২০০১ এর হাওয়া ভবন বনাম ২০২৬ এর এনএস এনার্জি, তফাত শুধু ঠিকানায়!

আরেকটা এমপির নাতি, আরেকটা কমিশন বাণিজ্য, আরেকবার পাবলিকের পকেট কাটার প্রকল্পের অবতারণা দেখতে হলো আমাদেরকে। ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি জামাত জোট সরকারের সেই হাওয়া ভবন যুগ যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই এখন দেজা ভুঁ বোধ করছেন। মাত্র কয়েক মাস ক্ষমতায় বসেই তারেক রহমানের বিএনপি দেখিয়ে দিলো পুরনো অভ্যাস কতটা শক্ত করে গাঁথা তাদের রাজনৈতিক ডিএনএ-তে!

ঘটনার সূত্রপাত হয় এনএস এনার্জি নেভিগেশন নামের এক আমেরিকান কোম্পানি দিয়ে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক এই কোম্পানির সিইও তারিফ রহমান, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চার আসনের এমপি এবং সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমানের নাতি। পাওয়ার এবং এনার্জি সেক্টরে এই কোম্পানির কোনো আগের অভিজ্ঞতাই নেই, তারপরও গত মে মাসে তারা সরাসরি প্রস্তাব পাঠিয়ে দেয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে, বাংলাদেশের তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর জন্য।

মাত্র আটত্রিশ দিন পর চাইনিজ কোম্পানি সিএনইই যে প্রস্তাব জমা দেয়, তার সাথে এনএস এনার্জির প্রস্তাবের মিল এতটাই হুবহু যে সিএনইই এর নিজেদের নকশাতেই ভুলে থেকে গেছে লেখা, প্রোজেক্ট ম্যাপের নিচে এখনো লেখা আছে প্রপোজড এনএস এনার্জি এফএসআরইউ। কপি পেস্ট করতে গিয়ে এতটাই তাড়াহুড়ো করেছে যে নিজেদের প্রতারণার প্রমাণ নিজেরাই রেখে দিয়েছে কাগজে।

এই এনএস এনার্জির ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশন হয় দুই হাজার চব্বিশের সেপ্টেম্বরে, আরেকটা দুই হাজার পঁচিশের ডিসেম্বরে। কোম্পানির ইনকরপোরেশনও পাঁচ আগস্টের পরে, মানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের ধুলা এখনো জমেনি তখনই এই শেল কোম্পানি খোলা হয়েছে ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত সাজাতে। এই যে কোম্পানির কোনো অপারেশন নাই, ইতিহাস নাই, অভিজ্ঞতা নাই, শুধু একটা এমপির রক্তের সম্পর্ক আছে, এটাই তাদের একমাত্র যোগ্যতা। আর সেই যোগ্যতা দিয়েই তারা মধ্যস্থতা করে দিলো চাইনিজ কোম্পানির জন্য, কমিশনের বিনিময়ে।

সিএনইই এর মতো পুরনো কোম্পানি বাংলাদেশে ব্রিজ আর পাওয়ার প্রজেক্টে কাজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এলএনজি এফএসআরইউ এর মতো স্পেশালাইজড কাজে তাদের কার্যত কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। তারপরও তাদের হাতেই তুলে দেয়া হচ্ছে দুই বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট, দৈনিক তিন লাখ বিয়াল্লিশ হাজার ডলার হারে পনেরো বছরের চুক্তি। অথচ সৌদি আরামকো অফার করেছিল মাত্র এক লাখ নব্বই হাজার ডলার প্রতিদিন। সিএমআই অফার করেছিল মাত্র এক লাখ ডলার প্রতিদিন, বারো বছর পর টার্মিনাল পেট্রোবাংলার নামে লিখে দেয়ার শর্তে। এই দুইটা অফার নিলে দেশ বাঁচাতে পারতো কয়েক বিলিয়ন ডলার। তা না করে সরকার বেছে নিলো সবচেয়ে বেশি খরচের অপশন, যেখানে এমপির নাতির কোম্পানি মধ্যস্থতা করেছে, শুধুমাত্র এইজন্যই।

আঠারো মাসে ডেলিভারির অজুহাত দেখিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্তকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছে, অথচ আরামকো, ওকিউ, সোকার সবাই একই সময়ে ডেলিভারি দেয়ার কথা বলেছিল আগের অ্যাসেসমেন্টে। তাহলে দ্রুততার অজুহাত পুরোপুরি মিথ্যা, আসল কারণ একটাই, পরিবার আর কমিশনের হিসাব।

২০০১-০৬ সালে হাওয়া ভবন যেভাবে টেন্ডার, কমিশন, পাওয়ার প্ল্যান্ট বাগিয়ে নিতো আত্মীয়স্বজনের কোম্পানি দিয়ে, ঠিক সেই মডেলই এখন রিসাইকেল হচ্ছে নতুন মোড়কে। শুধু হাওয়া ভবনের জায়গায় এখন এমপির নাতির নিউইয়র্কের অফিস, আর টেন্ডারের জায়গায় এলএনজি টার্মিনাল। চরিত্র বদলেছে ঠিকই, কিন্তু লুটপাটের কাঠামো একচুলও বদলায়নি।

শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের বোঝা তো গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের গ্যাস আর বিদ্যুৎ বিলে। এমপির নাতি বসে থাকবেন নিউইয়র্কে, কমিশনের টাকা ঢুকবে যেখানে ঢোকার সেখানেই ঢুকবে, আর রান্নাঘরের চুলা জ্বালাতে গিয়ে হিসাব মেলাতে হবে দেশের সাধারণ মানুষকে। বিএনপি ক্ষমতায় ফিরেছে সংস্কারের মূলো ঝুলিয়ে, অথচ প্রথম কয়েক মাসেই তারা প্রমাণ করে দিলো, মিথ্যাচারের সুর বদলেছে শুধু, লুটপাটের চেহারা একদম অপরিবর্তিত আছে।

আরেকটা এমপির নাতি, আরেকটা কমিশন বাণিজ্য, আরেকবার পাবলিকের পকেট কাটার প্রকল্পের অবতারণা দেখতে হলো আমাদেরকে। ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি জামাত জোট সরকারের সেই হাওয়া ভবন যুগ যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই এখন দেজা ভুঁ বোধ করছেন। মাত্র কয়েক মাস ক্ষমতায় বসেই তারেক রহমানের বিএনপি দেখিয়ে দিলো পুরনো অভ্যাস কতটা শক্ত করে গাঁথা তাদের রাজনৈতিক ডিএনএ-তে!

ঘটনার সূত্রপাত হয় এনএস এনার্জি নেভিগেশন নামের এক আমেরিকান কোম্পানি দিয়ে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক এই কোম্পানির সিইও তারিফ রহমান, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চার আসনের এমপি এবং সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমানের নাতি। পাওয়ার এবং এনার্জি সেক্টরে এই কোম্পানির কোনো আগের অভিজ্ঞতাই নেই, তারপরও গত মে মাসে তারা সরাসরি প্রস্তাব পাঠিয়ে দেয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে, বাংলাদেশের তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর জন্য।

মাত্র আটত্রিশ দিন পর চাইনিজ কোম্পানি সিএনইই যে প্রস্তাব জমা দেয়, তার সাথে এনএস এনার্জির প্রস্তাবের মিল এতটাই হুবহু যে সিএনইই এর নিজেদের নকশাতেই ভুলে থেকে গেছে লেখা, প্রোজেক্ট ম্যাপের নিচে এখনো লেখা আছে প্রপোজড এনএস এনার্জি এফএসআরইউ। কপি পেস্ট করতে গিয়ে এতটাই তাড়াহুড়ো করেছে যে নিজেদের প্রতারণার প্রমাণ নিজেরাই রেখে দিয়েছে কাগজে।

এই এনএস এনার্জির ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশন হয় দুই হাজার চব্বিশের সেপ্টেম্বরে, আরেকটা দুই হাজার পঁচিশের ডিসেম্বরে। কোম্পানির ইনকরপোরেশনও পাঁচ আগস্টের পরে, মানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের ধুলা এখনো জমেনি তখনই এই শেল কোম্পানি খোলা হয়েছে ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত সাজাতে। এই যে কোম্পানির কোনো অপারেশন নাই, ইতিহাস নাই, অভিজ্ঞতা নাই, শুধু একটা এমপির রক্তের সম্পর্ক আছে, এটাই তাদের একমাত্র যোগ্যতা। আর সেই যোগ্যতা দিয়েই তারা মধ্যস্থতা করে দিলো চাইনিজ কোম্পানির জন্য, কমিশনের বিনিময়ে।

সিএনইই এর মতো পুরনো কোম্পানি বাংলাদেশে ব্রিজ আর পাওয়ার প্রজেক্টে কাজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এলএনজি এফএসআরইউ এর মতো স্পেশালাইজড কাজে তাদের কার্যত কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। তারপরও তাদের হাতেই তুলে দেয়া হচ্ছে দুই বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট, দৈনিক তিন লাখ বিয়াল্লিশ হাজার ডলার হারে পনেরো বছরের চুক্তি। অথচ সৌদি আরামকো অফার করেছিল মাত্র এক লাখ নব্বই হাজার ডলার প্রতিদিন। সিএমআই অফার করেছিল মাত্র এক লাখ ডলার প্রতিদিন, বারো বছর পর টার্মিনাল পেট্রোবাংলার নামে লিখে দেয়ার শর্তে। এই দুইটা অফার নিলে দেশ বাঁচাতে পারতো কয়েক বিলিয়ন ডলার। তা না করে সরকার বেছে নিলো সবচেয়ে বেশি খরচের অপশন, যেখানে এমপির নাতির কোম্পানি মধ্যস্থতা করেছে, শুধুমাত্র এইজন্যই।

আঠারো মাসে ডেলিভারির অজুহাত দেখিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্তকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছে, অথচ আরামকো, ওকিউ, সোকার সবাই একই সময়ে ডেলিভারি দেয়ার কথা বলেছিল আগের অ্যাসেসমেন্টে। তাহলে দ্রুততার অজুহাত পুরোপুরি মিথ্যা, আসল কারণ একটাই, পরিবার আর কমিশনের হিসাব।

২০০১-০৬ সালে হাওয়া ভবন যেভাবে টেন্ডার, কমিশন, পাওয়ার প্ল্যান্ট বাগিয়ে নিতো আত্মীয়স্বজনের কোম্পানি দিয়ে, ঠিক সেই মডেলই এখন রিসাইকেল হচ্ছে নতুন মোড়কে। শুধু হাওয়া ভবনের জায়গায় এখন এমপির নাতির নিউইয়র্কের অফিস, আর টেন্ডারের জায়গায় এলএনজি টার্মিনাল। চরিত্র বদলেছে ঠিকই, কিন্তু লুটপাটের কাঠামো একচুলও বদলায়নি।

শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের বোঝা তো গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের গ্যাস আর বিদ্যুৎ বিলে। এমপির নাতি বসে থাকবেন নিউইয়র্কে, কমিশনের টাকা ঢুকবে যেখানে ঢোকার সেখানেই ঢুকবে, আর রান্নাঘরের চুলা জ্বালাতে গিয়ে হিসাব মেলাতে হবে দেশের সাধারণ মানুষকে। বিএনপি ক্ষমতায় ফিরেছে সংস্কারের মূলো ঝুলিয়ে, অথচ প্রথম কয়েক মাসেই তারা প্রমাণ করে দিলো, মিথ্যাচারের সুর বদলেছে শুধু, লুটপাটের চেহারা একদম অপরিবর্তিত আছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ