দেশজুড়ে সারের তীব্র সংকট, ডিলারদের দোকানে কৃষকের লাইন, কোথাও কোথাও বাধ্য হয়ে গোডাউন লুটের ঘটনা। ঠিক সেই মুহূর্তে ক্ষমতাসীন দলের কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে স্বীকারোক্তি দিলেন যে, বাজারে যে পরিমাণ সারের চাহিদা আছে তার বহুগুণ বেশি সার মজুদ আছে তার নিজের গোডাউনে।
বুধবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা করেন তিনি। অথচ এই মুহূর্তে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভয়াবহ। কৃষক সার পাচ্ছেন না, জমিতে কাজ থমকে আছে, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন সবখানে একই হাহাকার।
এই এক ঢিলে কয়েকটা প্রশ্ন সামনে চলে আসছে।
প্রথমত, সরকারি বিতরণব্যবস্থার বাইরে একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত গোডাউনে এত পরিমাণ সার কীভাবে গেল? সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া সারের অবৈধ মজুদ কিভাবে করেন একজন মন্ত্রী?
দ্বিতীয়ত, সাধারণ কৃষক যখন সারের অভাবে দিশেহারা তখন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে থাকা ওই সার বাজারে ছাড়ার কোনো উদ্যোগ নেই কেন?
তৃতীয়ত, প্রকাশ্য সভায় এসে এভাবে মজুদের কথা স্বীকার করাটা কি ক্ষমতার দম্ভ নাকি পুরোনো দিনের সিন্ডিকেট সংস্কৃতির প্রত্যাবর্তনেরই নির্লজ্জ ঘোষণা?
দেশবাসীর এখনো মনে আছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলে সার, বিদ্যুৎ, গ্যাস সবকিছুতেই ঘাটতি আর দলীয় প্রভাব বলয়ে থাকা ব্যবসায়ীদের হাতে মজুদের খেলা চলত। তখনো মন্ত্রীরা গোডাউনের বড়াই করতেন, কৃষক মারা যেত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে। এবার মনে হচ্ছে সেই অধ্যায় আবারও ফিরে এসেছে ২০২৬ সালে, ক্ষমতার মালিক বদলালেও চরিত্র বদলায়নি।
যে সরকারের মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করছেন তার গোডাউনে প্রয়োজনের চেয়ে বহুগুণ বেশি সার মজুদ আছে, সেই সরকারের কাছ থেকে কৃষকের ন্যায্য প্রাপ্তি আদায়ের জন্য এখন প্রতিটি কৃষক সংগঠন, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষকে মুখ খুলতে হবে। কারণ এই নীরবতা আর সহনশীলতাই মজুদদারদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

