দালাল, দুর্নীতি আর দমন- এক চুক্তিতেই তিন কাজ সারছে বিএনপি

এনটিএমসির জন্য ৯৫ কোটি টাকার কনটেন্ট ব্লকিং প্রকল্প অনুমোদনের খবরটাকে আর পাঁচটা গড়পড়তার খবর মনে করে দেখলে ভুল হবে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এটা ২০০১-০৬ সালের সেই নীলনকশারই ডিজিটাল সংস্করণ, যখন বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থেকে দেশকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল আর জঙ্গি নেটওয়ার্ক নির্বিঘ্নে রাজপথে বোমা ফাটাতো। তখন ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করতে তারা ব্যবহার করত লাঠি, ক্যাডার আর সশস্ত্র ইসলামিক জঙ্গি সন্ত্রাসীদের। এখন অস্ত্র বদলেছে, কায়দা বদলায়নি। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন অবৈধ এই সরকারের ইস্যুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার, ঠিক তখনই ইন্টারনেটের গলা টিপে ধরার এই আয়োজন কাকতালীয় নয়।

মজার ব্যাপার হলো, যারা আজ ‘সরকারবিরোধী প্রচারণা’ ব্লক করার অজুহাত দিচ্ছে, তারাই তো সাইবার জগতে অপপ্রচারের কারিগর। জামাত-শিবিরের আইটি সেল, বিএনপির ট্রল বাহিনী, তারেক রহমানের রিমোট কন্ট্রোল্ড মিডিয়া টিম – এরা প্রতিদিন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে বিষ ছড়ায়। অথচ নব্বই কোটি টাকা খরচ হবে ‘সরকারবিরোধী’ কনটেন্ট ঠেকাতে। প্রশ্ন একটাই : বিরোধী দলের অপপ্রচার ঠেকানোর নামে আদতে কি দেশের মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেই বন্ধ করা হচ্ছে না?

আর এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি। নাম শুনে মাল্টিন্যাশনাল মনে হলেও আসলে এটা বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ডের পাইকারি সরবরাহকারী। অথচ দেশীয় সফটওয়্যার ও টেলিকম খাত না খেয়ে মরছে। কোভিডকালীন যে দেশীয় কোম্পানি আইইডিসিআর আর পুলিশের জন্য কনটেন্ট মনিটরিং সিস্টেম বানিয়ে দেখিয়েছে, তাদের কাছে কাজ না দিয়ে বিদেশি দালালের মাধ্যমে পুরো প্রকল্প সাজানো হচ্ছে। এটা দুর্নীতির পুরনো ফর্মুলা – বিদেশি দালাল, দেশি পার্টনার, আর বিল বাবদ বিপুল অংকের কমিশন। ২০০১-০৬ সালে ঠিক এভাবেই বিদেশি দালাল কোম্পানি দিয়ে দুর্নীতি বৈধতা পেত, এখনো সেই ধারাই চলছে।

জিয়াউর রহমান যে সেনানিবাসকেন্দ্রিক রাজনীতির জন্ম দিয়েছিলেন, সেই বিএনপি আর যুদ্ধাপরাধী গডফাদার গোলাম আযমের দল জামাত – এরা কখনো চায়নি যে বাংলাদেশের মানুষ তথ্যের অধিকার পাক, ভাবতে শিখুক, প্রশ্ন করুক। এদের কাছে জনগণ ভোটের এঁড়ে গরু, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আরেকটা ফাইল নম্বর মাত্র। তাই যখন দেখছে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় মুখর সোশ্যাল মিডিয়া, তখনই বের হবে ‘কনটেন্ট ব্লকিং ফেজ-১’ এর মতো প্রকল্প। এদের কাছে জনগণের মুখ বন্ধ করাই সুশাসনের প্রথম শর্ত।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা কী জানেন? এই ৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পের স্পেসিফিকেশন, কি কি হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার কেনা হবে, কীভাবে জনগণের ডেটা অ্যানালাইসিস হবে – এসবের কোনো বিস্তারিত পাবলিক হয়নি। ক্রয় কমিটির সভায় শুধু টাকার অংক আর কোম্পানির নাম উল্লেখ করে সায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের গত অক্টোবরের রিপোর্ট বলছে, গোপন ক্রয় চুক্তিই বড় দুর্নীতির রুট। এখন সেই রুটেই হাঁটছে ডিজিটাল সেন্সরশিপের এই আয়োজন, যেখানে দুর্নীতির ইনসেনটিভ আর জনগণের স্বাধীনতা খর্ব করার ইচ্ছা দুই-ই একসাথে চরিতার্থ হচ্ছে।

একটা সরকার যদি জনগণের আস্থায় না থেকে কেবল সার্ভেইল্যান্স আর দমনপীড়নের যন্ত্র কিনে শাসন টিকিয়ে রাখতে চায়, তার পরিণতি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের মতোই হয়। জনগণ তখন রাস্তায় নেমেছিল, ফের নামবে।

এনটিএমসির জন্য ৯৫ কোটি টাকার কনটেন্ট ব্লকিং প্রকল্প অনুমোদনের খবরটাকে আর পাঁচটা গড়পড়তার খবর মনে করে দেখলে ভুল হবে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এটা ২০০১-০৬ সালের সেই নীলনকশারই ডিজিটাল সংস্করণ, যখন বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থেকে দেশকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল আর জঙ্গি নেটওয়ার্ক নির্বিঘ্নে রাজপথে বোমা ফাটাতো। তখন ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করতে তারা ব্যবহার করত লাঠি, ক্যাডার আর সশস্ত্র ইসলামিক জঙ্গি সন্ত্রাসীদের। এখন অস্ত্র বদলেছে, কায়দা বদলায়নি। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন অবৈধ এই সরকারের ইস্যুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার, ঠিক তখনই ইন্টারনেটের গলা টিপে ধরার এই আয়োজন কাকতালীয় নয়।

মজার ব্যাপার হলো, যারা আজ ‘সরকারবিরোধী প্রচারণা’ ব্লক করার অজুহাত দিচ্ছে, তারাই তো সাইবার জগতে অপপ্রচারের কারিগর। জামাত-শিবিরের আইটি সেল, বিএনপির ট্রল বাহিনী, তারেক রহমানের রিমোট কন্ট্রোল্ড মিডিয়া টিম – এরা প্রতিদিন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে বিষ ছড়ায়। অথচ নব্বই কোটি টাকা খরচ হবে ‘সরকারবিরোধী’ কনটেন্ট ঠেকাতে। প্রশ্ন একটাই : বিরোধী দলের অপপ্রচার ঠেকানোর নামে আদতে কি দেশের মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেই বন্ধ করা হচ্ছে না?

আর এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি। নাম শুনে মাল্টিন্যাশনাল মনে হলেও আসলে এটা বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ডের পাইকারি সরবরাহকারী। অথচ দেশীয় সফটওয়্যার ও টেলিকম খাত না খেয়ে মরছে। কোভিডকালীন যে দেশীয় কোম্পানি আইইডিসিআর আর পুলিশের জন্য কনটেন্ট মনিটরিং সিস্টেম বানিয়ে দেখিয়েছে, তাদের কাছে কাজ না দিয়ে বিদেশি দালালের মাধ্যমে পুরো প্রকল্প সাজানো হচ্ছে। এটা দুর্নীতির পুরনো ফর্মুলা – বিদেশি দালাল, দেশি পার্টনার, আর বিল বাবদ বিপুল অংকের কমিশন। ২০০১-০৬ সালে ঠিক এভাবেই বিদেশি দালাল কোম্পানি দিয়ে দুর্নীতি বৈধতা পেত, এখনো সেই ধারাই চলছে।

জিয়াউর রহমান যে সেনানিবাসকেন্দ্রিক রাজনীতির জন্ম দিয়েছিলেন, সেই বিএনপি আর যুদ্ধাপরাধী গডফাদার গোলাম আযমের দল জামাত – এরা কখনো চায়নি যে বাংলাদেশের মানুষ তথ্যের অধিকার পাক, ভাবতে শিখুক, প্রশ্ন করুক। এদের কাছে জনগণ ভোটের এঁড়ে গরু, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আরেকটা ফাইল নম্বর মাত্র। তাই যখন দেখছে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় মুখর সোশ্যাল মিডিয়া, তখনই বের হবে ‘কনটেন্ট ব্লকিং ফেজ-১’ এর মতো প্রকল্প। এদের কাছে জনগণের মুখ বন্ধ করাই সুশাসনের প্রথম শর্ত।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা কী জানেন? এই ৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পের স্পেসিফিকেশন, কি কি হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার কেনা হবে, কীভাবে জনগণের ডেটা অ্যানালাইসিস হবে – এসবের কোনো বিস্তারিত পাবলিক হয়নি। ক্রয় কমিটির সভায় শুধু টাকার অংক আর কোম্পানির নাম উল্লেখ করে সায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের গত অক্টোবরের রিপোর্ট বলছে, গোপন ক্রয় চুক্তিই বড় দুর্নীতির রুট। এখন সেই রুটেই হাঁটছে ডিজিটাল সেন্সরশিপের এই আয়োজন, যেখানে দুর্নীতির ইনসেনটিভ আর জনগণের স্বাধীনতা খর্ব করার ইচ্ছা দুই-ই একসাথে চরিতার্থ হচ্ছে।

একটা সরকার যদি জনগণের আস্থায় না থেকে কেবল সার্ভেইল্যান্স আর দমনপীড়নের যন্ত্র কিনে শাসন টিকিয়ে রাখতে চায়, তার পরিণতি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের মতোই হয়। জনগণ তখন রাস্তায় নেমেছিল, ফের নামবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ