ইউনুসের অ-সরকার যাওয়ার পাঁচ মাস না পেরোতেই রাষ্ট্রীয় কোষাগার যেন তলানিতে ঠেকেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ যে চিত্র বেরিয়েছে, তাতে চোখ কপালে ওঠার মতো। ১২২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকার পাহাড়সম দায়। অথচ এই দায়ের বড় অংশই আবার সরকারের কাছেই বকেয়া, মানে এক পকেট খালি করে আরেক পকেটে ভর্তি করার প্রয়াস! কী এক বিভীষিকার মধ্যে দিয়ে চলছে দেশ, তাই ভাবছেন হতভাগ্য এই দেশের ভুক্তভোগী নাগরিকেরা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বিমান থেকে শুরু করে শিল্প খাত, সব জায়গায় লুটপাট আর অপশাসনের ছাপ। মাত্র ১০৮টি কার্যদিবসের মাথায় বিএনপি-জামাত জোট সরকার যে নমুনা দেখাচ্ছে, তাতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। ইউনুস সাহেব দায় ছেড়েছেন লাখ কোটি টাকার ফাঁকা চেক দিয়ে, আর এখনকাররা সেই চেক ভাঙাতে গিয়ে দেউলিয়া হওয়ার জোগাড়। দায়ের পরিমাণ এখন ১০ লাখ কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে কর্মকর্তারা আঁচ করছেন।
চিন্তা করুন, এই অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন বাজেট কাটছাঁট করতে হবে। মানে আপনার সন্তানের স্কুল, আপনার এলাকার হাসপাতাল আর রাস্তাঘাটের টাকা চলে যাবে এই কালো গহ্বরে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের বড় অংশই এই ভঙ্গুর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ শুকিয়ে গেছে। কর্মসংস্থান থমকে গেছে, বিনিয়োগ উধাও।
ইউনুসের যে দায় রেখে গেছেন, এখন বিএনপি-জামাত সেই আগুনে ঘি ঢালছে। মনে পড়ছে সেই ২০০১-০৬ সালের ভয়াল সময়ের কথা, যখন রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের মালামাল বানানো হয়েছিল। মনে হচ্ছে, সেই দুঃস্বপ্ন আবার ফিরে এসেছে।

