বাংলাদেশে যখনই বিএনপি-জামায়াত ও তাদের অনুসারী শক্তিগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, তখনই এ দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পড়েছে চরম জীবন ও নিরাপত্তাহীনতায়। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া সংখ্যালঘু নির্যাতনের সেই বীভৎস স্মৃতি আজও দেশের মানুষের মনে তাজা। ইতিহাস প্রমাণ করে—ক্ষমতার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই বারবার টার্গেট বানানো হয়েছে সনাতনী পরিবারগুলোকে, রেহাই পায়নি এমনকি ঘরের নারী ও বৃদ্ধরাও।
ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের উরন সাধু বাড়ি এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক নারকীয় ঘটনাটি বর্তমান শাসনব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা ও ফাসিবাদী চরিত্রকে আবারও নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে। আদালতের স্পষ্ট রায় নিজের পক্ষে থাকার পরও সপরিবারে নৃশংস হামলার শিকার হতে হলো গোপাল কৃষ্ণ দাসকে।
হামলাকারীরা শুধু জবরদখলের উদ্দেশ্যেই আসেনি, তারা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘরে ঢুকে গোপাল কৃষ্ণ দাস ও তাঁর স্ত্রী আঁখি রানি দাসকে বেধড়ক মারধর করেছে। আরও বর্বরতার সীমা ছাড়িয়ে পরিবারের দুই কন্যাসন্তানকে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়েছে এবং ঘরের বৃদ্ধ বাবাকে পর্যন্ত পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে, বর্তমানে দেশে আইনের শাসন কিংবা সাধারণ মানুষের জীবন-সম্পত্তির কোনো নিরাপত্তা নেই।
আদালতের রায় পাওয়ার পরও যখন একটি পরিবার নিজের ভিটেমাটিতে নিরাপদে থাকতে পারে না, যখন প্রকাশ্য দিবালোকে নারীদের ওপর হাত তোলা হয়—তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে দেশ আজ কোনো নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোতে চলছে না।

