বিএনপি ক্ষমতায় আসার চার মাস না পেরোতেই ফিরে এলো ২০০১-০৬ মডেলের দুর্নীতি। নিজেদের ক্রয় কমিটির অনুমোদিত হিসাবই ফাঁস করছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি টন গম কেনা হচ্ছে ৩২২ ডলারে। অথচ একই বৈঠকে সিঙ্গাপুর থেকে সেই গম কেনা হয়েছে ২৯৭.৯২ ডলারে। পার্থক্য শুধু ২৪ ডলার নয়, প্রতি টনে ৩ হাজার টাকা করে জনতার পকেট কাটার ব্লুপ্রিন্ট।
হিসেবটা অতি জঘন্য। সিঙ্গাপুর থেকে ৫০ হাজার টন গমের দাম ১৮২ কোটি টাকা, কেজি পড়ে ৩৬.৪ টাকা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টনের বিল ৮৬৯ কোটি, কেজি দাঁড়ায় ৩৯.৫ টাকা। এই ২ লাখ ২০ হাজার টন যদি সিঙ্গাপুরি রেটেই কেনা হতো, রাষ্ট্রের সাশ্রয় হতো ৬৬০ কোটি টাকার ওপরে। বিএনপি সরকার সেই টাকা বাঁচালো না, বরং সযত্নে মার্কিন রপ্তানিকারকের পকেটে পুরে দিলো।
গত জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত চুক্তির পর ওয়াশিংটনের দূত গর্ব করে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম বৃহত্তম গমের বাজার। পরিষ্কার ভাষায়, নিজের মানুষের পেটে মার না দিয়ে বিদেশি চাষির মুখে হাসি ফোটানোই এ সরকারের নীতি। অথচ জুন ২০২৬ এ নিত্যপণ্যের দামে সাধারণ মানুষ কাহিল। আর দায়সারা জবাব, “গুণগত মান ভালো”।
কোন যুক্তিতে ৬৬০ কোটি টাকা পানিতে ফেলে দেওয়া হলো তার কোনো ব্যাখ্যা নেই, শুধু সেই চেনা বিএনপি-জামাত আমলের দুর্গন্ধ ফিরে এলো। হাওয়া ভবন নেই, কিন্তু হাওয়া ভবনের সংস্কৃতি অক্ষত রেখে ক্লিন ইমেজের মুখোশ পরে জনগণের টাকা লুটছে ক্ষমতাসীনরা।

