শরীয়তপুরের মরিচ খেতে ককটেল পাওয়া গেল। দশ বছরের রাহাত সেটাকে বল ভেবে হাতে তুলে নিয়েছিল। এরপর বিস্ফোরণে তার দুই হাতের কবজি উড়ে গেছে, এখন সে ঢাকা মেডিকেলে।
এই একটা খবরই যথেষ্ট বলে দেওয়ার জন্য যে বাংলাদেশটা কোথায় আছে সেটা বুঝতে।
কিন্তু এখানে একটা বিষয় সরাসরি বলে রাখা দরকার। শরীয়তপুর মানেই শুধু এই ঘটনা না। মাত্র দুই মাস আগে, মার্চ ২০২৬ সালে, একই জেলার নড়িয়া উপজেলায় জামায়াত সমর্থকরা বিএনপি সমর্থকদের ৪০টি বাড়িতে হামলা করে, শত শত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়, লুটপাট করে। সেটা নির্বাচনের পরের ঘটনা। সরকার গঠনের পরের ঘটনা। একই জেলায়, একই সময়কালে। ককটেল মাঠে পড়ে থাকলে সেটা আকাশ থেকে পড়েনি।
বিএনপি-জামায়াতের সাথে বিস্ফোরকের সম্পর্কটা নতুন না। ২০০১ সালে ক্ষমতায় বসার পর সিনেমা হলে বোমা, মাজারে বোমা, বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা, সিরিজ বোমা হামলা, একের পর এক। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাও হাওয়া ভবনে বসে হয়েছিল, জামায়াত নেতা আর ইসলামিক জঙ্গিদের নিয়ে। এটা অভিযোগ না, আদালতের রায় এবং তদন্তের রেকর্ড।
সরকার এখন বলছে তদন্ত চলছে। তদন্ত চলতে থাকুক। কিন্তু যে দলের শাসনামলে বিস্ফোরক একটা রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল, সেই দল ক্ষমতায় থাকতে থাকতে মরিচ খেতে ককটেল পড়ে থাকে, আর একটা বাচ্চার হাত উড়ে যায়, এটাকে কাকতালীয় বলার কোনো সুযোগই নেই।

