যে দলের জন্মই স্বাধীনতার বিপক্ষে, তারাই আজ ঠিক করছে জয় বাংলার ভাগ্য?

ভৈরবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠার সাথে সাথেই পুলিশ নেমেছে রাতভর অভিযানে। অথচ আইন বলছে কী? ২০২৪ সালের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে নিষিদ্ধ হয়েছে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামের রাজনৈতিক দলটি, তাদের প্রতীক, তাদের ব্যানার ব্যবহার। কোথাও বলা হয়নি ‘জয় বাংলা’ নিষিদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর সেই স্লোগান স্বাধীনতার চেতনা, এটা কোনো দলের একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়। কিন্তু ভৈরবে যা হলো, তাতে পরিষ্কার, ক্ষমতাসীনরা চাইছেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি শব্দকেও অভিযুক্ত করতে।

ফখরুল আলমের জানাজায় বিএনপি নেতারা নিজেরাই গেছেন। তাঁর জীবনকর্মের প্রশংসা করেছেন। শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অথচ কয়েকজন যখন ‘জয় বাংলা’ বললেন, তখনই সেটা হয়ে গেল ‘রাজনৈতিক উস্কানি’। প্রশ্ন জাগে, ঠিক কোন শব্দটা আপত্তিকর? ‘জয়’ নাকি ‘বাংলা’? ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের সব উপাদানকে একে একে খুঁজে খুঁজে আক্রমণের মুখে ফেলা হয়েছে, এই ঘটনা তার সর্বশেষ সংযোজন। ৩২ নম্বর ভেঙেছে, জাদুঘরে আগুন দিয়েছে, একাত্তরে যারা গণহত্যা চালিয়েছিলো তাদের উত্তরসূরিরা আজ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সরকারে বসেছে। সেই বাস্তবতায় ‘জয় বাংলা’ যে তাঁদের সহ্য হবে না, সেটা বলাই বাহুল্য।

এবার আসি ২০০১-০৬ প্রসঙ্গে। তখন প্রকাশ্যে ‘জয় বাংলা’ বললেই বাড়িঘর পোড়ানো হতো, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ছবি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উঠেছিল, অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে হত্যা হয়েছিল আওয়ামী লীগের চার হাজার নেতাকর্মী। জামায়াত তখন ছিল মন্ত্রিসভার অলংকার। আজ ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে সেই একই ছবি। জামায়াত আবার সংসদে, বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সরব। আর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ তো আছেই, এখন ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধের শব্দমালাকেও নিষিদ্ধের খাতায় তোলার চেষ্টা চলছে।

গতরাতে ভৈরবে যে পুলিশি অভিযান হয়েছে, সেটার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট বার্তা দেয়া হচ্ছে যে, ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করলেই রাষ্ট্রযন্ত্র খড়গ হাতে নেমে আসবে। অথচ কিছু দিন আগেও দাবি করা হয়েছে, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’। তাহলে ফখরুল আলমের মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধায় এই স্লোগান উঠায় কিসের অভিযান? কেন এই ভীতি? কারণ একটাই। আপনারা ইতিহাসের ভয়ে ভীত। জানেন, ‘জয় বাংলা’ শুধু স্লোগান নয়, এটা একটা অঙ্গীকার। যে অঙ্গীকারের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ৭১-এ হেরেছিলেন, ২০২৪-এ আবার সুযোগ পেয়েছেন। ভয় পান, এই স্লোগান আবার জাগিয়ে দেবে মানুষকে।

দেশের আপামর জনগণ যুক্তি দিয়ে পরিষ্কার করে বলছেন, ‘জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, কোনো দলের নয়।’ এখন দেখার বিষয়, ক্ষমতাসীনরা এই যুক্তি মানেন, নাকি রাতের আঁধারে থানা-অভিযানকেই তাঁরা গণতন্ত্র ভাবেন। ফখরুল আলমের জানাজায় ওঠা ‘জয় বাংলা’ আসলে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়েছে। আপনারা আসলে কার বিরুদ্ধে? আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, নাকি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসেরই বিরুদ্ধে?

ভৈরবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠার সাথে সাথেই পুলিশ নেমেছে রাতভর অভিযানে। অথচ আইন বলছে কী? ২০২৪ সালের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে নিষিদ্ধ হয়েছে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামের রাজনৈতিক দলটি, তাদের প্রতীক, তাদের ব্যানার ব্যবহার। কোথাও বলা হয়নি ‘জয় বাংলা’ নিষিদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর সেই স্লোগান স্বাধীনতার চেতনা, এটা কোনো দলের একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়। কিন্তু ভৈরবে যা হলো, তাতে পরিষ্কার, ক্ষমতাসীনরা চাইছেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি শব্দকেও অভিযুক্ত করতে।

ফখরুল আলমের জানাজায় বিএনপি নেতারা নিজেরাই গেছেন। তাঁর জীবনকর্মের প্রশংসা করেছেন। শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অথচ কয়েকজন যখন ‘জয় বাংলা’ বললেন, তখনই সেটা হয়ে গেল ‘রাজনৈতিক উস্কানি’। প্রশ্ন জাগে, ঠিক কোন শব্দটা আপত্তিকর? ‘জয়’ নাকি ‘বাংলা’? ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের সব উপাদানকে একে একে খুঁজে খুঁজে আক্রমণের মুখে ফেলা হয়েছে, এই ঘটনা তার সর্বশেষ সংযোজন। ৩২ নম্বর ভেঙেছে, জাদুঘরে আগুন দিয়েছে, একাত্তরে যারা গণহত্যা চালিয়েছিলো তাদের উত্তরসূরিরা আজ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সরকারে বসেছে। সেই বাস্তবতায় ‘জয় বাংলা’ যে তাঁদের সহ্য হবে না, সেটা বলাই বাহুল্য।

এবার আসি ২০০১-০৬ প্রসঙ্গে। তখন প্রকাশ্যে ‘জয় বাংলা’ বললেই বাড়িঘর পোড়ানো হতো, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ছবি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উঠেছিল, অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে হত্যা হয়েছিল আওয়ামী লীগের চার হাজার নেতাকর্মী। জামায়াত তখন ছিল মন্ত্রিসভার অলংকার। আজ ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে সেই একই ছবি। জামায়াত আবার সংসদে, বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সরব। আর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ তো আছেই, এখন ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধের শব্দমালাকেও নিষিদ্ধের খাতায় তোলার চেষ্টা চলছে।

গতরাতে ভৈরবে যে পুলিশি অভিযান হয়েছে, সেটার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট বার্তা দেয়া হচ্ছে যে, ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করলেই রাষ্ট্রযন্ত্র খড়গ হাতে নেমে আসবে। অথচ কিছু দিন আগেও দাবি করা হয়েছে, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’। তাহলে ফখরুল আলমের মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধায় এই স্লোগান উঠায় কিসের অভিযান? কেন এই ভীতি? কারণ একটাই। আপনারা ইতিহাসের ভয়ে ভীত। জানেন, ‘জয় বাংলা’ শুধু স্লোগান নয়, এটা একটা অঙ্গীকার। যে অঙ্গীকারের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ৭১-এ হেরেছিলেন, ২০২৪-এ আবার সুযোগ পেয়েছেন। ভয় পান, এই স্লোগান আবার জাগিয়ে দেবে মানুষকে।

দেশের আপামর জনগণ যুক্তি দিয়ে পরিষ্কার করে বলছেন, ‘জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, কোনো দলের নয়।’ এখন দেখার বিষয়, ক্ষমতাসীনরা এই যুক্তি মানেন, নাকি রাতের আঁধারে থানা-অভিযানকেই তাঁরা গণতন্ত্র ভাবেন। ফখরুল আলমের জানাজায় ওঠা ‘জয় বাংলা’ আসলে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়েছে। আপনারা আসলে কার বিরুদ্ধে? আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, নাকি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসেরই বিরুদ্ধে?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ