্শনের শিকড় এ দেশের মাটি থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে। ইতিহাসকে যতই আড়াল বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হোক না কেন, রক্তে অর্জিত বাংলাদেশ কখনো কোনো পরাজিত শক্তির আদর্শিক চক্রান্তের কাছে মাথা নত করবে না।

লেখক: ডাকসুর সাবেক পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ