দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরি হয়েছে। কম্পিউটার নেই, ফ্যান নেই, পানির মোটর নেই, সিসিটিভির ডিভিআর নেই। জানালা ভাঙা, দরজার তালা ভাঙা, ভেতরের নথিপত্র তছনছ। এটা চুরি না, এটা রীতিমতো ডাকাতি। সহকারী কমিশনার নিজেই সেটা উল্লেখ করেছেন।
তদন্তে গিয়ে প্রশাসন মালামাল পেল কোথায়? দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ইউপি সদস্য এবং আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রার্থী আইয়ুব আলী খানের ভাঙারির দোকানে। তার ছেলে অনিক দোকান দেখাশোনা করে। সেখান থেকে ১১টির মধ্যে ৯টি মালামাল উদ্ধার হয়েছে, বাকি দুটো এখনো নেই।
সরকারি অফিস ডাকাতি হলো, আর সেই মাল গেল সরাসরি একজন বিএনপি নেতার পারিবারিক ব্যবসায়। এটা কি নিছক কাকতালীয়? ভাঙারির দোকানে অনেকে অনেক কিছু বিক্রি করতে আসে, এই যুক্তি আইয়ুব আলীর ভাই ইয়াহিয়া দিয়েছেন। যুক্তিটা শুনতে বেশ নিরীহ। কিন্তু যে দোকানের কোনো কাগজপত্রই নেই, যেটা অবৈধভাবে চলছে, সেই দোকানে সরকারি মালামাল এসে পড়া মানে কী, সেটা বুঝতে খুব বেশি বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে না।
আইয়ুব আলী খান নিজে ঘটনার দিন সেখানে ছিলেন না। কিন্তু তার শ্যালক হালিমকে পুলিশ আটক করেছে। তার ছেলে অনিক দোকানের দায়িত্বে। তার ভাই ইয়াহিয়া ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের সামনে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। পরিবারের সবাই ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত, শুধু মূল মানুষটাই নেই। এই অনুপস্থিতি কি খুব স্বাভাবিক?
আইয়ুব আলী শুধু বিএনপি নেতা না, তিনি আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়াবেন। যে মানুষটা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তার দোকান থেকে সেই একই প্রশাসনের অফিসের চুরি যাওয়া মাল উদ্ধার হচ্ছে। ভোটারদের এটা ভুলে যাওয়া উচিত হবে না।
বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের এই ছবিটা নতুন না। দলের পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে একটা বলয় তৈরি করো, সেই বলয়ের আড়ালে যা খুশি করো, ধরা পড়লে বলো “আমি জানি না, অন্য কেউ করেছে।” এই প্যাটার্নটা দেশের আনাচকানাচে এতবার দেখা গেছে যে এটা এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, এটা একটা সংস্কৃতি।
সহকারী কমিশনার বলেছেন মামলার প্রস্তুতি চলছে। ভালো কথা। কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে মামলা কতদূর যায়, সেটা দেশের মানুষ জানে। ইয়াহিয়াকে বলা হয়েছে বাকি মাল ফেরত দিতে, না হলে ব্যবস্থা। এই “না হলে ব্যবস্থা” কথাটা কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
যে দলের নেতারা এলাকায় ভাঙারির দোকান চালায় বৈধ কাগজ ছাড়া, যে দলের নেতার পরিবারের ব্যবসায় সরকারি অফিসের চুরির মাল আসে, সেই দলের নেতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এটা সেই পুরনো গল্পই, শুধু মঞ্চটা একটু ছোট, এই যা!

