মার্চ থেকে জুলাই – চার মাসে ৬৮৪টা শিশুর নাম উঠেছে হামের মৃত্যু-তালিকায়। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার শিশু, সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা সোয়া লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এগুলো প্রমাণ করে একটা রাষ্ট্রের টিকাদান আর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা ধসে পড়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি একরকম হেসেখেলেই ক্ষমতা দখল করলো, সঙ্গী পেলো জামায়াতকে। পাঁচ মাস পার হয়ে গেছে তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা, অথচ প্রতিদিন যে শিশুরা হামে মরছে তাদের নিয়ে সংসদে জরুরি কোনো বিতর্ক হয়েছে বলে শোনা যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিন প্রতিদিন বের হয়, মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজও বের হয়, কিন্তু দায় স্বীকার করে কেউ পদত্যাগ করেনি, কাউকে জবাবদিহি করতে হয়নি।
আর যাঁর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই মহামারি শুরু হলো, সেই মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা মামলা করলেন অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে। ১২ জুলাই ঢাকার আদালত সেই মামলার আবেদনই খারিজ করে দিলেন, যুক্তি দেখানো হলো মামলা নেওয়ার মতো উপাদান নেই। একজন বাবা সন্তান হারিয়ে বিচার চাইতে গেলেন, আদালতের কাগজে সেটা এক লাইনে শেষ হয়ে গেল। এটাকে নিছক আইনি প্রক্রিয়া বলে মেনে নেওয়া কঠিন, যখন একই সরকার আর তার সংসদীয় সহযোগীরা বারবার ইউনূসকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেছে।
২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট দায় এড়িয়ে যাওয়াটাকেই শাসনের ধরন বানিয়ে ফেলেছিল। ২০২৬ সালে এসে সেই একই প্যাটার্ন যেন কপি-পেস্ট হয়ে ফিরে এসেছে। তফাত শুধু এই, তখন লাশ পড়ত রাজনৈতিক সহিংসতায়, এখন পড়ছে টিকার অভাবে।
সরকার বলতে পারে বাজেট সীমিত, টিকা কার্যক্রম চলমান, আদালত স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ৬৮৪টা কবরের হিসাব আর ইউনূসের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা আটকে যাওয়ার এই কাকতালীয়তা, দুটো মিলিয়ে যে ছবিটা তৈরি হয়, সেখানে এসব ব্যাখ্যা আশ্বস্ত করার চেয়ে সন্দেহই বাড়ায় বেশি।

