শিক্ষা এখন দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্য, শ্রেণিকক্ষে শেখানো নিছক আনুষ্ঠানিকতা

শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অবক্ষয়ের যে ছবিটি আজ দেশজুড়ে দেখা যাচ্ছে, তার জন্য সবচেয়ে বড় দায়টা বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের সবচেয়ে কাছের সহচর জামাতে ইসলামের ওপরই বর্তায়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দুই দল ক্ষমতায় থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে যে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম আর রাজনৈতিক দলীয়করণের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে আবার যেন সেই একই অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় ফিরে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তখনকার দিনে যেমন শিক্ষক নিয়োগে দলীয় তদবির, কোচিং বাণিজ্যের মহোৎসব আর ক্যাডার বাহিনীর দাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছিল আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দু, আজকের চিত্রটা যেন হুবহু তারই প্রতিচ্ছবি। এখন তো আবার দেখা যাচ্ছে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পড়াচ্ছেন না, ইচ্ছা করেই সিলেবাস শেষ করছেন না, আর সেই সুযোগে ওই একই শিক্ষক বিকালে কোচিং সেন্টারে বা নিজের বাসায় চড়া দামে পড়িয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। অভিভাবকদের পকেট কাটছে, অথচ এই বাণিজ্য বন্ধে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। বরং যে ব্যবস্থা চলছে, তাতে মনে হয় ক্ষমতাসীনদের একটা বড় অংশই এই শিক্ষা বাণিজ্যের সুবিধাভোগী, তাই চোখ বন্ধ করে আছেন।

শিবপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থা এখন সারাদেশের চিত্র। শ্রেণিকক্ষে পড়ানো হয় কম, পড়ানো হয় দায়সারাভাবে, অথচ ওই শিক্ষকের কাছেই প্রাইভেট পড়তে গেলে গুনতে হয় হাজার হাজার টাকা। যারা প্রাইভেট পড়তে পারে না, তাদের সঙ্গে ক্লাসে অবজ্ঞা, পরীক্ষায় কম নম্বর, এমনকি প্রকাশ্যে অপমানের ঘটনাও ঘটছে। অথচ যাদের হাতে এই ব্যবস্থা বদলানোর ক্ষমতা, সেই বিএনপি-জামাত জোট সরকার কি এই বিষয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে?

নিয়োগ বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য আর শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা কি আদৌ আগ্রহী? বরং তাদের শাসনামলে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় রাজনীতি আর কোচিং সেন্টারের ভাড়াটে ব্যবসা দুই-ই বেড়েছে কয়েকগুণ। জামাতে ইসলাম তো বরাবরই শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিজেদের আদর্শ প্রচারের হাতিয়ার বানাতে চেয়েছে, তাদের শিক্ষক-সমর্থকদের একটা বড় অংশ কোচিং বাণিজ্য আর মাদ্রাসাকেন্দ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। সেই দল যখন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব রাখে, তখন শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।

যে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে এত হইচই, সেই তথাকথিত হেলিকপ্টার মিলনের স্টান্টবাজি এখন কোথায় হারিয়ে গেল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা খুবই জরুরি। ক্ষমতায় আসার আগে শিক্ষা সংস্কারের কত বড় বড় প্রতিশ্রুতি, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর আইন করার কত ঘোষণা। আর এখন বাস্তবতা হলো, ঢাকার নামিদামি স্কুলগুলোর আশপাশে কোচিং সেন্টারের ছড়াছড়ি, সকাল-সন্ধ্যা ব্যাচে ঠাসা। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের আশপাশে তো এখন কোচিং শিল্প গড়ে উঠেছে। অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের কোচিংয়ে পাঠাচ্ছেন, কারণ স্কুলের পড়া আর পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে বিশাল একটা গ্যাপ তৈরি করা হয়েছে ইচ্ছা করেই। এই গ্যাপটা যদি না থাকতো, তাহলে কোচিং বাণিজ্য চলতো কী করে? স্কুলের শিক্ষকরাই তো এই গ্যাপটা তৈরি করেছেন, আর সরকারের পক্ষ থেকে সেটা বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই শোষণ চলছেই।

২০১২ সালের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না, এটা লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধানও আছে। কিন্তু বাস্তবে কে কার শাস্তি দেয়? শিক্ষকরা প্রকাশ্যে বলছেন, তারা প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে প্রাইভেট পড়ানোর তালিকা দেন না, কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না। কারণ ব্যবস্থা নিলে তো ভোটের রাজনীতিতে ক্ষতি হবে, সেই ভয়ই সবচেয়ে বড়। বিএনপি-জামাতের কাছে শিক্ষকদের একটা বড় অংশ ভোট ব্যাংক, তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার সাহস কারও নেই।

অথচ এই পুরো ব্যবস্থার শিকার নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা। যাদের বাবা-মা দিনে আনা দিনে খান, তারা কীভাবে মাসে বিশ-ত্রিশ হাজার টাকা কোচিং বাবদ খরচ করবে? এই বৈষম্যটাই তো সবচেয়ে ভয়াবহ। শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন অভিজাতদের জন্য, টাকাওয়ালাদের জন্য, আর গরিবের সন্তান ঝরে পড়ছে বা পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকছে। এটা তো শিক্ষার গণতান্ত্রিকীকরণের নামে প্রতারণা।

২০০১-০৬ সালের বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় শিক্ষা খাতে যে দুর্নীতি হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার সেই একই চক্র ক্ষমতায় এসে শিক্ষাকে ব্যবসা বানাচ্ছে। তখন যেমন নকলবাজি, প্রশ্নপত্র ফাঁস আর কোচিং বাণিজ্য ছিল জোট সরকারের আমলের চিহ্ন, এখন সেই একই ছবি আবার হাজির।

অভিভাবকদের প্রশ্ন, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তারা কি সত্যিই জানেন না কী চলছে? নাকি এই ব্যবসার অংশীদার বলেই চুপ থাকেন? যারা শিক্ষকতা পেশাকে সম্মান দিতে ব্যর্থ, যারা শ্রেণিকক্ষকে ফাঁকি দিয়ে কোচিং সেন্টারে লাখ টাকার ব্যবসা করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া মানে তো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অপরাধকে মেনে নেওয়া। আজকের শিশুরাই যদি বিদ্যালয়ে অবহেলার শিকার হয়, তাহলে আগামী দিনের সমাজটাই তো অন্ধকারে ডুবে যাবে। এই অন্ধকার ঠেকানোর দায়িত্ব যারা নিতে চান না, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে, এটাই এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অবক্ষয়ের যে ছবিটি আজ দেশজুড়ে দেখা যাচ্ছে, তার জন্য সবচেয়ে বড় দায়টা বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের সবচেয়ে কাছের সহচর জামাতে ইসলামের ওপরই বর্তায়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দুই দল ক্ষমতায় থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে যে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম আর রাজনৈতিক দলীয়করণের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে আবার যেন সেই একই অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় ফিরে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তখনকার দিনে যেমন শিক্ষক নিয়োগে দলীয় তদবির, কোচিং বাণিজ্যের মহোৎসব আর ক্যাডার বাহিনীর দাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছিল আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দু, আজকের চিত্রটা যেন হুবহু তারই প্রতিচ্ছবি। এখন তো আবার দেখা যাচ্ছে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পড়াচ্ছেন না, ইচ্ছা করেই সিলেবাস শেষ করছেন না, আর সেই সুযোগে ওই একই শিক্ষক বিকালে কোচিং সেন্টারে বা নিজের বাসায় চড়া দামে পড়িয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। অভিভাবকদের পকেট কাটছে, অথচ এই বাণিজ্য বন্ধে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। বরং যে ব্যবস্থা চলছে, তাতে মনে হয় ক্ষমতাসীনদের একটা বড় অংশই এই শিক্ষা বাণিজ্যের সুবিধাভোগী, তাই চোখ বন্ধ করে আছেন।

শিবপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থা এখন সারাদেশের চিত্র। শ্রেণিকক্ষে পড়ানো হয় কম, পড়ানো হয় দায়সারাভাবে, অথচ ওই শিক্ষকের কাছেই প্রাইভেট পড়তে গেলে গুনতে হয় হাজার হাজার টাকা। যারা প্রাইভেট পড়তে পারে না, তাদের সঙ্গে ক্লাসে অবজ্ঞা, পরীক্ষায় কম নম্বর, এমনকি প্রকাশ্যে অপমানের ঘটনাও ঘটছে। অথচ যাদের হাতে এই ব্যবস্থা বদলানোর ক্ষমতা, সেই বিএনপি-জামাত জোট সরকার কি এই বিষয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে?

নিয়োগ বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য আর শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা কি আদৌ আগ্রহী? বরং তাদের শাসনামলে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় রাজনীতি আর কোচিং সেন্টারের ভাড়াটে ব্যবসা দুই-ই বেড়েছে কয়েকগুণ। জামাতে ইসলাম তো বরাবরই শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিজেদের আদর্শ প্রচারের হাতিয়ার বানাতে চেয়েছে, তাদের শিক্ষক-সমর্থকদের একটা বড় অংশ কোচিং বাণিজ্য আর মাদ্রাসাকেন্দ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। সেই দল যখন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব রাখে, তখন শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।

যে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে এত হইচই, সেই তথাকথিত হেলিকপ্টার মিলনের স্টান্টবাজি এখন কোথায় হারিয়ে গেল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা খুবই জরুরি। ক্ষমতায় আসার আগে শিক্ষা সংস্কারের কত বড় বড় প্রতিশ্রুতি, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর আইন করার কত ঘোষণা। আর এখন বাস্তবতা হলো, ঢাকার নামিদামি স্কুলগুলোর আশপাশে কোচিং সেন্টারের ছড়াছড়ি, সকাল-সন্ধ্যা ব্যাচে ঠাসা। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের আশপাশে তো এখন কোচিং শিল্প গড়ে উঠেছে। অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের কোচিংয়ে পাঠাচ্ছেন, কারণ স্কুলের পড়া আর পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে বিশাল একটা গ্যাপ তৈরি করা হয়েছে ইচ্ছা করেই। এই গ্যাপটা যদি না থাকতো, তাহলে কোচিং বাণিজ্য চলতো কী করে? স্কুলের শিক্ষকরাই তো এই গ্যাপটা তৈরি করেছেন, আর সরকারের পক্ষ থেকে সেটা বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই শোষণ চলছেই।

২০১২ সালের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না, এটা লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধানও আছে। কিন্তু বাস্তবে কে কার শাস্তি দেয়? শিক্ষকরা প্রকাশ্যে বলছেন, তারা প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে প্রাইভেট পড়ানোর তালিকা দেন না, কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না। কারণ ব্যবস্থা নিলে তো ভোটের রাজনীতিতে ক্ষতি হবে, সেই ভয়ই সবচেয়ে বড়। বিএনপি-জামাতের কাছে শিক্ষকদের একটা বড় অংশ ভোট ব্যাংক, তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার সাহস কারও নেই।

অথচ এই পুরো ব্যবস্থার শিকার নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা। যাদের বাবা-মা দিনে আনা দিনে খান, তারা কীভাবে মাসে বিশ-ত্রিশ হাজার টাকা কোচিং বাবদ খরচ করবে? এই বৈষম্যটাই তো সবচেয়ে ভয়াবহ। শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন অভিজাতদের জন্য, টাকাওয়ালাদের জন্য, আর গরিবের সন্তান ঝরে পড়ছে বা পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকছে। এটা তো শিক্ষার গণতান্ত্রিকীকরণের নামে প্রতারণা।

২০০১-০৬ সালের বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় শিক্ষা খাতে যে দুর্নীতি হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার সেই একই চক্র ক্ষমতায় এসে শিক্ষাকে ব্যবসা বানাচ্ছে। তখন যেমন নকলবাজি, প্রশ্নপত্র ফাঁস আর কোচিং বাণিজ্য ছিল জোট সরকারের আমলের চিহ্ন, এখন সেই একই ছবি আবার হাজির।

অভিভাবকদের প্রশ্ন, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তারা কি সত্যিই জানেন না কী চলছে? নাকি এই ব্যবসার অংশীদার বলেই চুপ থাকেন? যারা শিক্ষকতা পেশাকে সম্মান দিতে ব্যর্থ, যারা শ্রেণিকক্ষকে ফাঁকি দিয়ে কোচিং সেন্টারে লাখ টাকার ব্যবসা করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া মানে তো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অপরাধকে মেনে নেওয়া। আজকের শিশুরাই যদি বিদ্যালয়ে অবহেলার শিকার হয়, তাহলে আগামী দিনের সমাজটাই তো অন্ধকারে ডুবে যাবে। এই অন্ধকার ঠেকানোর দায়িত্ব যারা নিতে চান না, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে, এটাই এখন সময়ের দাবি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ